শীতলাষ্টমীর দিন মহিলারা উপবাস করেন। বাড়িতে উনুন জ্বালানো হয় না। সবাই বাসি খাবার খান। শাস্ত্র অনুযায়ী, শীতলাষ্টমী পালনের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা মহিলাদের অবশ্যই মেনে চলা উচিত।
দেবঘরের প্রসিদ্ধ জ্যোতিষী পণ্ডিত নন্দকিশোর মুদগল জানিয়েছেন, প্রতি বছর চৈত্র মাসে কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে শীতলাষ্টমী পালন করা হয়। এই বছর শীতলাষ্টমী পড়েছে ২২ মার্চ। এই দিন বাসি খাবার খাওয়ার বিধান রয়েছে। বাড়িতে নিরন্ধন পালন করা উচিত। উনুন জ্বালাতে নিষেধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি মহিলাদের ঠান্ডা জলে স্নান করার পরামর্শও দিয়েছেন।
advertisement
শাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিনে মা শীতলার পূজা করলে নানা ধরনের রোগ, যেমন জলবসন্ত, জ্বর, হাম ইত্যাদি ছড়ায় না। যদি এসব রোগ হয়ও, তবে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যায়। এছাড়াও, শীতলাষ্টমীর দিনে কিছু কাজ একেবারেই করা উচিত নয়, কারণ এতে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই দিনে গরম খাবার খেতে বারণ করা হয়। মা শীতলাকে গরম খাবারের ভোগও নিবেদন করা যায় না।
শীতলাষ্টমীর দিনে মহিলারা উপবাস করেন। পাশাপাশি, এই দিনে ধারালো বা সূচালো জিনিসের ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে, যেমন সেলাই, বুনন, সূচিকর্ম ইত্যাদি। এছাড়াও মা শীতলার সামনে ধূপ বা প্রদীপ জ্বালাতেও নিষেধ করেন পণ্ডিতরা। শীতলাষ্টমীর এক দিন আগে উপবাস রেখে মা শীতলার পূজা করা উচিত। একই সঙ্গে আগের দিনই খাবার রান্না করে নিতে হবে। খিদে পেলে বাসি খাবার খেতে হবে। মা শীতলাকে নিবেদন করা ভোগও বাসি খাবারেরই হওয়া উচিত।
আরও পড়ুন : ঠাকুরনগরে মতুয়া মেলা নিয়ে টানাপড়েন এখনও, ভক্তরা চাইছেন নির্বিঘ্নেই হোক বারুণী স্নান
বিশ্বাস করা হয়, শীতলাষ্টমীর উপবাস রাখলে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে এবং রোগব্যাধি দূরে থাকে। বিশেষত, মহিলারা এই দিন সন্তানের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের প্রার্থনা করেন। উপবাস ভঙ্গের পরের দিন ফলাহার বা হালকা খাবার খান।
শীতলাষ্টমী কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, এর পেছনে স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণও রয়েছে। গরমকালে বেশি মশলাদার ও গরম খাবার খাওয়ার পরিবর্তে হালকা ও ঠান্ডা খাবার গ্রহণ করলে হজম ভাল হয়। শরীর সুস্থ থাকে। তাই শীতলাষ্টমীর উৎসব ধর্মীয় ও স্বাস্থ্য, উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
