Mukul Roy: মমতার একসময়ের ছায়াসঙ্গী, যুদ্ধের সেনানি! তারপরে বিচ্ছেদ এবং ঘরে ফেরা, তৃণমূলের জন্ম থেকেই ছিলেন মুকুল
- Published by:Satabdi Adhikary
- news18 bangla
Last Updated:
প্রয়াত মুকুল রায়৷ তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তিক্ত-মধুর নানা ঘাত প্রতিঘাতে ঘেরা৷ শাসকদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, তারপর কোনও এক অভিমানে বিচ্ছেদ৷ যদিও ফের ফিরেছিলেন ঘরে৷ তৃণমূলে৷
সালটা ২০১৭-র আশেপাশে হবে৷ কোনও এক অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আর শেষ মুহূর্তে সেখানে পৌঁছেছেন মুকুল রায়ও৷ ‘দিদি’র কাছে যেতে গিয়ে আচমকা টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেলেন৷ ততক্ষণে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন মমতা৷ সাধারণ ঘটনা৷ সাধারণ দৃশ্য৷ তবুও সংবাদমাধমে তা জন্ম দিয়েছিল অন্য এক দৃশ্যপটের৷ কারণ, সেই সময় তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল মুকুলের৷
advertisement
তৃণমূলের ‘নম্বর টু’ আসলে কে হবেন, তা নিয়ে নাকি জোর জল্পনা চলছে বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে৷ ধীরে ধীরে নিজেকে ‘তৈরি’ করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু, মুকুল রায় তো পোড়় খাওয়া রাজনীতিক৷ সংগঠন জমি, জায়গা, দরজা, জানলা, কব্জা সব তাঁর জানা, চেনা৷ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক পরেই যাঁর কথার সবচেয়ে বেশি মূল্য তৃণমূলের অন্দরে৷ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য৷
advertisement
advertisement
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন বরাবরই নানা ঘটনাপ্রবাহের খাতে বয়েছে৷ শোনা যায়, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একবারে শুরুটা হয়েছিল বাম শিবিরে৷ সেই সম্পর্ক অবশ্য খুব বেশিদিন স্থানীয় হয়নি৷ পরে উত্তর ২৪ পরগনার কংগ্রেস নেতা মৃণাল সিংহরায়ের হাত ধরে ছাত্র পরিষদে হাতেখড়ি৷ সেখান থেকেই কংগ্রেস যাপনের অধ্যায় শুরু৷ তৎকালীন যুব কংগ্রেসের দুর্দান্ত নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রাজনীতি করা৷
advertisement
সেই কারণেই নব্বইয়ের দশকে যখন বঙ্গে ‘বিকল্প’ কংগ্রেসের জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন তাঁর ছায়াসঙ্গীর মতো পাশে ছিলেন মুকুলও৷ মুকুল-সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে নতুন দলের পরিকল্পনা করেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী। মুকুল থেকে শুরু অতীন ঘোষ ও তমোনাশ ঘোষেদের মতো ৯ জন নেতা নির্বাচন কমিশনে নতুন দল তৈরির আবেদন করেন৷ মুকুল রায় ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য৷
advertisement
একসময়ে তৃণমূলের তিলজলার পার্টি অফিসে সপরিবারে থাকতেন। বিধানসভা ভিত্তিক সাংগঠনিক ক্ষমতা-দুর্বলতার অঙ্ক ছিল তাঁর নখদর্পণে৷ জেলা থেকে শহর, প্রতিটি ব্লক বা বুথ ছিল তাঁর নিজের হাতের তালুর মতো চেনা৷ পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল স্তরে তৃণমূলকে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি৷ ছিলেন সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখও।
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
ঘরে ফেরার দিন মুকুল রায়কে যখন অভিষেকের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার প্রশ্ন করছেন সাংবাদিকেরা, আর মুকুল উত্তর দিচ্ছেন, ‘‘অভিষেকের সঙ্গে আমার কোনও মতবিরোধ ছিল না।’’ কিন্তু তিনি তাঁর জবাব শেষ করার আগেই সামনে-রাখা মাইক্রোফোন টেনে নিয়ে স্বয়ং মমতা বলেন, ‘‘অভিষেকের সঙ্গে কখনওই মুকুলের মতবিরোধ ছিল না। কারও সঙ্গেই ছিল না।’’






