Green Peas: বাসে ট্রেনে রোজ কিনে খাচ্ছেন সবুজ মটর! তা আদতে বাড়াচ্ছে ক্যানসারের ঝুঁকি! ঠিক কতটা বিপদ? জেনে নিন

Last Updated:
Green Peas : বাস বা ট্রেনে ভ্রমণের সময়, প্রায়ই রাস্তায় বিক্রেতাদের বিভিন্ন সবুজ বোতল বিক্রি করতে দেখা যায়। অনেকেই মনে করেন, তারা আসলে সবুজ মটর বিক্রি করছে। কিন্তু কখনও ভেবেছেন, আসলে তারা কী বিক্রি করছে? এক তদন্তে চমকপ্রদ সত্যটি সামনে এসেছে।
1/6
The hidden risks of eating green peas daily
একটি বাজারে এক বিক্রেতা কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, “আমরা এত পরিমাণ সবুজ মটর কোথা থেকে পাব? ওরা মটর রং করে আমাদের দেয়। আমরা তাদের ‘কালারিং শপ’ বলেই চিনি।” তবে ওই ব্যবসায়ীদের দাবি, সবুজ মটর আসলে কোথা থেকে আসে, সে বিষয়ে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।
advertisement
2/6
সবুজ মটর সারাদিনে কত বিক্রি হয়? শিয়ালদহ শাখার ট্রেনের এক হকারের বক্তব্য , -সারাদিনে তিনি ফেরি করে চার থেকে পাঁচ কেজি সবুজ মটর বিক্রি করেন। ৫ টাকা এবং ১০ টাকার প্যাকেটে করেই সাধারণত এই ধরনের সবুজ মটর বিক্রি হয়। তার সঙ্গে বাদাম,ডালমুট ভাজা এসব তো রয়েছে।
এক দিনে কতটা সবুজ মটর বিক্রি হয়? ট্রেনে এক বিক্রেতা জানান, “তিনি প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ কেজি সবুজ মটর বিক্রি করেন। এই ধরনের মটর সাধারণত ৫ টাকা ও ১০ টাকার প্যাকেটে বিক্রি হয়। এর পাশাপাশি তিনি চিনাবাদাম, ভাজা ডাল ইত্যাদিও বিক্রি করেন।”
advertisement
3/6
ওই হকারের বক্তব্য, প্রকৃত সবুজ মটরের রং এতটা গাঢ় হয় না। দামটা বরং একটু বেশি হয়।কারণ ওটা কাঁচা মটর শুঁটিকে শুকনো করে তৈরি করা হয়।আর এই মটরে রং করে পদ্ধতি অনুযায়ী সবুজ মটর তৈরি করে। যার ফলে হলুদ ভাজা মটরের থেকে এই সবুজ মটর দাঁতে দিলে সহজেই ভেঙে যায়।
বিক্রেতার দাবি অনুযায়ী, আসল সবুজ মটরের রং এতটা গাঢ় সবুজ হয় না। এগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে একটু বেশি, কারণ সেগুলো শুকনো (প্লাসটার জাতীয়) মটর থেকে তৈরি করা হয়। পরে বিশেষ পদ্ধতিতে রং করে এগুলোকে সবুজ মটরের মতো দেখানো হয়। আসলে এই মটরগুলো হলুদ ভাজা মটরের মতোই, যা দাঁতে খুব সহজেই ভেঙে যায়।
advertisement
4/6
ধরা যাক, একজন হকার সারাদিনে যদি দু -কেজি পরিমাণে সবুজ মটর বিক্রি করেন, তাহলে ১০০ জন হকার ২০০ কেজি পরিমাণে সবুজ মটর বিক্রি করছেন। এর থেকেই আন্দাজ করা সম্ভব, কলকাতা এবং জেলাগুলিতে রং করা এমন সবুজ মটর প্রতিদিন কয়েকশোকেজি বিক্রি হচ্ছে!
ধরা যাক, যদি একজন বিক্রেতা দিনে ২ কেজি সবুজ মটর বিক্রি করেন, তাহলে ১০০ জন বিক্রেতা মিলিয়ে মোট ২০০ কেজি মটর বিক্রি হচ্ছে। এতে সহজেই অনুমান করা যায়, কলকাতা ও আশপাশের বাজারে প্রতিদিন শত শত কেজি রং করা সবুজ মটর বিক্রি হচ্ছে! আর ওই মটরের যে সবুজ রং দেখা যায়, তা আসলে খাবারের উপযোগী রং নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডাই। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই রং করা মটরই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা খাচ্ছে।
advertisement
5/6
আর সেই মটর গুলিতে যে সবুজ রং মেশানো হয়, সেগুলি আসলে ফুড কালার নয়, বরং শিল্পে ব্যবহৃত রং বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার।আর সেই মটর বেশির ভাগ শিশুরাই খাচ্ছে।
এ বিষয়ে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর বলেন, “আসল সবুজ মটরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, নাইট্রোজেন, ফোলেট এবং ভিটামিন A, K ও C থাকে। এতে থাকা প্রোটিন ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরের শক্তি বাড়ায়। কিন্তু রং করা মটর খেলে হজমজনিত সমস্যা হতে পারে।” তিনি আরও বলেন, এতে পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ধরনের কৃত্রিম রং জেনেটিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা থেকে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
advertisement
6/6
এই বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আসল সবুজ মটরশুঁটিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন,ফসফরাস,ফোলেট এবং ভিটামিন এ ,কে এবং সি রয়েছে। এর প্রোটিন মানুষের দেহের ওজন হ্রাস করতে সাহায্য করে। তার সঙ্গে পেশী শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।রং করা মটর খেলে মানুষের পরিপাকে সমস্যা তৈরি হয়।পেট খারাপ হতে পারে।এই কৃত্রিম রং থেকে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ হতে পারে।’
(Disclaimer: প্রতিবেদনের লেখা তথ্য News18 বাংলার নিজস্ব মত নয় ৷ সঠিক ফল পাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন৷)
advertisement
advertisement
advertisement