সর্দি-কাশি থেকে মূত্রনালীর রোগ সারবে এক নিমেষে, এমনকী সাপের বিষেরও চরম শত্রু; জীবনদায়ী এই গাছের গুণাগুণের কথা অনেকেরই অজানা
- Published by:Siddhartha Sarkar
- local18
Last Updated:
Chirchita Root Benefits: কিন্তু এই গাছের বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে জমি চাষ করার সময় তা উপড়ে ফেলে দেন কৃষকরা। অথচ এই গাছটির মধ্যে ঔষধি গুণ থাকে ভরপুর।
বহু গাছগাছড়ার মধ্যে ঔষধি বা ভেষজ গুণ রয়েছে, তা তো সকলেরই জানা। এই ঔষধি গাছের মধ্যে অন্যতম হল চিরচিটা। যা আয়ুর্বেদিক গুণাগুণে ভরপুর। তবে অদ্ভুত বিষয় হল, অনুর্বর জমিতে অথবা মাঠেঘাটে দিব্যি অযত্নে আর অবহেলায় বেড়ে ওঠে এই গাছ। কিন্তু এই গাছের বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে জমি চাষ করার সময় তা উপড়ে ফেলে দেন কৃষকরা। অথচ এই গাছটির মধ্যে ঔষধি গুণ থাকে ভরপুর। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডা. কিষাণ লাল Local18-এর কাছে চিরচিটা গাছের উপকারিতার বিষয়ে কথা বলেছেন।
advertisement
তাঁর বক্তব্য, চিরচিটা গাছের মূল, পাতা, কাণ্ড এবং ফল অর্থাৎ সব অংশই ভীষণ ভাবে উপকারী। কারণ এর মধ্যে ভেষজ গুণ বর্তমান। আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করার জন্যই ব্যবহার করা হয় এই গাছ। ডা. কিষাণ লালের কথায়, এই গাছের কাণ্ড খুব একটা বড় হয় না। আর এই গাছে লাল আর সাদা রঙের ফুলও ধরে। ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় চিরচিটা একাধিক নামে পরিচিত। অনেক জায়গায় আবার এটি লটজিরা চিচরা নামেও প্রসিদ্ধ।
advertisement
অনেকটা ঝোপের মতো দেখতে হয় চিরচিটা গাছটি। অনেকটা সরু ডাঁটির আকারেই বড় হতে থাকে এই গাছ। আবার এর মধ্যে ছোট্ট ছোট্ট বীজের মতো ফলও ধরে। এখানেই শেষ নয়, এই গাছের মূল বা শিকড় থেকে তৈরি ক্বাথ একাধিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। আবার সাপের কামড় নিরাময়েও এই গাছ এক অব্যর্থ দাওয়াই। আসলে শরীরের কোনও অংশে সাপে কামড়ালে সেই স্থানে চিরচিটা গাছ বেটে লাগালে স্বস্তি পাওয়া যায়। এছাড়া ইতিবাচক শক্তি বা পজিটিভ এনার্জির উৎস হিসেবেও গণ্য করা হয় এই গাছটিকে।
advertisement
ডা. কিষাণ লাল আরও বলেন যে, বর্ষায় অনেকটা আগাছার মতো দেখায় চিরচিটা গাছটিকে। অথচ তার ঔষধি গুণ সম্পর্কে অবহিত নন অনেকেই। বলে রাখা ভাল যে, চিরচিটা গাছের মূল, কাণ্ড এবং ফল আয়ুর্বেদের ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। শুধু তা-ই নয়, আরও একাধিক গুণাগুণও রয়েছে এই গাছটির। মূত্র সংক্রান্ত রোগ, সর্দি-কাশি, হজম সংক্রান্ত সমস্যা, মুখের আলসারের মতো রোগ নিরাময় করতেও চিরচিটা গাছের জুড়ি মেলা ভার। আবার শরীরের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে চিরচিটা। সেই সঙ্গে পাইলস বা অর্শ, কাশি, অ্যাজমা বা হাঁপানি, অ্যানিমিয়া, জন্ডিসের মতো রোগের চিকিৎসা করা হয় এই ঔষধি গাছ ব্যবহার করে।
advertisement
এছাড়া দাঁতের জন্যও সমান ভাবে উপকারী চিরচিটা। আসলে চিরচিটা গাছের শিকড় দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত মজবুত হয়। আর মুখের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। চিরচিটা গাছের ঔষধি গুণের পাশাপাশি এর ধর্মীয় তাৎপর্যও রয়েছে। এই প্রসঙ্গে ধর্ম বিশেষজ্ঞ চন্দ্রপ্রকাশ ধনধান Local 18-এর কাছে বলেন যে, ঘরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার ঘটায় চিরচিটা।
advertisement
সেই সঙ্গে দূর করে নেতিবাচক শক্তিকেও। এখানেই শেষ নয়, এই গাছ সৌভাগ্যও বয়ে আনতে সাহায্য করে। আবার বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়িতে সাদা চিরচিটা গাছ লাগালে আনন্দ এবং সমৃদ্ধির সঞ্চার ঘটে। আবার জলে এই গাছ নিয়ে কচলালে বশীকরণের শক্তিও পাওয়া যায়। রবি-পুষ্যা যোগের মতে, বাড়িতে শান্তি বজায় রাখা এবং সন্তান আগমনের জন্য চিরচিটা গাছের মূল বেঁধে প্রার্থনা করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।









