ইক্যুইটি বাজার কেন চাপে?
বর্তমানে অনেক বাজারেই, বিশেষ করে প্রযুক্তি ও এআই সংক্রান্ত শেয়ারগুলিতে মূল্যায়ন অনেকটাই চড়া। পাশাপাশি কর্পোরেট আয়ের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং বিভিন্ন দেশে ঋণের বোঝা বাড়ছে। ভারতীয় বাজারও এর বাইরে নয়—অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং সুদের হারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে ধোঁয়াশা ইক্যুইটির উপর চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
advertisement
সোনা কেন আবার আকর্ষণীয়?
ইতিহাস বলছে, অনিশ্চয়তার সময়ে সোনা বরাবরই ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে বাস্তব সুদের হার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সাধারণত সোনার জন্য ইতিবাচক। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সোনার দামের পক্ষে সহায়ক। মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে সোনার উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা তাই এখনও অটুট।
আরও পড়ুন: খুচরো করা এখন আর কোনও ঝক্কির কাজ নয়: ATM-গুলো এখন বড় নোট বদলে দেবে
রুপোর বাড়তি সুবিধা কোথায়?
সোনার পাশাপাশি রুপোও এখন বিনিয়োগকারীদের নজরে। রুপোর বিশেষত্ব হল, এটি শুধু মূল্যবান ধাতুই নয়, শিল্পক্ষেত্রেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে রুপোর চাহিদা বাড়ছে। ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও রুপোতে দ্বিমুখী সুযোগ তৈরি হচ্ছে—একদিকে নিরাপদ সম্পদ, অন্যদিকে শিল্পগত চাহিদার জোর।
তাহলে কি ইক্যুইটি ছেড়ে পুরোপুরি সোনা-রুপোয় চলে যাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণভাবে ইক্যুইটি থেকে টাকা তুলে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ইক্যুইটি এখনও সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তবে পোর্টফোলিওতে ভারসাম্য আনা জরুরি। এই সময়ে ইক্যুইটির পাশাপাশি সোনা ও রুপো যোগ করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
আরও পড়ুন: ২০,০০০ টাকার SIP তিন মাসও মিস করলে ২ কোটি টাকার ক্ষতি, এই বিনিয়োগের ফর্মুলা বুঝুন
বিনিয়োগের সঠিক কৌশল কী?
সবচেয়ে ভাল উপায় হল ডাইভার্সিফিকেশন। অর্থাৎ, সব টাকা এক জায়গায় না রেখে ইক্যুইটি, সোনা ও রুপোর মধ্যে ভাগ করে বিনিয়োগ করা। সরাসরি সোনা-রুপো কেনার পাশাপাশি গোল্ড ETF, সিলভার ETF বা ডিজিটাল গোল্ডের মতো বিকল্পও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে তরলতা বজায় থাকে এবং ঝামেলাও কম।
