এই তথ্য সামনে আসার পরই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে যে কী কী কারণে এবং কেন আধার কার্ড বাতিল হতে পারে? দেখে নিন, আধার কার্ড কি আচমকা বাতিল অথবা ডিঅ্যাক্টিভেটেড হয়ে যেতে পারে?
আধার কার্ড বাতিলের অন্যতম কারণ হতে পারে ডুপ্লিকেট আধার থাকলে৷ অর্থাৎ একই আধার নম্বর যদি একাধিক ব্যক্তির নামে থাকে, সেক্ষেত্রে এরকম হতে পারে৷
advertisement
কোনও ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেই তথ্য যদি ইউআইডিএআই-এর কাছে পরিবারের মাধ্যমে অথবা সরকারি তথ্যের মাধ্যমে পৌঁছয় তাহলেও আধার বাতিল করে দেওয়া হয়৷ বর্তমানে পুরসভা গুলি ডেথ রেজিস্ট্রারের তথ্য সরাসরি ইউআইডিএআই-এর কাছে চলে যায়৷
বায়োমেট্রিক মিসম্যাচ- ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা চোখের মণির বারংবার মিসম্যাচের কারণেও আধার বাতিল হতে পারে৷
ভুল অথবা ভুয়ো তথ্যের কারণে- ভুল নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা অথবা ভুয়ো নথি নথিভুক্ত করলেও আধার বাতিল হতে পারে৷
আইনি অথবা তদন্ত চলাকালীন নির্দেশের কারণে- কোনও তদন্ত চলাকালীন আদালত, তদন্তকারী সংস্থা অথবা সরকারি কোনও কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাময়িক ভাবে আধার বাতিল হতে পারে৷
দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে কি আধার ডিঅ্যাক্টিভেট হতে পারে?
দীর্ঘদিন ব্যবহার না হলে আধার ডিঅ্যাক্টিভেট হতেই পারে৷ তবে এরকম হতে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রেই৷ যেমন আধারের পুরনো রেকর্ড আপডেট না করলে অথবা বাচ্চাদের জন্য করা আধারের তথ্য আপডেট না করা হলে৷
তবে শুধুমাত্র ব্যবহার না করার কারণে সাধারণত আধার ডিঅ্যাক্টিভেট হয় না৷
আধার অ্যাক্টিভ আছে কি না কীভাবে জানবেন?
UIDAI ওয়েবসাইটে গিয়ে Aadhaar Status অথবা Authentication History-তে গিয়ে আধার সক্রিয় আছে কি না, তা দেখে নিতে পারেন৷
বাড়িতে বসেই মৃত ব্যক্তির আধার ডিঅ্যাক্টিভেট করার প্রক্রিয়া-
পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে MyAadhaar Portal-এ গিয়ে আধার ডিঅ্যাক্টিভেট করা যায়৷
প্রথমে https://myaadhaar.uidai.gov.in সাইটে যেতে হবে৷
আধার নম্বর এবং ওটিপি দিয়ে লগ ইন করতে হবে৷
এরপর ‘Report Death of a Family Member’ অপশন সিলেক্ট করতে হবে৷
এর পর পরিবারের মৃত সদস্যের নাম, আধার নম্বর, মৃত্যু তারিখ, ডেথ রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখ করতে হবে৷
ডেথ সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে৷
সেলফ ডিক্ল্যারেশন জমা দিতে হবে৷
ভেরিফিকেশনের পর ৯০ দিন বাদে ইউআইডিএআই মৃত ব্যক্তির আধার ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেয়৷
আধার নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমেই তার উপরে নজর রাখে ইউআইডিএআই৷
যেমন ব্যাঙ্কে ই-কেওয়াইসি, বায়োমেট্রিক অথবা ওটিপি অথেন্টিকেশন করলে সেই রেকর্ড ইউআইডিএআই-এর কাছে যায়৷
রেশন, পেনশন অথবা সরকারি কোনও ভর্তুকির সুবিধা নেওয়ার সময় আধার ব্যবহার করে পরিচয় যাচাইয়ের সময়৷
সিম কার্ড কিনলে৷
পিএফ, গ্যাসের কানেকশন অথবা ডিরেক্ট ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রেও আধার দিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয়৷
কতদিন একটানা ব্যবহার না হলে আধার ডিঅ্যাক্টিভেট হতে পারে?
ইউআইডিএআই এই ধরনের কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করেনি৷ তবে কোনও আধার নম্বর কখনও ব্যাঙ্ক, সিম কার্ড অথহবা ডিবিটি পরিষেবার সঙ্গে সংযুক্ত না হলে আধার ব্যবহার হয়নি বলে ধরে নেওয়া হয়৷
বাচ্চাদের বায়োমেট্রিক পরবর্তী সময়ে আপডেট না হলে৷
দীর্ঘসময় ধরে অথেন্টিকেশন রেকর্ড না থাকলে৷
আধার ইনঅ্যাক্টিভ দেখালে কী করতে হবে?
ইউআইডিএআই পোর্টালে গিয়ে ওটিপি-র মাধ্যমে আধার ভেরিফিকেশন করতে হবে৷
ব্যাঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট করতে হবে৷
আধারে নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর আপডেট করতে হবে৷
শিশুদের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ বছর এবং ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে আধার আপডেট করতে হবে৷
যদি ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের মণি এবং ছবি আপডেট করা না হয় তাহলে আধার অথেন্টিকেশনে অসুবিধা হতে পারে৷ ইউআইডিএআই-এর পরামর্শ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদেরও প্রতি দশ বছর অন্তর আধারের নথি আপডেট করা উচিত৷
আধারের কোন কোন ছোটখাটো বদল অনলাইনেই করা সম্ভব?
বাবা, স্বামী অথবা অভিভাবকের নাম৷
ঠিকানায় ছোটখাটো বদল৷
জন্ম তারিখে ছোটখাটো বদল৷
অনলাইনে এই আপডেট গুলি করার জন্য পাসপোর্ট, রেশন কার্ড, মার্কশিট অথবা জন্ম শংসাপত্র আপলোড করতে হবে৷
তবে কয়েকটি বদল করার জন্য আধার সেন্টারে যেতেই হবে৷ সেগুলি হল-
বায়োমেট্রিক আপডেট (ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিশ স্ক্যান অথবা ছবি বদল)৷
জন্ম তারিখের বড় কোনও বদল৷
ওটিপি না এলে মোবাইল অথবা ই মেল আপডেট করা৷
নাম অথবা সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও ভুল ঠিক করা৷
