Published by Rukmini Mazumder 01-27-2026
নানা রকম ভিটামিন এবং খনিজে ভরপুর জিরে! জিরেতে থাকে ভিটামিন এ, ই, বি-সহ থায়ামিন, রাইবোফ্ল্যাভিন এবং নায়াসিনের মতো বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়ামের মতো যৌগ।
বাঙালি হেঁশেলের বড় আদরের মশলা এই জিরে গুঁড়ো! মাছের ঝোল-ঝাল থেকে নিরামিষ তরকারি, সবেতেই দেওয়া হয় জিরেগুঁড়ো! জিরে শুধু স্বাদই বাড়ায় না, জিরের রয়েছে বিপুল স্বাস্থ্য উপকারিতা! যে যে কারণে জিরে খাওয়া ভাল–
শ্বাসযন্ত্র ভাল রাখে– জিরের তেল শ্বাসযন্ত্রর জন্য উপকারী। জিরের তেলে থাকে থায়মল যা শ্বাসযন্ত্রে ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসঘটিত রোগের মোকাবিলা করে।
রক্তাল্পতা ও আয়রন: জিরে আয়রনের একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরকে শক্তি জোগাতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী– জিরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে বা বেড়ে গেলে ব্লাড সুগার বাড়ে বা কমে। জিরেতে রয়েছে ‘কিউমিনালডিহাইড’, যা ইনসুলিনের উদ্দীপক হিসাবে কাজ করে
ওজন কমায়– ওজন কমানো ও নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধহস্ত জিরে। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য সকালে খালিপেটে জিরে ভেজানো জল খান। পাশাপাশি রান্নায় জিরেগুঁড়ো দিলেও ওজন থাকে নিয়ন্ত্রণে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জিরে বিপাকহার বাড়িয়ে তুলে দেহের অতিরিক্ত চর্বি অক্সিডাইজেশন পদ্ধতির মাধ্যমে শক্তিতে পরিণত করে। ফলে ওজন কমে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: শরীর ডিটক্স বা পরিষ্কার করতে জিরে ভেজানো জল খুব উপকারী। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়
ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় রাখে– মেনোপজের সময়ে হরমোনের মাত্রায় হেরফের হয়।কিন্তু এই সময়ে মহিলাদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইস্ট্রোজেনের জোগান থাকা জরুরি। গবেষণা বলছে, জিরেতে ইস্ট্রোজেনের মতোই একটি যৌগ থাকে যার নাম ফাইটোইস্ট্রোজেন। এই ফাইটোইস্ট্রোজেন মেনোপজের সময়ে একাধিক শারীরিক জটিলতা রোধ করে।
হজমশক্তি উন্নত করে– হজমশক্তি বাড়াতে জিরের জুরি মেলা ভার। লাইপেজ, অ্যামাইলেজ এবং প্রোটিজের মত উৎসেচক চর্বি, কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিনজাতীয় খাবার ভাঙতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জিরে এই সব উৎসেচক উৎপাদনের হার বাড়িয়ে তোলে।
তবে, মাথায় রাখবেন, গাদাগাদা জিরেগুঁড়ো খাবেন। অতিরিক্ত না, পরিমিত পরিমাণে জিরেগুঁড়ো রান্নায় দিলে উপকার পাবেন। বেশি মশলাদার খাবার কোনও অবস্থাতেই শরীরের জন্য ভাল নয়।