Snake Bite: বিয়ে করতে যাওয়ার সময় বরের পায়ে সাপের ছোবল! লাভপুরে মারাত্মক কাণ্ড, শেষে কী হল জানেন?
- Reported by:Souvik Roy
- Published by:Raima Chakraborty
Last Updated:
Snake Bite: কথা ছিল বিয়ে করতে যাওয়ার, সোজা পৌঁছতে হল হাসপাতালে। বরের গাড়িতেই ঢুকেছিল সাপ? পায়ে কামড় বসাতেই মারাত্মক কাণ্ড লাভপুরে...
সাপের ছোবল পেরিয়ে লগ্নরক্ষা বীরভূমের লাভপুরের বিয়েতে। শুনতে একটু অবাক লাগলেও সিনেমার দৃশ্যকে হার মানানো বাস্তবে এমন এক ঘটনা ঘটেছে। বীরভূমের লাভপুরের দোনাইপুর গ্রামের হোটেল ব্যবসায়ী সুবীর সাহার বড় ছেলে, ২৪ বছরের সুব্রত সাহার বিয়ে ঠিক হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার মুরাতিপুরের বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ সাহার একমাত্র মেয়ে ঈশিতার সঙ্গে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা ছিল বিয়ের শুভ লগ্ন।ছবি ও তথ্য: সৌভিক রায়
advertisement
তবে জীবনের এক সুন্দরতম মুহূর্ত হঠাৎ আতঙ্কে পরিণত হয়েছিল। সন্ধ্যা নাগাদ বরযাত্রীর গাড়ি রওনা দেয় কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে। যাত্রাপথে নতুনহাট ব্রিজের কাছে কিছুক্ষণ গাড়ি দাঁড় করানো হয়। ব্রিজের ধারে একটি দোকানে দাঁড়িয়ে চা বিস্কুট খাওয়ার পর আবার যাত্রা শুরু। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যাওয়ার পর হঠাৎই বর সুব্রত বাঁ-পায়ে তীব্র জ্বালাভাব অনুভব করেন।ছবি ও তথ্য: সৌভিক রায়
advertisement
গাড়ির আলো জ্বালতেই দেখা যায় পায়ের পাতায় সাপের কামড়ের মতো দু’টি দাগ, সঙ্গে রক্তপাত! মুহূর্তে বিয়ের এই আনন্দযাত্রা পরিণত হয় আতঙ্কে। জীবন-মৃত্যুর লড়াই, আর এরই মাঝে লগ্নরক্ষার প্রার্থনা দ্রুত বরকে নিয়ে যাওয়া হয় মঙ্গলকোট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরীক্ষায় রক্তে বিষক্রিয়া ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বিশেষ চিকিৎসা।ছবি ও তথ্য: সৌভিক রায়
advertisement
খবর পৌঁছতেই বিয়েবাড়ির আনন্দ উৎসব থমকে যায়,বন্ধ হয়ে যায় গান বাজনা। কনের পরিবার ছুটে আসেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সবার একটাই প্রার্থনা ছেলেটি যেন সুস্থ হয়ে ওঠে আর লগ্ন যেন নষ্ট না হয়। টানা তিন ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর, চিকিৎসকেরা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বন্ডে সই করিয়ে সাময়িকভাবে বরকে ছাড়তে রাজি হন। লগ্নরক্ষার্থে ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয় বিয়ের মন্ডপে। দীর্ঘ টানবাহানের পর চার হাত এক হয়।ছবি ও তথ্য: সৌভিক রায়
advertisement
নিয়ম মেনে বিয়ে সম্পন্ন করেই আবার বরকে নিয়ে যাওয়া হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। পরে সেখান থেকে পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এরপর সুস্থ হয়ে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন সুব্রত। নির্ধারিত দিনে সম্পন্ন হয় বৌভাত। কনে ঈশিতা বলেন, “দুঃসংবাদটা শোনার পর ঠাকুরকে বলেছিলাম তুমি বেহুলার স্বামীর প্রাণ ফিরিয়েছ, আমাকেও লগ্নভ্রষ্টা হওয়ার থেকে রক্ষা করো।”ছবি ও তথ্য: সৌভিক রায়
advertisement
সুব্রত বলেন “আজও লগ্নভ্রষ্টা মেয়েদের সমাজ ভিন্ন চোখে দেখে। তাই ঝুঁকি নিয়েও বিয়েতে বসার সিদ্ধান্ত নিই।” নবদম্পতি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “ভগবানের আশীর্বাদ ও চিকিৎসকদের মানবিকতায় আজ আমরা একসঙ্গে। এমন রাত যেন আর কারও জীবনে না আসে।” এক কথায় এক ঐতিহাসিক বিয়ের সাক্ষী থাকল ছেলে এবং মেয়ের পরিবার।ছবি ও তথ্য: সৌভিক রায়







