শেষবারের মতো T20 বিশ্বকাপে দেখা যেতে পারে এই ৫ ক্রিকেটারকে!
- Published by:Soumendu Chakraborty
Last Updated:
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ২০ দলের টুর্নামেন্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি দল তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে, যদিও কিছু দলের ঘোষণা এখনও বাকি।
এই বিশ্বকাপে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সুন্দর সমন্বয় দেখা যাবে। তবে কিছু ক্রিকেটারের কাছে এই টুর্নামেন্টটি তাঁদের টি২০ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৫ জন খেলোয়াড়ের নাম, যাঁরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর এই ফরম্যাটকে বিদায় জানাতে পারেন।
আদিল রশিদ কার্যত টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েই নিয়েছেন। তিনি শেষবার ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন। তারপর থেকে তিনি শুধুমাত্র হোয়াইট-বল ক্রিকেটে (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) মনোযোগ দিয়েছেন। ইংল্যান্ড দলে রশিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—অনেক সময় তিনিই দলের একমাত্র প্রধান স্পিনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার সময় রশিদের বয়স হবে ৩৮ বছর। তিনি যদি ফিট থাকেন, তাহলে ইসিবি (ECB) ভবিষ্যতেও তাঁকে সুযোগ দিতে পারে। তবে ফিটনেস বা ফর্মে সমস্যা দেখা দিলে তাঁর জায়গায় কোনো তরুণ খেলোয়াড় দলে ঢুকে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের পর এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
advertisement
মার্কাস স্টইনিস ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ঠিক আগে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মতে, তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাতে পুরোপুরি টি-টোয়েন্টি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে পারেন। স্টইনিস একজন দুর্দান্ত অলরাউন্ডার, যিনি ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মিডল অর্ডারে দ্রুত রান করার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ৩৬ বছর বয়সি স্টইনিস এই ফরম্যাটকেও বিদায় জানাতে পারেন।
advertisement
কুশল পেরেরা শ্রীলঙ্কার হয়ে লিমিটেড ওভার্স ক্রিকেটে একজন নির্ভরযোগ্য বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত। কেরিয়ারের শুরুতে তিনি ভালো পারফরম্যান্স করেছিলেন এবং দলের টপ অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলকে দ্রুত শুরু এনে দিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ফর্ম ভালো নেই। ২০২৫ এশিয়া কাপের ফাইনালে ৩২ বলে ৫৮ রানের ইনিংসটি ছাড়া বাকি পাঁচ ম্যাচে তিনি ৩০ রানও করতে পারেননি। যদি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও একই রকম পারফরম্যান্স দেখা যায়, তাহলে তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে কুশল পেরেরা অবসর ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
advertisement
জনসন চার্লসের ওয়ানডে দলে ফেরা এখন বেশ কঠিন বলেই মনে হচ্ছে। তিনি শেষবার ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ারের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন। বর্তমানে নির্বাচকরাও তাঁর ওপর আর তেমন ভরসা দেখাচ্ছেন না, পাশাপাশি তাঁর ফর্মও ধারাবাহিকভাবে ভালো নয়। CPL ২০২৫-এ তিনি ১০টি ইনিংসে মাত্র ২১২ রান করতে পেরেছিলেন, যা যথেষ্ট হতাশাজনক। ৩৫ বছর বয়সি জনসন চার্লস যদি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিতও হন এবং সেখানে ভালো পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ হন, তাহলে টুর্নামেন্টের পর তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টানার সম্ভাবনা রয়েছে।
advertisement
টিম ইন্ডিয়ার তারকা পেসারও এই তালিকায় রয়েছেন। যশপ্রীত বুমরাহর নাম শুনে অনেকেই অবাক হতে পারেন। অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে—বুমরাহ তো এখনও মাত্র ৩২ বছরের, তাহলে তিনি কেন অবসর নেবেন? আসলে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণেই বুমরাহ এই ফরম্যাট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি ভারতের ওয়ানডে ও টেস্ট দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে, যদি ভারত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে নিজের চোট-আঘাতের ইতিহাস মাথায় রেখে বুমরাহ এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। উল্লেখ্য, রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন বুমরাহ।








