ঠিক যেন সিনেমার গল্প ! কেরলে ভিনধর্মের প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে কুম্ভমেলার সেই ভাইরাল সুন্দরী কন্যা মোনালিসা
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
Viral Kumbh Mela Woman Marries Muslim Boyfriend In Kerala: ‘কুম্ভমেলার ভাইরাল মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত মোনালিসা ভোঁসলেকে নিশ্চই মনে আছে ৷ ১১ মার্চ পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মোনালিসা বিয়ে করেন তাঁর প্রেমিক ফরমান খানকে । কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের কাছে পুভারের অরুণানুর শ্রী নৈনার দেব মন্দিরে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন মোনালিসা-ফারমান ।
গত বছর প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলার জনসমুদ্রে মালা বিক্রি করতে দেখা গিয়েছিল শ্যামলা রঙ এবং নীলচে-বাদামি চোখের অধিকারিণী এক কন্যেকে। তাঁর চোখের সৌন্দর্য এবং হাসির ঝলকে রীতিমতো ঝড় উঠে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অচিরেই বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁকে ঘিরে চর্চারও শেষ নেই। হামেশাই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তিনি। এবার নিজের মুসলিম প্রেমিককে বিয়ে করে আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এলেন কুম্ভমেলার সেই ভাইরাল তরুণী মোনালিসা ভোঁসলে। (Photo: Social Media)
advertisement
জানা গিয়েছে, বুধবার কেরলের পুভরের অরুমানুরের নৈনার মন্দিরে সম্পূর্ণ হিন্দু রীতিনীতি মেনেই প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন মহাকুম্ভের ভাইরাল মোনালিসা। যদিও এই বিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কারণ বিয়ের ঠিক আগের মুহূর্তে অর্থাৎ বুধবার সকালের দিকে সটান থানায় হাজির হয়েছিলেন মোনালিসা এবং তাঁর সঙ্গী। তখনই এই বিয়ের ব্যাপারটি প্রকাশ্য়ে আসে। আসলে থাম্পানুর থানায় গিয়ে নিজের বাবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। মোনালিসা জানান যে, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁর বাবা। (Photo: Social Media)
advertisement
প্রাপ্তবয়স্ক মোনালিসা: মোনালিসা এবং তাঁর সঙ্গী যখন থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র দলের সদস্যরাও। অভিযোগ, ভিন ধর্মের এই সম্পর্ক একেবারেই মানতে চায়নি মোনালিসার পরিবার। বরং মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিল তারা। মোনালিসা দাবি করেন যে, নিজের সঙ্গীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার চাপ আর হুমকি আসছিল তাঁর পরিবার থেকে। এখানেই শেষ নয়, মোনালিসাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে নিজেদের পছন্দ করা পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্যও পরিকল্পনা করেছিলেন মোনালিসার বাবা। তবে এই গোটা ঘটনায় মোনালিসার আত্ম-সঙ্কল্পের অধিকার রক্ষার পক্ষেই ছিল পুলিশ। (Photo: Social Media)
advertisement
এক পুলিশ অফিসার এই প্রসঙ্গে বলেন যে, মোনালিসা জোর দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে ফিরে যেতে চান না। আর এটাও পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর প্রেমিককেই বিয়ে করতে চান। যেহেতু মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক, তাই নিজের পছন্দমতো কাজ করতে পারেন তিনি। এদিকে পুলিশ মোনালিসার পাশে দাঁড়ানোয় একপ্রকার নিরাশ হয়েই নিজের বাড়ি ফিরে গিয়েছেন মোনালিসার বাবা। এদিকে পুলিশের সমর্থন পেয়ে ঝামেলা মিটিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মন্দিরের দিকে এগোন মোনালিসারা। (Photo: Social Media)
advertisement
মানুষের পাশে কেরল: আদতে মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের বাসিন্দা মোনালিসা ভোঁসলে। গত বছর কুম্ভমেলায় রুদ্রাক্ষ বিক্রি করতে এসেছিলেন তিনি। আর সেই সময় তাঁর ছবি আর ভিডিও-ই ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মূলত মুক্তোঝরানো হাসি আর সুন্দর চোখের জন্যই ফলোয়ার বাড়ে মোনালিসার। সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ভিড় করে থাকতেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও। আর এই সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই প্রেমিকের সঙ্গে আলাপ হয় মোনালিসার। বিগত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে সেই প্রেম আরও গভীর হয়। আর মোনালিসার প্রেম-পরিণতির ক্ষেত্রে বেশ বড় ভূমিকা পালন করল কেরল রাজ্য। (Photo: Social Media)
advertisement
আর এই সুরই শোনা গেল মোনালিসার কথাতেও। তাঁর কথায়, “এই কারণেই এখানে আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন আমি খুবই আনন্দিত। আসলে কেরল এমন একটি রাজ্য, যা ধর্ম এবং জাতির উর্ধ্বে গিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এখানে যে কেউ নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন। সেই কারণেই এখানে আমাদের আসা।” তিনি আরও জানান যে, এই রাজ্যে পাকাপাকি ভাবে থেকে যেতে ভালই লাগবে তাঁর। কারণ মালয়ালম সিনেমা থেকে ইতিমধ্যেই অভিনয়ের অফার পেয়েছেন তিনি। একই সুর ঝরে পড়ল মোনালিসার স্বামীর কথাতেও। কেরল রাজ্যের উদারতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনিও।
advertisement
advertisement
এদিকে শীঘ্রই কেরলে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ফলে মোনালিসার বিয়েতে হাজির হয়েছিলেন হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও। এঁদের মধ্যে অন্যতম হল সাধারণ শিক্ষা মন্ত্রী ভি সিভানকুট্টি, সিপিআই(এম) স্টেট সেক্রেটারি এমভি গোবিন্দান এবং রাজ্যসভার সাংসদ এএ রহিম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিভানকুট্টি এই বিয়ের প্রশংসা করেছেন এবং সেই সঙ্গে এ-ও জানিয়েছেন যে, এই বিয়ে কেরলের মূল্যবোধের প্রতীক হয়ে থাকবে।







