এখনও পর্যন্ত বিমানবন্দরে গয়নার দাম নিয়ে বিতর্ক প্রায়শই দেখা দেয়। গয়না কোন দামে মূল্যায়ন করা উচিত, বিলটি বৈধ হবে কিনা এবং মূল্য সীমার মধ্যে ছিল না বাইরে – এইগুলিই ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা যা ভ্রমণকারীদের মুখোমুখি হয়েছিল। সরকার বিশ্বাস করে যে নতুন ব্যবস্থা এই জটিলতাগুলি মূলত দূর করবে।
আরও পড়ুন: আগামী দিনে কোথায় গিয়ে ঠেকবে সোনার দাম ? বিনিয়োগকারীদের কী করা উচিত?
advertisement
নতুন নিয়ম অনুসারে, যদি কোনও ভ্রমণকারী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদেশে থাকেন এবং ভারতে ফিরে আসেন, তবে তাঁরা ওজনের উপর ভিত্তি করে সোনার গয়নার উপর শুল্কমুক্ত ছাড় পাবেন।
মহিলা ভ্রমণকারীরা সর্বোচ্চ ৪০ গ্রাম গয়না শুল্কমুক্ত আনতে পারবেন। অন্যান্য ভ্রমণকারীদের জন্য, এই সীমা ২০ গ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অর্থ হল গয়নার দাম আর গুরুত্বপূর্ণ হবে না। যদি ওজন নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে, তাহলে শুল্ক আরোপ করা হবে না।
দুবাই থেকে ফিরে আসা অনেক ভ্রমণকারী এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষভাবে স্বস্তি পাবেন, কারণ সেখান থেকে আনা গয়নাগুলি প্রায়শই নকশা এবং দাম উভয় দিক থেকেই বেশি ব্যয়বহুল হয়। পূর্বে, এই ধরনের ক্ষেত্রে শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। এখন, ওজন-ভিত্তিক নিয়মটি এই সমস্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।
আরও পড়ুন: ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে চাইছেন ? কোথায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে? বিনিয়োগের আগে জেনে নিন
সরকার স্পষ্ট করেছে যে এই সুবিধাটি কেবলমাত্র সেই ভ্রমণকারীদের জন্য যাঁরা কমপক্ষে এক বছর বিদেশে কাটিয়েছেন। এর অর্থ হল এই নিয়মটি স্বল্প ভ্রমণ থেকে ফিরে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে না। এই নিয়মটি বিশেষভাবে এনআরআই, বিদেশি পেশাদার এবং দীর্ঘ সময় থাকার পরে ভারতে ফিরে আসা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভ্রমণকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।
সরকার আরও স্পষ্ট করেছে যে এই ছাড়টি কেবল ব্যক্তিগত গয়নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যদি সোনা বা রুপোর গয়না ছাড়া অন্য কোনও আকারে আনা হয়, যেমন সোনার বার, সোনার মুদ্রা, রুপোর বার বা সোনার বুলেট, তবে এটি শুল্কমুক্ত ভাতার অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই ক্ষেত্রে, আমদানি নীতি এবং বাধ্যতামূলক ঘোষণার নিয়মগুলি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে। এর অর্থ হল, দুবাই থেকে সোনার বার বা মুদ্রা আনয়নকারী যাত্রীদের এখনও আগের মতোই কাস্টমসে ঘোষণা করতে হবে।
যদি কোনও যাত্রী নির্ধারিত ওজনের বেশি গয়না আনেন, তাহলে অতিরিক্ত গয়না শুল্কের আওতায় আসবে এবং সঠিকভাবে ঘোষণা করতে হবে। ঘোষণা না করে গয়না আনলে ব্যবস্থা এবং জরিমানার ঝুঁকি থাকবে।
সরকার জানিয়েছে যে ওজন-ভিত্তিক ব্যবস্থা কেবল ভ্রমণকারীদের জন্যই সুবিধাজনক নয় বরং শুল্ক কর্মকর্তাদের জন্যও আরও সুবিধাজনক। গয়নার মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত সময়, বিরোধ এবং বিভিন্ন মূল্যায়ন এখন মূলত দূর হবে।
নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন যে বিগত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং বিদেশি কেনাকাটার ধরনব উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। দুবাই, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপের মতো বাজার থেকে গয়না কেনা সাধারণ হয়ে উঠেছে। পুরনো নিয়মগুলি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তাই, সরকার গয়নার মূল্যসীমা সরিয়ে দিয়েছে এবং একটি স্পষ্ট, সহজ এবং স্বচ্ছ ওজন-ভিত্তিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে।
ভারতে পৌঁছানোর আগে ভ্রমণকারীদের অবশ্যই পরীক্ষা করতে হবে যে তাদের গয়না নির্ধারিত ওজন সীমার মধ্যে আছে কি না। যদি ওজন সীমা অতিক্রম করে, তাহলে একটি সঠিক ঘোষণাপত্র প্রয়োজন হবে। তাছাড়া, গয়না ছাড়া অন্য কোনও ধরনের সোনা বা রুপো শুল্কমুক্ত আমদানি করার ভুল এড়িয়ে চলতে হবে।
এই নিয়ম দুবাই এবং অন্যান্য বিদেশি জায়গা থেকে সোনার গয়না আনার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হবে গয়নার ওজন, মূল্য নয়। এই নতুন নিয়ম ভ্রমণকারীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য স্বস্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
