এই তিন কালী প্রতিমাকে তিন বোন হিসাবে পুজো করা হয়ে থাকে। তিনটি প্রতিমার মধ্যে একটি বড়মা এবং অন্য দুটি ট্যাবা মা ও বিশ্বেশ্বরী মা। প্রতিবছর প্রায় একই উচ্চতার প্রতিমার এখানে পূজো হয়। লাভপুরের ইন্দাস গ্রামের দোনাইপুরের এই কালীপুজোর ইতিহাস বেশ ঐতিহ্যমণ্ডিত। কথিত আছে, যিনি এখানে পুজো করতেন তিনি চোখে দেখতে পেতেন না। যে কারণে সবাই তাকে কানাকর্তা বলে ডাকতেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল কালীপুজোর দিন কিন্তু তিনি সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পেতেন। এখানকার এই কালীপুজোয় কালী প্রতিমাগুলির বিসর্জন করার সময় বিজয়া দশমীর মত সিঁদুর খেলার আয়োজন থাকে।
advertisement
আরও পড়ুন : দুই প্রান্ত থেকে এসেছে জোড়া কালীপ্রতিমা, পুজো শুরু করেন সাধক বামাক্ষ্যাপার প্রধান শিষ্য
একসময় এই তিনটি কালীপুজো আলাদা আলাদা জায়গায় হয়ে থাকলেও আনুমানিক দেড়শ বছর আগে জমিদার আমল শেষ হওয়ার পর তিনটি পুজো একই মন্দিরে করার সিদ্ধান্ত নেন গ্রামের বাসিন্দারা। এই তিনটি কালী প্রতিমার মধ্যে বড় মায়ের পুজো গ্রামের বাসিন্দাদের তরফ থেকে চাঁদা দিয়ে করা হয় এবং বাকি দুই মায়ের পুজো করা হয় পারিবারিকভাবে।
আরও পড়ুন : স্বপ্নাদেশে তালপাতার ঘরে ছিন্নমস্তার প্রতিষ্ঠা, উগ্রমূর্তির পুজোয় হয় না বলিদান
মন্দিরের সেবায়েত অভিজিৎ চক্রবর্তী জানান, " লাভপুরের জমিদার ২২ ফুটের প্রতিমা অর্থাৎ বড়মা-এর পুজো করতেন এবং অন্য দুটি প্রতিমা অর্থাৎ ট্যাবা মা ও বিশ্বেশ্বরী মায়ের পৃথক ভাবে পুজো হত দুটি পরিবারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে।পরবর্তীকালে জমিদার প্রথার অবসান হলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তিনটি প্রতিমাকে একত্রিত করা হয় একটি মন্দিরে এবং তা প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারপর থেকেই প্রায় দেড়শো বছর ধরে একত্রিত ভাবে পূজিত হয়ে আসছেন তিনটি কালী প্রতিমা।"





