ভারতের ‘লাইফলাইন’-এ বিপদ ! আমেরিকা কি পিঠে ছুরি মেরেছে? ট্রাম্পের মোহ বিশ্ব অর্থনীতিকে হরমুজ প্রণালীতে আটকে ফেলেছে
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
প্রাক্তন এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্যকে পরীক্ষা করছে। ভারত একটি কঠিন এবং ক্রমশ খারাপ হতে চলা পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন কর্মকর্তা লিসা কার্টিসের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্যকে পরীক্ষা করছে। ভারত একটি কঠিন এবং ক্রমশ অবনতিশীল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। (Photo: AP)
advertisement
‘‘আমি মনে করি, প্রথমত, এটি ভারতের তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। ভারত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তাই আমি নিশ্চিত যে ভারতীয় কর্মকর্তারা তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং এই সঙ্কট ভারতীয় অর্থনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন,’’ কার্টিস আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন। কার্টিস জ্বালানি খাতকে ভারতের জন্য একটি তাৎক্ষণিক উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন, কারণ দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল। এই সংঘাতের কারণে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করতে পারে।
advertisement
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ থেকে উদ্ভূত একটি কূটনৈতিক সমস্যার কথা কার্টিস উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ভারতের আয়োজিত একটি বহুপাক্ষিক নৌ-মহড়ায় অংশগ্রহণের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজে হামলা চালায়।’’ তিনি এটিকে ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন বলে অভিহিত করেন।(Photo: AP)
advertisement
তিনি বলেন, ‘‘ভারত আশা করে ওয়াশিংটন একটি নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যথাযথ রাখবে। তিনি বলেন, ‘‘ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে দেখে এবং সমুদ্রপথের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে, এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই এমনভাবে কাজ করছে যা সেই নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারত আরও নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করছে। এটি ইরানের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে।’’(Photo: AP)
advertisement
প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তা লিসা কার্টিস বলেছেন, ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি অন্যান্য মার্কিন মিত্রদের মতোই। জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি এমন একটি যুদ্ধে জড়াতে না চাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে, যে যুদ্ধের তারা অংশ নয়। কার্টিস আরও বলেন, ইরান নীতিতে ওয়াশিংটনকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, ইরানে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান মিত্র ও অংশীদারদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।’’ (Photo: AP)
advertisement
তিনি বলেছেন যে মিত্ররা সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করতে দ্বিধাগ্রস্ত। অনেক দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে এসকর্ট করার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অনিচ্ছুক। তারা চলমান সামরিক কর্মকাণ্ডে জড়াতে চায় না। পরিবর্তে, সব দেশই তাদের অংশীদারদের স্থিতিশীলতা সমর্থন করার জন্য অসামরিক উপায় খুঁজছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করতে চায়। তারা তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করার চেষ্টা করছে এবং তারা বাজারে কৌশলগত মজুদ সরবরাহ করার চেষ্টা করছে।দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে কার্টিস বলেন যে, সম্প্রতি মার্কিন-ভারত সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য কাঠামো চুক্তি (Interim Trade Framework Agreement) সম্পন্ন হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। (Photo: AP)
advertisement
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাশিয়ার তেল বিষয়ে মার্কিন নীতির পরিবর্তনে ভারত লাভবান হতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে তেল বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে। এটি ভারতকে সাহায্য করবে। ভারতের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র যা কিছু করতে পারে, তা স্বাগত।’’ কার্টিস সতর্ক করেছেন যে, ওয়াশিংটনের নীতির খামখেয়ালি ও অপ্রত্যাশিত প্রকৃতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তাকেই প্রতিফলিত করে, যা অন্যান্য দেশের জন্যও অস্বস্তি তৈরি করছে। এই কারণেই ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে ভারত আরও সতর্কতামূলক পন্থা অবলম্বন করতে পারে। (Photo: AP)






