Valentines Day: ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে রহস্য ঘেরা ‘প্রেমের সমাধি’-কে সম্মান, ইতিহাসে লুকিয়ে করুণ প্রেমের গল্প শুনলে চোখে জল আসবেই
- Reported by:Bonoarilal Chowdhury
- Published by:Pooja Basu
Last Updated:
East Bardhaman News: স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের গ্রামের মানুষজন এতে অংশ নেন। প্রেমের মাসে এই ‘প্রেমের সমাধি’কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সমাধির পেছনে লুকিয়ে আছে এক করুণ প্রেমকাহিনি।
পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ২ ব্লকের দেবশালা গ্রামের কাছে নাগরপোঁতা জঙ্গলের মাঝেই রয়েছে রহস্যঘেরা ‘প্রেমের সমাধি’। দেবশালা বাসস্ট্যান্ড থেকে অল্প দূরত্বে জঙ্গলে ঘেরা রাস্তার ধারে এই সমাধির অবস্থান। এই পথ দিয়েই পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়-সহ একাধিক গ্রামে যাতায়াত করেন বহু মানুষ। পথচারীদের অনেকেই সমাধির সামনে একবার দাঁড়িয়ে সম্মান জানান বা প্রণাম করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে একটি বিশেষ রীতি, সমাধির উপর গাছের ডাল বা পাতা, বিশেষত শালপাতা অর্পণ করা।তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী
advertisement
বর্তমানে এই সমাধিকে ঘিরে বেড়েছে আগ্রহ ও পরিচিতি। প্রতি বছর ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিনে এখানে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের গ্রামের মানুষজন এতে অংশ নেন। প্রেমের মাসে এই ‘প্রেমের সমাধি’কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সমাধির পেছনে লুকিয়ে আছে এক করুণ প্রেমকাহিনি।তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী
advertisement
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, আউশগ্রামের রাজগড় অঞ্চল, যা বর্তমানে ‘গড়ের ডাঙ্গা’ নামে পরিচিত, একসময় সামন্ত রাজাদের অধীনে ছিল। সেখানে ছিল রাজপ্রাসাদ, সৈন্য-সামন্ত ও রাজকীয় ব্যবস্থা। স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, প্রতিবেশী সোয়াই গ্রামের এক গোয়ালা যুবক নিয়মিত রাজবাড়িতে দুধ সরবরাহ করতেন। সেই সূত্রেই রাজার কন্যার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী
advertisement
পরবর্তীতে একদিন রাজকন্যা ওই যুবকের সঙ্গে রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। বিষয়টি রাজার কানে পৌঁছলে তিনি কঠোর নির্দেশ দেন যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে, সেখানেই হত্যা করা হবে। খোঁজাখুঁজির পর নাগরপোঁতা জঙ্গলে তাঁদের সন্ধান মেলে। লোককথা অনুযায়ী, সেখানেই দু’জনকে হত্যা করে সমাধিস্থ করা হয়। বিশিষ্ট সাহিত্যিক রাধামাধব মণ্ডলের বক্তব্য অনুযায়ী, এই করুণ প্রেমগাথাই আজও ওই সমাধিকে ঘিরে বেঁচে আছে।তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী
advertisement
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন আগে তাদের দেহ শালপাতা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল বলেই আজও সমাধিতে শালপাতা দেওয়ার রীতি প্রচলিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থানটি দর্শনীয় জায়গায় পরিণত হয়েছে এবং দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। এলাকাবাসীর দাবি, এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।তথ্য ও ছবি: বনোয়ারীলাল চৌধুরী







