এক কৃষক ও তাঁর চার ছেলে; সাধারণ পিতার অসাধারণ কৃতিত্বের কাহিনি রূপকথার মতোই অনুপ্রেরণা জোগাবে অনেককে
- Published by:Siddhartha Sarkar
- local18
Last Updated:
এ যেন ঠিক রূপকথা, এক সাধারণ পিতার অসাধারণ কৃতিত্বের কাহিনী। বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা এই মানুষটি অনুপ্রেরণা যোগাতে পারেন অনেককে।
রিপোর্টার-অঙ্কিত কুমার সিং: এ যেন ঠিক রূপকথা, এক সাধারণ পিতার অসাধারণ কৃতিত্বের কাহিনী। বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা এই মানুষটি অনুপ্রেরণা যোগাতে পারেন অনেককে। উমেশ কুমার ওরফে ললিতেশ্বরকুমার রাই সিওয়ানের তিত্রা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর চার ছেলে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের এই চার সন্তান গোটা গ্রামের তো বটেই সারা দেশের নামই উজ্জ্বল করছেন। দুই ভাইয়ের একজন IAS, একজন IPS আধিকারিক।
advertisement
বাকি দুই ভাই চিকিৎসক। সন্তান জন্মের পর সকলেই প্রত্যাশা করেন ভবিষ্যতে তারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু সেই লক্ষ্যে বাবা-মায়ের আত্মত্যাগ অনেক সময়ই বড় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত ভারতের মতো দেশে একজন কৃষিজীবী মানুষের পক্ষে চার সন্তানকে এই ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারা মুখের কথা নয়। সেটাই করে দেখিয়ে দিয়েছেন উমেশ কুমার ওরফে ললিতেশ্বর রাই। তিনি পেশায় কৃষক, তবে সমাজসেবার করার মানসিকতা তাঁর মধ্যে রয়েছে বরাবরই। তাঁর বড় ছেলে কৌশলকিশোর রাই একজন চিকিৎসক।
advertisement
এখন তিনি সমাজকল্যাণ বিভাগের নির্দেশক পদে রয়েছেন। এর আগে তিনি স্বাস্থ্যদফতরের যুগ্ম সচিব ছিলেন। জামুই-সহ অনেক জেলাতে ডিএম হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি UPSC পরীক্ষায় ৪৯তম স্থান অর্জন করেছিলেন। কৌশলের প্রাথমিক শিক্ষা বেনারসের একটি বেসরকারি স্কুলে। সিএইচএস স্কুল থেকে দ্বাদশ উত্তীর্ণ হয়ে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং কেজিএমসি লখনউ থেকে এমডি করেন।
advertisement
ললিতেশ্বরের মেজো ছেলে নন্দকিশোর রাইও চিকিৎসক। তিনি পটনার এক হাসপাতালের প্রঘান। দাদার মতোই বেনারসের স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে এলাহাবাদের মতিলাল নেহেরু মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমএস করেন। তাঁর স্ত্রী মনীষা শর্মাও একজন চিকিৎসক, তিনি পটনায় কর্মরত। ২০১১ সালে তাঁদের আরও এক ভাই হরিকিশোর রাইও UPSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি IPS অফিসার হন। বর্তমানে তিনি বিএমপি ১৬-এর অধিনায়ক।
advertisement
হরিকিশোর আইআইটি কানপুর থেকে বি.টেক করেছেন। ললিতেশ্বরের কনিষ্ঠ পুত্র বিরজাকিশোর রাইও একজন চিকিৎসক। তিনি মহারাষ্ট্রের থানেতে কর্মরত। বিহারের দ্বারভাঙা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে মহারাষ্ট্রে চলে যান তিনি। ললিতেশ্বর প্রসাদ এখনও নিজের গ্রাম তিত্রায় থাকেন এবং চাষাবাদ করেন। ছেলেরা মাঝেমধ্যেই আসেন পিতৃপুরুষের ভিটেয়, যোগ দেন উৎসব অনুষ্ঠানে। গোটা জেলার মানুষের কাছে তাঁরা অনুপ্রেরণা।
