Darjeeling News: ৫৪ বছরের প্রেম, ৩৬'তম সফর! জাপানের প্রবীণ রেলপ্রেমীর টানে আজও ধোঁয়া ছাড়ে দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেন
- Reported by:Ricktik Bhattacharjee
- hyperlocal
- Published by:Aishwarya Purkait
Last Updated:
Darjeeling News: ইউনেস্কো স্বীকৃত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে ৩৬'তম বারের মতো পদার্পণ করলেন জাপানের টোকিও নিবাসী প্রবীণ রেলপ্রেমী সিইয়া সুগাওয়াররা। ১৯৭১ সালে প্রথমবার দার্জিলিংয়ে এসে টয়ট্রেনের প্রেমে পড়েছিলেন।
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)-এর সঙ্গে এক আবেগঘন ও দীর্ঘ সম্পর্কের আরও এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল পাহাড়। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি রেলপথে ৩৬'তম বারের মতো পদার্পণ করলেন জাপানের টোকিও নিবাসী প্রবীণ রেলপ্রেমী সিইয়া সুগাওয়াররা। মঙ্গলবার ডিএইচআর-এর সদর দফতর এলিসিয়া প্লেসে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়, যা রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক বিরল সম্মান। (ছবি ও তথ্য: ঋত্বিক ভট্টাচার্য)
advertisement
১৯৭১ সালে প্রথমবার দার্জিলিংয়ে এসে পাহাড়ের টয়ট্রেনের প্রেমে পড়েছিলেন সিইয়া সুগাওয়াররা। গত ৫৪ বছরে কখনও এক বছর, কখনও দু’বছরের ব্যবধানে বারবার দার্জিলিং ছুটে এসেছেন তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা। শীতের পাহাড়ি সৌন্দর্যের পাশাপাশি ধোঁয়া ওঠা কয়লাচালিত বাষ্প ইঞ্জিনই তাঁদের প্রধান আকর্ষণ। বর্তমানে ৮৪ বছর বয়সেও এই রেলপথের প্রতি তাঁর ভালোবাসা আন্তর্জাতিক স্তরে ডিএইচআর-এর অবদানকে আরও একবার প্রমাণ করল।
advertisement
এবারের সফরে সিইয়া সুগাওয়ারার সঙ্গে ছিলেন আরও ছয়জন জাপানি পর্যটক, সকলেই প্রবীণ ও ঐতিহ্যবাহী রেলপথের অনুরাগী। তবে তাঁদের ভ্রমণের ধরন বেশ অভিনব। তাঁরা এনজেপি স্টেশন থেকে চাটার্ড স্টিম ইঞ্জিন বুক করলেও ট্রেনে না চেপে নিজেদের গাড়িতে পাহাড়ি পথে চলেন। বিভিন্ন স্থানে থেমে ক্যামেরাবন্দি করেন আঁকাবাঁকা পথে ছুটে চলা টয়ট্রেন ও তার নস্টালজিক স্টিম ইঞ্জিনকে।
advertisement
ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জাপানি পর্যটক দলটি নিয়মিতভাবে শুধুমাত্র টয়ট্রেনের আকর্ষণেই দার্জিলিং আসেন। এনজেপি থেকে সুকনা, রংটং, তিনধারিয়া হয়ে কার্শিয়াং পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথ তাঁরা ছবি ও ভিডিওতে ধরে রাখেন। ট্রেনের হুইস্ল বাজলেই ক্যামেরার শাটারের শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পাহাড়ি রেলপথ। এই সফরে তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করেছে ডিএইচআর। কার্শিয়াঙে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়নের পাশাপাশি নেপালি ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন করা হয়।
advertisement
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে সিইয়া সুগাওয়াররা জানান, বয়সের কারণে এটাই হয়তো তাঁর শেষ দার্জিলিং সফর। তবে ডিএইচআর-এর আতিথেয়তায় তিনি মুগ্ধ এবং আবার ফিরে আসার আশাও রাখছেন। ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “১৯৭১ সাল থেকে এই জাপানি রেলপ্রেমীদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। ওঁরা শুধু টয়ট্রেন দেখেন না, নিজেদের দেশে ফিরে গিয়েও ডিএইচআর-এর কথা প্রচার করেন। এই ভালবাসাই আমাদের ঐতিহ্য রক্ষার প্রেরণা।”(ছবি ও তথ্য : ঋত্বিক ভট্টাচার্য)







