গর্ভাবস্থায় পুষ্টির জন্য প্রত্যেক মায়ের জন্য প্রয়োজন বিশেষ পদ্ধতি, কী সেটা? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ
- Reported by:BENGALI NEWS18
- local18
- Published by:Rachana Majumder
Last Updated:
আধুনিক জীবনধারা গর্ভাবস্থায় পুষ্টির পর্যাপ্ততাকে আরও জটিল করে তোলে। অনেক হবু মা কর্মজীবনের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং উচ্চ মানসিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলেন। এর ফলে প্রায়শই অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস, ফাস্ট ফুডের উপর নির্ভরতা এবং এমন খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয় যা ক্যালোরি-সমৃদ্ধ হলেও পুষ্টির ঘনত্বের দিক থেকে ঘাটতিপূর্ণ।
প্রতিটি নারীর জন্য গর্ভাবস্থা ভিন্নভাবে অতিবাহিত হয়। তবুও, গর্ভাবস্থায় পুষ্টি সংক্রান্ত প্রচলিত নির্দেশিকাগুলো প্রায়শই পুষ্টি উপাদানের একটি নির্দিষ্ট তালিকার উপরই মনোযোগ দেয়। সাম্প্রতিক গবেষণা এখন এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গর্ভাবস্থায় পুষ্টির ক্ষেত্রে সবার জন্য একই ধরনের পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। আজকের বিশ্ব, যা বিভিন্ন জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস এবং পূর্ব-বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থা দ্বারা প্রভাবিত, সেখানে মা ও শিশু উভয়কে সহায়তা করার জন্য আরও অনেক বেশি পার্সোনালাইজড এবং সুচিন্তিত কৌশল প্রয়োজন।
advertisement
advertisement
অনেক নারী গর্ভাবস্থা শুরু করার আগেই পুষ্টিহীনতায় ভোগেন। এই অবস্থাকে প্রায়শই 'লুকানো ক্ষুধা' বলা হয়, যা অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতিকে নির্দেশ করে, যার সুস্পষ্ট লক্ষণগুলো হয়তো প্রকাশ পায় না। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ নারী রক্তাল্পতায় আক্রান্ত এবং বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এক-তৃতীয়াংশের বেশি গর্ভবতী নারী এই সমস্যায় ভোগেন।
advertisement
আয়রনের ঘাটতি কেবল সমস্যার একটি অংশ মাত্র। গবেষণায় প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের মধ্যে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২-এর ব্যাপক ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে। এই ফলাফলগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে তুলে ধরে: যদিও গর্ভাবস্থার জন্য মাল্টিভিটামিন একটি মূল্যবান ভিত্তি, তবে গর্ভধারণের অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান ব্যক্তিগত পুষ্টির ঘাটতি পূরণে এগুলো প্রায়শই ব্যর্থ হয়।
advertisement
advertisement
আধুনিক জীবনধারা গর্ভাবস্থায় পুষ্টির পর্যাপ্ততাকে আরও জটিল করে তোলে। অনেক হবু মা কর্মজীবনের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং উচ্চ মানসিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলেন। এর ফলে প্রায়শই অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস, ফাস্ট ফুডের উপর নির্ভরতা এবং এমন খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয় যা ক্যালোরি-সমৃদ্ধ হলেও পুষ্টির ঘনত্বের দিক থেকে ঘাটতিপূর্ণ।
advertisement
এই জীবনযাত্রার কারণগুলো সরাসরি দেখায় যে একজন নারী কোনও পুষ্টি উপাদানগুলো পেলেও আরেকজন সমস্যায় পড়বেন। একজন মায়ের জন্য বাইরের পরিবেশে সীমিত বিচরণের কারণে ভিটামিন ডি-এর চাহিদা বাড়তে পারে। অন্য একজনের জন্য নিরামিষ বা সীমাবদ্ধ খাদ্যাভ্যাসের কারণে ভিটামিন বি১২ এবং সহজলভ্য আয়রনের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সর্বজনীন খাদ্যতালিকাগত সুপারিশগুলো সদিচ্ছা-প্রণোদিত হলেও এই ভিন্নতাগুলোর হিসাব রাখতে পারে না।
advertisement
যেমন ডা. গিরন জোর দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসাগত মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঘাটতিগুলো শনাক্ত করা গেলে ঢালাও একই রকম সুপারিশের পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সম্পূরক পুষ্টি প্রদান করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই পদ্ধতিটি ‘দুজনের জন্য খাওয়া’র মতো সেকেলে ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে একজন নির্দিষ্ট মা এবং তার শিশুর জন্য কৌশলগত পুষ্টির ওপর মনোযোগ দেয়।ভ্রূণের বৃদ্ধি ও জ্ঞানীয় বিকাশে প্রতিবন্ধকতা থেকে শুরু করে মায়ের ক্লান্তি ও জটিলতা পর্যন্ত পুষ্টির ঘাটতির বিভিন্ন ধাপ সুনির্দিষ্ট পুষ্টি পরিচর্যার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা যেতে পারে।
advertisement
advertisement
প্রতিটি নারীর অনন্য চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুষ্টি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমরা গর্ভবতী মায়েদের তাঁদের স্বাস্থ্যকে সর্বোত্তম পর্যায়ে নিয়ে আসতে এবং তাঁদের সন্তানদের সম্ভাব্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি দিতে সক্ষম করে তুলি। এর মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থা, স্বাস্থ্যকর জন্ম এবং আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাই।







