Shorshe: নারীর ক্ষমতায়ণ, সঙ্গে ধ্রুপদী স্বাদে আধুনিক ছোঁয়া, শহর মেতেছে ‘সরষে’-র রূপে আর রূপকে
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
এই রেস্তোরাঁ কলকাতা এবং সেই সব নারীদের প্রতি একাধারে এক শ্রদ্ধার্ঘ্য, যাঁদের শক্তি নীরবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লালন করে চলেছে।
বাঙালির পাতে সরষের ছোঁয়া নতুন কিছু নয়। তবে, শুধুই স্বাদ নয়, এই সরষে সাধ আর ক্ষমতারও প্রতীক। একবার শুধু ফিরে তাকানো যাক কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের এক অংশে। জায়া পার্বতীকে সাধের নানা পদ রান্না করে খাওয়াতে বলছেন শিব, যা যা রান্না করতে বলছেন, তার মধ্যে রয়েছে সরষের শাকও। দেবাদিদেবের ঘরণী সাক্ষাৎ শক্তি, তা ভুলে গেলে চলবে না। সরষে আর নারীর শক্তির এই যুগলবন্দিরই আধুনিক রূপ শহর কলকাতার হোটেল De Sovrani-র ‘সরষে’।
advertisement
ইংরেজিতে লিখলে Shorshe (Shor-She), একেবারে শেষ তিন শব্দে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে ‘She’, যা নারীসত্ত্বার পরিচায়ক । সে কারণেই হোটেল ডি সোভরানি তাদের নয়া রেস্তোরাঁ Shorshe-কে কেবল এক রসনাবিলাসের গন্তব্য হিসেবে দেখতে নারাজ। রান্নায় স্বাদ আর রূপ দুই যা নিয়ে আসে, সেই সরষেকে তাঁরা রূপক হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই সমধিক উৎসুক। এই রেস্তোরাঁ কলকাতা এবং সেই সব নারীদের প্রতি একাধারে এক শ্রদ্ধার্ঘ্য, যাঁদের শক্তি নীরবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লালন করে চলেছে। আর সেই সূত্র ধরেই বাঙালির স্বাদের সংস্কৃতিতে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে সরষে।
advertisement
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাংলার সংস্কৃতি এমন নারীদের দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়েছে যাঁরা এর রাজনীতি, এর শিল্প, এর সাহিত্য, এর বিজ্ঞান এবং এর সামাজিক অগ্রগতিকে রূপ দিয়েছেন। কলকাতায় যাঁর বেড়ে ওঠা, এ হেন উদ্যোক্তা, হোটেল ব্যবসায়ী এবং Shorshe-র স্বপ্নদ্রষ্টা কমলিনী পাল এই সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবার এনে দিলেন গ্রাহকের পাতে। এ এমন এক শহর যেখানে ‘মা বলেছে’ যে কোনও নিয়ম-কানুনের থেকেও বেশি কর্তৃত্বপূর্ণ ছিল, যেখানে নারীরা নির্ভীকভাবে তাঁদের আবেগ অনুসরণ করতেন এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে স্বাধীনতার সঙ্গে বাস করতেন।
advertisement
এই চেতনাই Shorshe-র ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। মেনুতেও রয়েছে সেই ছোঁয়া। ‘মটন সাতকোরা’, ‘চিকেন কাবসা রাইস’, ‘রেড স্পিন্যাচ টিকিয়া কাবাব’, ‘কাবাব-ই-মুর্গ অ্যালাস্কা’, ‘অ্যাভোক্যাডো ফুচকা’ ইত্যাদির মতো পদের সঙ্গে রয়েছে ‘ভ্যানিলা ক্লাউড ফিজ’-এর মতো উদ্ভাবনী ককটেল এবং ‘স্পাইসড ক্রিমসন কুলার’, ‘আম কোকো ব্রিজ’-এর মতো নতুন স্বাদের মকটেল। আছে ‘পারমেসান ইয়াখনি’-র সঙ্গে ‘বিহারি চোখা গনোচ্চি’ এবং ‘স্পাইসি ধনিয়া সস’-এর সঙ্গে ‘আজওয়ানি গ্রিলড ভেটকি অ্যান্ড চোখা’-র মতো ফিউশন পদও।
advertisement
advertisement
‘‘যদিও আমাদের চারপাশের সব কিছু দ্রুত আধুনিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তবুও বাঙালি খাবার প্রায়শই একটি স্মৃতিকাতর, ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিকোণে সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ বাংলা নিজেই প্রগতিশীল, অভিব্যক্তিপূর্ণ এবং গভীরভাবে ক্ষমতায়নকারী এক সত্ত্বা। Shorshe-কে নিয়ে আমার লক্ষ্য হল এই দুটি বিশ্বকে একত্রিত করে একটি আধুনিক বাঙালি অভিজ্ঞতা তৈরি করা যা প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যে অনুরণিত হবে। আমি আশা করি আমাদের সংস্কৃতি এবং রন্ধনপ্রণালীর একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারব, এটিকে স্মৃতি থেকে একটি প্রাণবন্ত, বিকশিত সমসাময়িক আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে পারব’’, বলছেন Shorshe-র স্বপ্নদ্রষ্টা কমলিনী পাল।
advertisement







