Marriage Registry: মা-বাবা-র কাছে যাবে মেসেজ, তারপরেই পাবেন বিয়ের সার্টিফিকেট, কোন পথে হাঁটছে গুজরাত
- Published by:Debalina Datta
- news18 bangla
Last Updated:
Marriage Registry: সমাজকে নীতিতে বাঁধতে আইনের সাহায্য নিচ্ছে এই রাজ্য, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্করা তাঁদের পছন্দমতো জীবনসঙ্গী বাছতে পারেন ভারতীয় সংবিধান অনুসারে
কলকাতা: বিয়ে করছেন এবার কিন্তু পাত্র-পাত্রীর কাছ থেকে ছাড়াও তাঁদের বাবা-মায়ের কাছেও যাবে নোটিফিকেশন! গুজরাত সরকার রাজ্যের বিয়ের রেজিস্ট্রি আইনে একটি সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে যা জাতীয় স্তরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভি ঘোষণা করেছেন যে বিবাহের শংসাপত্র পাওয়ার জন্য কেবল বর এবং কনের সম্মতিতেই এখন আর হবে না৷
advertisement
advertisement
বাবা-মাকে বিবাহ সম্পর্কে অবহিত করা কি প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ?প্রস্তাবিত নিয়ম অনুসারে, এখন থেকে বিয়ের জন্য আবেদন করার সময় একটি 'ঘোষণা' প্রয়োজন হবে। এই ফর্মে, দম্পতিদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে যে তাদের বাবা-মা বিবাহ সম্পর্কে অবগত আছেন কিনা। সহকারী রেজিস্ট্রার তখন ১০ দিনের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে অভিভাবকদের অবহিত করার জন্য দায়িত্বে থাকবেন। সরকার এটিকে স্বচ্ছতার একটি পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করছে, কিন্তু অনেকেই এটিকে প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে। প্রশ্ন উঠছে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে তাঁদের বিবাহ সম্পর্কে তাঁদের পরিবারকে জানাতে আইনত বাধ্য হওয়া কি উচিত?
advertisement
৩০ দিনের অপেক্ষা এবং ডিজিটাল যাচাইকরণনতুন ব্যবস্থায় আর তাৎক্ষণিক বিবাহের শংসাপত্র প্রদান করা হয় না। আবেদন জমা দেওয়ার পরে বাধ্যতামূলক ৩০ দিনের অপেক্ষার সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন, বিয়ের ছবি, আমন্ত্রণপত্র এবং সম্পূর্ণ সাক্ষীর তথ্য একটি সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হবে। সরকারের যুক্তি হলো এটি জাল বিয়ে রোধ করবে। কিন্তু এই ৩০ দিন পরিবারের অমতে লাভ ম্যারেজ করা বিবাহিত দম্পতিদের জন্য কঠিন হতে পারে, কারণ এই সময়ে তাদের পারিবারিক চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া কি ব্যবস্থাটিকে আরও জটিল করে তুলবে এমনটাও বলছে সমাজের একটি অংশ৷
advertisement
কাগজপত্রের ক্রমবর্ধমান বোঝাএখন, কেবল বর এবং কনের নথিপত্রই আর যথেষ্ট হবে না। আবেদনের সঙ্গে বর এবং কনের বাবা-মায়ের আধার কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট এবং স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেটও প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়াও, বিয়ের ছবি এবং সাক্ষীর যাচাই বাধ্যতামূলক করা হবে। এই সবকিছুই একটি ডিজিটাল ডাটাবেসের অংশ হবে। কেউ কেউ বলছেন এতে অপরাধের হার কমবে, আবার কেউ কেউ বলছেন অপ্রয়োজনীয় ডেটা ভর্তি হবে সরকারি নথিতে।
advertisement
এই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে?সরকারের দাবি, বেশ কয়েকটি সম্প্রদায়ের গোষ্ঠী পিতামাতার অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। গুজরাত সরকার বিশ্বাস করে যে পরিবার সমাজের সবচেয়ে ছোট এবং গুরুত্বপূর্ণ একক, এবং তাই এটি রক্ষা করা অপরিহার্য। তবে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ভারতীয় সংবিধান প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ককে তাদের নিজস্ব ইচ্ছামত সঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। তাহলে, এই নতুন নিয়ম কি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সংর্ঘষে জড়াবে৷ সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আইনের আশ্রয় নেওয়া কি উপযুক্ত?
advertisement







