ধান চাষ করে সেভাবে লাভের মুখ না দেখতে পেয়ে আমাদের রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতো দক্ষিণ ২৪ পরগনার কৃষকরাও বেশ দুঃসময় পার করছেন। তবে এই বোরো মরশুম তথা গ্রীষ্মকালে শীতকালীন ফসল হিসেবে পরিচিত ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে অনেক কৃষকই হচ্ছেন লাভবান। আবহাওয়া পরিবর্তন থাকায় শীতকালীন ফসল গ্রীষ্মকালে চাষ দিন দিন বাড়ছে। প্রাথমিকভাবে শীতকালে গ্রীষ্মকালে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ হলেও আগামীতে অন্যান্য জেলার দেখানো পথে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে অসময়ে এই ধরনের চাষ ছড়িয়ে যাবে বলে আশা স্থানীয় কৃষকদের।
advertisement
আরও পড়ুন: ৩৫ লক্ষ টাকার মাস্টারপ্ল্যান! পর্যটন মানচিত্রে এবার নয়া ঠিকানা মেদিনীপুরে, উঠেপড়ে নামল প্রশাসন
দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার জয়নগর, দক্ষিণ বারাসাত, বহুরু এই সমস্ত জমিতে দেখা গেল সবুজ আর সবুজ। সবুজ হওয়ার কারণ ধান নয়, ওই জমিতে চাষ করা হয়েছে ফুলকপি বাঁধাকপি ও ওলকপি চাষের। আমাদের বিভিন্ন রাজ্যে শীতকালীন প্রধান সবজির মধ্যে অন্যতম ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আর এই গ্রামের অনেক চাষিরা অসময়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ওলকপি চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যখন ধান চাষ করে কৃষকরা সেইভাবে লাভবান হচ্ছে না। সেই সময় জয়নগরের কিছু কিছু কৃষক ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। গ্রীষ্মকালে বাজারে ফুলকপি ও বাঁধাকপি পাওয়া যায় অনেক বেশি দামে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এ প্রসঙ্গে নিমপীঠ কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের এক কৃষিবিজ্ঞানী জানান, অসময় ফুলকপি একটি লাভজনক ব্যবসা কৃষকদের ক্ষেত্রে। তাহলে কীভাবে করবেন তা জেনে নিন। মনে রাখতে হবে যখনই আমরা এই ফুলকপি, ওলকপি চারা রোপণ করব তার ঠিক ২০-২৫ দিন আগে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। মূলত কয়েকদিন পরেই গ্রীষ্মকাল শুরু হবে, সেক্ষেত্রে জমি যেন উঁচু হয় এবং জল সেচের সুব্যবস্থা থাকে। মাথায় রাখতে হবে, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ কুইন্টাল মতো জৈব সার, তার সঙ্গে এক কুইন্টাল মতো খোল জাতীয় সার ব্যবহার করতে হবে। তবে একটা সমস্যা অনুঘটিত কোনও সমস্যা হলে রোপণের পর ১৫ দিন বা ৩০ দিন অন্তর অন্তর চলতি বাজারে বোরল বা জিন মাইক্রো নিউটনগুলি আছে সেগুলি ব্যবহার করতে হবে। অসময়ে ফুলকপি, বাঁধাকপি বা ওলকপি চাষ করতে পারলে সেই সবজি যদি দু’মাসের মধ্যে বাজারজাত করে তোলা যায় তাহলে চাষিরা কিন্তু অনেকটাই লাভজনক হতে পারবেন।





