১১ বছর সুখের সংসার! প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে স্বামীর মাথা মুখ থেঁতলে খুন করলেন ৩ সন্তানের মা! উত্তরপ্রদেশের হাড়হিম ঘটনা প্রকাশ্যে!
- Published by:Soumendu Chakraborty
Last Updated:
পরকীয়ার জেরে সুরেশপাল সিংকে খুন, মমতা দেবী ও হোটম সিং গ্রেপ্তার; মিরাটে আরও এক সহিংস ঘটনার তদন্তে পুলিশ
advertisement
advertisement
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিহারের বাসিন্দা মমতা দেবী তাঁর স্বামী ঘুমিয়ে থাকার সময় খাটের ওপর চেপে ধরে রাখেন। এরপর দৈনিক মজুর হোটম সিং ঘরে থাকা একটি হাতুড়ি দিয়ে সুরেশপালের মাথা ও মুখে বারবার আঘাত করেন। হামলাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই সুরেশপালের মৃত্যু হয়। হত্যার পর হোটম হাতুড়িটি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, আর মমতা দেবী সেখানেই থেকে যান।
advertisement
পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সুরেশপাল ও মমতার বিয়ে হয়েছিল ১১ বছর আগে এবং তাঁদের তিনটি সন্তান রয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, মমতা হোটমের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে ভাঙন ধরতে শুরু করে। “সুরেশপাল এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন, যার জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং হোটমের সঙ্গেও একাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সুরেশপাল মমতাকে সম্পর্ক শেষ করতে বলতেন এবং প্রায়ই মারধর করতেন। সেই কারণেই তিনি স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন,” দক্ষিণ জেলার এসপি অংশিকা ভার্মা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া বক্তব্যে এমনটাই বলেন।
advertisement
খুনের ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে মমতা নাকি বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি পাশের একটি ঘরে ঘুমিয়ে থাকা তাঁর বড় ছেলে, ১১ বছরের অর্জুনকে ডেকে তুলে গ্রামের প্রধানকে খবর দিতে বলেন। পরে মমতা স্থানীয়দের জানান, তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারেননি। তদন্তে আরও জানা যায়, কলের তথ্য মুছে ফেলতে তিনি নিজের মোবাইল ফোনের সিম কার্ড নষ্ট করে দেন। মমতার দাবি ছিল, ঘরের ভেতরে টয়লেট ব্যবহার করতে উঠে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীকে পড়ে থাকতে দেখেন।
advertisement
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মমতা ভেঙে পড়েন এবং হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তদন্তকারীরা কল রেকর্ড ও অন্যান্য সহায়ক প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে হেফাজতে নেন। আধিকারিকদের মতে, মমতার জবানবন্দি হত্যার আগে কীভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁর সহযোগীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
advertisement
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরগঞ্জ রোডের শিবপুরী তিরাহায় নজরদারি চালিয়ে হোটমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়িটিও উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় খুনের অভিযোগে বিএনএস-এর ১০৩ ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর দু’জন অভিযুক্তকেই আদালতে পেশ করা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয় এবং জেলে পাঠানো হয়।
advertisement
উত্তরপ্রদেশে আরও একটি খুনের ঘটনা সামনে এসেছে, যা সাম্প্রতিক দিনে রাজ্যে ঘটে যাওয়া একের পর এক সহিংস অপরাধের তালিকাকে আরও দীর্ঘ করল। পৃথক এক ঘটনায়, মিরাটে এক দলিত মহিলাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ, পাশাপাশি তাঁর মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ৮ জানুয়ারি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।
advertisement
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সারধনা এলাকার কাপসাদ গ্রামে সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মহিলা ও তাঁর মেয়ে মাঠে যাওয়ার পথে একটি খালের কাছে পৌঁছলে তাঁদের আটকানো হয়। অভিযুক্ত হিসেবে ২২ বছর বয়সি পরাস নামে এক যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে একটি হাসপাতালে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে ভীম আর্মির সদস্য ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা সেখানে জড়ো হন। তাঁরা অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
advertisement
সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) বিপিন তাডা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে ধরতে এবং অপহৃত মেয়েটির খোঁজে একাধিক পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ)-এর নেতৃত্বে মোট পাঁচটি দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।








