Makar Sankranti 2026: মকর সংক্রান্তিতে ভক্তির জোয়ার! মেদিনীপুরে শুরু পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন তুলসী চারার মেলা, পুণ্যার্থীদের থিকথিকে ভিড়

Last Updated:
Makar Sankranti 2026: অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার সবচেয়ে প্রাচীন মেলাগুলির মধ্যে অন্যতম তুলসী চারার মেলা। প্রতিবছর দুই মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে এখানে ভিড় জমান।
1/6
উপলক্ষ তুলসী চারার মেলা। মকর সংক্রান্তিতে পটাশপুর ও সবংয়ের মধ্যবর্তী এলাকার চেহারা একেবারে বদলে গিয়েছে। সবং–পটাশপুর সীমান্তবর্তী কেলেঘাই নদীর বুকে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী এই মেলা আগামী সাতদিন ধরে চলবে। পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন এই মেলাকে ঘিরে অগণিত পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর ভিড় জমেছে। সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। (ছবি ও তথ্যঃ মদন মাইতি)
উপলক্ষ তুলসী চারার মেলা। মকর সংক্রান্তিতে পটাশপুর ও সবংয়ের মধ্যবর্তী এলাকার চেহারা একেবারে বদলে গিয়েছে। সবং–পটাশপুর সীমান্তবর্তী কেলেঘাই নদীর বুকে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী এই মেলা আগামী সাতদিন ধরে চলবে। পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন এই মেলাকে ঘিরে অগণিত পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর ভিড় জমেছে। সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। (ছবি ও তথ্যঃ মদন মাইতি)
advertisement
2/6
অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার সবচেয়ে প্রাচীন মেলাগুলির মধ্যে অন্যতম তুলসী চারার মেলা। পটাশপুরের গোকুলপুর গ্রামে কেলেঘাই নদীর বুকে অবস্থিত তুলসী মন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন হয়। এই মন্দির থেকেই মেলার নামকরণ তুলসী চারার মেলা। প্রতিবছর দুই মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে এখানে ভিড় জমান।
অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার সবচেয়ে প্রাচীন মেলাগুলির মধ্যে অন্যতম তুলসী চারার মেলা। পটাশপুরের গোকুলপুর গ্রামে কেলেঘাই নদীর বুকে অবস্থিত তুলসী মন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন হয়। এই মন্দির থেকেই মেলার নামকরণ তুলসী চারার মেলা। প্রতিবছর দুই মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এসে এখানে ভিড় জমান।
advertisement
3/6
মেদিনীপুরের আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক অরিন্দম ভৌমিক তাঁর ‘মেদিনীকথা’ গ্রন্থে এই মেলার ইতিহাস উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, গোকুলপুর গ্রামে বাকসিদ্ধ বৈষ্ণব শ্রী শ্রী গোকুলানন্দ গোস্বামী বৈষ্ণবচার্যের সমাধি মন্দির রয়েছে। গোকুলানন্দ গোস্বামী ছিলেন সবংয়ের কোলন্দা গ্রামের খ্যাতনামা জমিদার পরমানন্দ ভুঁইঞার ভাণ্ডারী। তিনি সংসারজীবনের পাশাপাশি সাধনা ও ভজনে অধিক সময় কাটাতেন। তাঁর জীবন আজও মানুষের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু।
