আজ সেই স্বপ্নই বাস্তব রূপ পেয়েছে। বর্তমানে তাঁর তৈরি এডুটেক কোম্পানিতে কাজ করছেন ৪০ জনেরও বেশি। ৪০০ টাকা রোজগারের সাধারণ গৃহ শিক্ষকতা দিয়ে শুরু হলেও আজ মাসিক আয় তিন লক্ষ টাকার বেশি। তবে তার এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না।
advertisement
নান্টু কুমার দাসের বেড়ে ওঠা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি-৩ ব্লকের জামুয়া শংকরপুর গ্রামে। বাবা পেশায় চাল ব্যবসায়ী। পরিবারের মেজো সন্তান নান্টু। আর্থিক অভাব ছিল। কিন্তু তা কোনও দিন বুঝতে দেননি বাবা। ছেলেকে পড়াশোনার ক্ষেত্রে সব রকমভাবে সাহস জুগিয়েছেন।
কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজ থেকে কেমিস্ট্রি নিয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন নান্টু। এরপর সুযোগ পান আইআইটি গুয়াহাটিতে। সেখানে কেমিস্ট্রি নিয়ে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেন ২০২২ সালে। আইআইটি থেকে পাশ করার পর বন্ধুরা চাকরির পথে হাঁটেন। কিন্তু নান্টু নিজের স্বপ্নে ছিলেন অটল।
আইআইটি শেষ করার পর শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। মাত্র দু’জন ছাত্র নিয়ে টিউশন পড়ানো শুরু করেন তিনি। মাসিক আয় ছিল মাত্র ৪০০ টাকা। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর ইউটিউব জার্নি। ছোট্ট একটি ভাড়া করা ঘরে বসে লাইভ ক্লাস নিতেন তিনি। বিষয়কে প্র্যাকটিক্যালি বোঝানোর দক্ষতা খুব দ্রুত ছাত্রছাত্রীদের নজর কাড়ে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার। আজ তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে লাখ লাখ সাবস্ক্রাইবার। পড়ুয়াদের কাছে তিনি পরিচিত ‘এনকেডি স্যার’ নামে।
ইউটিউবের সাফল্যকে পুঁজি করেই তিনি গড়ে তোলেন নিজের এডুটেক কোম্পানি। নিজের বিষয়কে ভালবেসে নাম দেয় ‘বং মিস্ট্রি’। তৈরি হয় নিজস্ব অ্যাপ। শুরু হয় অফলাইন কোচিং সেন্টারও। বর্তমানে তাঁর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পড়াশোনা করছে পাঁচ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া। অফলাইনে রয়েছে দেড়শোর বেশি ছাত্রছাত্রী।
শুরুতে শুধুমাত্র কেমিস্ট্রি পড়ানো হলেও এখন প্রায় সব বিষয়েই পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁর সংস্থায় বর্তমানে কর্মরত ৪০ জনেরও বেশি। ৪০০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা আজ পৌঁছেছে মাসিক তিন লক্ষ টাকার বেশি আয়ে। নান্টু কুমার দাস আজ সত্যিই বহু তরুণের অনুপ্রেরণা। প্রত্যন্ত গ্রামের মধ্যেও তৈরি করেছে নিজের এডুটেক কোম্পানি।





