25 Hour days: গতি কমছে পৃথিবীর, ২৪ নয়, ২৫ ঘণ্টায় হবে এক দিন! কবে হতে পারে এমন ঘটনা, জানালেন বিজ্ঞানীরা
- Published by:Ratnadeep Ray
- news18 bangla
Last Updated:
ভাবুন তো, এমন একটা ভবিষ্যৎ যেখানে ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও দিনটা শেষ হচ্ছে না। যতই অদ্ভুত শোনাক, বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীতে ২৫ ঘণ্টার দিন শুধু কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং অনেক দূরের একটা সম্ভাবনা। এর কারণ পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
ভাবুন তো, এমন একটা ভবিষ্যৎ যেখানে ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও দিনটা শেষ হচ্ছে না। যতই অদ্ভুত শোনাক, বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীতে ২৫ ঘণ্টার দিন শুধু কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং অনেক দূরের একটা সম্ভাবনা। এর কারণ পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।আমরা যেটা ২৪ ঘণ্টার দিন বলে জানি, সেটা একেবারে নিখুঁত ঘূর্ণনের ওপর নির্ভর করে না। এটা শুধু সেই সময়টা বোঝায়, যতক্ষণে পৃথিবী ঘুরে সূর্য আবার আকাশে একই জায়গায় ফিরে আসে। আসলে, পৃথিবীর ঘূর্ণন একটু একটু করে বদলায়, আর দীর্ঘ সময়ের হিসাব বলছে, এটা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
advertisement
পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীরে ধীরে কমছেগবেষণা বলছে, পৃথিবীর ঘূর্ণন শতাব্দীতে মিলিসেকেন্ডে কমছে, মিনিট বা ঘণ্টায় নয়। তবে অনেক দীর্ঘ সময়ের মধ্যে, এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বড় প্রভাব ফেলে দূর ভবিষ্যতে, এর ফলে ২৫ ঘণ্টার দিন হতে পারে।চাঁদের মহাকর্ষীয় টানচাঁদের মহাকর্ষ বল পৃথিবীর ঘূর্ণন কমানোর আর দিন বড় করার সবচেয়ে বড় কারণ। চাঁদ পৃথিবীর সমুদ্রে জোয়ার-ভাটা তৈরি করে, যা ঘর্ষণের কারণে একটু পিছিয়ে থাকে। এই পিছিয়ে থাকা পৃথিবীর ঘূর্ণনে ব্রেকের মতো কাজ করে। ফলে, পৃথিবী ঘূর্ণনের শক্তি হারায়, আর চাঁদ প্রতি বছর প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার দূরে চলে যায়।
advertisement
আবহাওয়ার পরিবর্তন আর বরফ গলে যাওয়াআবহাওয়ার পরিবর্তনেরও ভূমিকা রয়েছে। NASA-এর গবেষণা বলছে, গ্রিনল্যান্ড আর আন্টার্কটিকার বরফ গলা, হিমবাহ ছোট হয়ে যাওয়া, আর অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার পৃথিবীর ভরকে নতুনভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সমুদ্রের জলস্তর বাড়ায়, পৃথিবীর ঘূর্ণন অক্ষ একটু সরে যায়, আর প্রতিদিনের দৈর্ঘ্যে মিলিসেকেন্ডের ভগ্নাংশ যোগ হয়। ২০০০ সাল থেকে, বিশ্ব উষ্ণায়ন এই প্রভাবগুলো আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।পৃথিবীর ভিতরের পরিবর্তনপৃথিবীর ভিতরটা একেবারে স্থির নয়। Mantle আর Core-এর নড়াচড়া পৃথিবীর ঘূর্ণনে একটু একটু করে প্রভাব ফেলে। যদিও এই প্রভাব খুব ছোট, তবুও দিনে ধীরে ধীরে বাড়তে সাহায্য করে।
advertisement
Solar Day বনাম Sidereal Dayবিজ্ঞানীরা Solar Day আর Sidereal Day-র মধ্যে পার্থক্য করেন। Solar Day মানে আমরা যেটা ২৪ ঘণ্টা জানি, সূর্য দিয়ে মাপা হয়। Sidereal Day-তে পৃথিবীর ঘূর্ণন দূরের তারা দিয়ে মাপা হয়।Sidereal Day, Solar Day-এর চেয়ে প্রায় ৪ মিনিট ছোট, আর দুটোতেই সময়ের সঙ্গে ছোট ছোট পরিবর্তন হয়।
advertisement
বিজ্ঞানীরা কী ভাবে পৃথিবীর ঘূর্ণন মাপেন?এই ছোট ছোট পরিবর্তন ধরতে বিজ্ঞানীরা উন্নত Geodesy প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে আছে দূরের Quasar থেকে রেডিও সিগন্যাল, Satellite Laser Ranging, Atomic Clock, আর ১২০ বছরের বেশি পর্যবেক্ষণের তথ্য। Machine-learning টুল দিয়ে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি, অক্ষের নড়াচড়া, আর দিনের দৈর্ঘ্য খুব নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।কবে পৃথিবীতে ২৫ ঘণ্টার দিন হবে?এই ধারণা যতই আকর্ষণীয় হোক, এটা কল্পনা করা যায় না কত দূরের ভবিষ্যতে। বর্তমান Earth-Moon সিস্টেমের বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টা থেকে ২৫ ঘণ্টা হতে প্রায় ২০ কোটি বছর লাগতে পারে।