মেদিনীপুরের আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক অরিন্দম ভৌমিক তাঁর ‘মেদিনীকথা’ গ্রন্থে এই মেলার ইতিহাস উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, গোকুলপুর গ্রামে বাকসিদ্ধ বৈষ্ণব শ্রী শ্রী গোকুলানন্দ গোস্বামী বৈষ্ণবচার্যের সমাধি মন্দির রয়েছে। গোকুলানন্দ গোস্বামী ছিলেন সবংয়ের কোলন্দা গ্রামের খ্যাতনামা জমিদার পরমানন্দ ভুঁইঞার ভাণ্ডারী। তিনি সংসারজীবনের পাশাপাশি সাধনা ও ভজনে অধিক সময় কাটাতেন। তাঁর জীবন আজও মানুষের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু।
advertisement
4/6
পরমানন্দ ভুঁইঞার পুত্র বিপ্রপ্রসাদ গোকুলানন্দ গোস্বামীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ইতিহাস অনুসারে, গোকুলানন্দ গোস্বামী পৌষ সংক্রান্তির রাতে প্রায় বারোটা নাগাদ কেলেঘাই নদীর মাঝখানে তাঁর যোগমঞ্চে সাধনা করতে করতে সমাধিপ্রাপ্ত হন। দেহরক্ষার আগে তিনি শিষ্য বিপ্রপ্রসাদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়ে যান। তিনি বলেন, পৌষ সংক্রান্তির দিন তুলসীমঞ্চে তিন মুঠো মাটি দিলে সকলের মনস্কামনা পূরণ হবে।
পরমানন্দ ভুঁইঞার পুত্র বিপ্রপ্রসাদ গোকুলানন্দ গোস্বামীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ইতিহাস অনুসারে, গোকুলানন্দ গোস্বামী পৌষ সংক্রান্তির রাতে প্রায় বারোটা নাগাদ কেলেঘাই নদীর মাঝখানে তাঁর যোগমঞ্চে সাধনা করতে করতে সমাধিপ্রাপ্ত হন। দেহরক্ষার আগে তিনি শিষ্য বিপ্রপ্রসাদকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়ে যান। তিনি বলেন, পৌষ সংক্রান্তির দিন তুলসীমঞ্চে তিন মুঠো মাটি দিলে সকলের মনস্কামনা পূরণ হবে।
advertisement
5/6
সেই সময় থেকেই পৌষ সংক্রান্তির ভোরে পুণ্যার্থীরা কেলেঘাই নদীতে স্নান করেন। এরপর গোকুলানন্দ গোস্বামীর তুলসী মঞ্চে নদী থেকে তিন মুঠো মাটি তুলে দান করেন। দুই মেদিনীপুর জেলার হাজার হাজার মানুষ এই প্রথা পালন করতে আসেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই নদীর পাড়ে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
সেই সময় থেকেই পৌষ সংক্রান্তির ভোরে পুণ্যার্থীরা কেলেঘাই নদীতে স্নান করেন। এরপর গোকুলানন্দ গোস্বামীর তুলসী মঞ্চে নদী থেকে তিন মুঠো মাটি তুলে দান করেন। দুই মেদিনীপুর জেলার হাজার হাজার মানুষ এই প্রথা পালন করতে আসেন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই নদীর পাড়ে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
advertisement
6/6
কেলেঘাই নদী সংস্কারের ফলে বর্তমানে মেলার আকার অনেকটাই বেড়েছে। এখন প্রায় ১৩-১৪ একর জায়গা জুড়ে মেলা বসে। অতীতে একদিনের মেলা হলেও এখন তা সাতদিন ধরে চলে। এই মেলার প্রধান আকর্ষণ তুলোর কেনাবেচা। বহু বছর ধরে তুলো ব্যবসায়ীরা এখানে পসরা সাজান। তুলনামূলক সস্তায় এখানে তুলো পাওয়া যায়। এছাড়া লোকসংগীত ও ভাবসংগীতে ব্যবহৃত নানা বাদ্যযন্ত্রও বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে, সময়ের সঙ্গে মেলার জৌলুস আরও বেড়েছে। (ছবি ও তথ্যঃ মদন মাইতি)
কেলেঘাই নদী সংস্কারের ফলে বর্তমানে মেলার আকার অনেকটাই বেড়েছে। এখন প্রায় ১৩-১৪ একর জায়গা জুড়ে মেলা বসে। অতীতে একদিনের মেলা হলেও এখন তা সাতদিন ধরে চলে। এই মেলার প্রধান আকর্ষণ তুলোর কেনাবেচা। বহু বছর ধরে তুলো ব্যবসায়ীরা এখানে পসরা সাজান। তুলনামূলক সস্তায় এখানে তুলো পাওয়া যায়। এছাড়া লোকসংগীত ও ভাবসংগীতে ব্যবহৃত নানা বাদ্যযন্ত্রও বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে, সময়ের সঙ্গে মেলার জৌলুস আরও বেড়েছে। (ছবি ও তথ্যঃ মদন মাইতি)
advertisement
advertisement
advertisement