advertisement

২০১৭ সালের একটি বড় ভুল ! বক্স অফিস থেকে বিদায় ঘটে গোবিন্দার, প্রত্যাবর্তন কঠিন হয়ে পড়ে

Last Updated:
গোবিন্দার নাম কখনও বলিউডের দিগ্গজ অভিনেতাদের তালিকায় ছিল, কিন্তু ওনার কেরিয়ার কোনও সিনেমার স্ক্রিপ্ট থেকে কম ছিল না। এক সময় ছিল যখন শুধু গোবিন্দার নামেই সিনেমা হিট হয়ে যেত, কিন্তু গত ৯ বছরে ওঁর জাদু একেবারে ফিকে হয়ে গিয়েছে। একটা ভুল, গোবিন্দার জিদ আর সময়ের সঙ্গে নিজেকে না বদলাতে পারার জন্য উনি বক্স অফিসের দৌড় থেকে চিরতরে ছিটকে গিয়েছেন। সুপারস্টার হওয়া সত্ত্বেও, আজ গোবিন্দার জন্য বলিউডে ফেরার দরজা প্রায় বন্ধই মনে হয়। চলুন, জেনে নিই সেই টার্নিং পয়েন্ট যেটা গোবিন্দার পতনের শুরু করেছিল আর কেন তাঁর কামব্যাক এখন একটা স্বপ্ন হয়ে গিয়েছে।
1/7
বলিউডে যদি কেউ সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এক নম্বর খেতাব ধরে রেখে থাকেন, তবে তিনি হলেন গোবিন্দা। এ কথা শুধু তাঁর নম্বর ওয়ান দেওয়া ছবির নামের ক্ষেত্রেই সত্যি নয়, বরং আসল বিষয় হল নব্বইয়ের দশকে গোবিন্দার জাদু— ছবির গানে তাঁর নাচ, কৌতুক অভিনয়ের দক্ষতা এমনই ছিল যে, তাঁর তুলনায় খান বা কাপুররাও ম্লান হয়ে যেতেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। প্রায় নয় বছর আগে বক্স অফিসে এমন এক মোড় আসে যা গোবিন্দার বর্ণাঢ্য কেরিয়ার একেবারেই শেষ করে দিয়েছে বললে খুব একটা ভুল হবে না। একটি ভুল, একটি ছবি এবং কয়েকটি ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত তাঁকে মূলধারার ইন্ডাস্ট্রি থেকে স্থায়ীভাবে নির্বাসিত করে দেয়। বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক কীভাবে একজন সুপারস্টারের পতন ঘটল এবং কেন আজ বলিউডে তাঁর ফিরে আসা অসম্ভব বলেই মনে হয়!
বলিউডে যদি কেউ সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এক নম্বর খেতাব ধরে রেখে থাকেন, তবে তিনি হলেন গোবিন্দা। এ কথা শুধু তাঁর নম্বর ওয়ান দেওয়া ছবির নামের ক্ষেত্রেই সত্যি নয়, বরং আসল বিষয় হল নব্বইয়ের দশকে গোবিন্দার জাদু— ছবির গানে তাঁর নাচ, কৌতুক অভিনয়ের দক্ষতা এমনই ছিল যে, তাঁর তুলনায় খান বা কাপুররাও ম্লান হয়ে যেতেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। প্রায় নয় বছর আগে বক্স অফিসে এমন এক মোড় আসে যা গোবিন্দার বর্ণাঢ্য কেরিয়ার একেবারেই শেষ করে দিয়েছে বললে খুব একটা ভুল হবে না। একটি ভুল, একটি ছবি এবং কয়েকটি ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত তাঁকে মূলধারার ইন্ডাস্ট্রি থেকে স্থায়ীভাবে নির্বাসিত করে দেয়। বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক কীভাবে একজন সুপারস্টারের পতন ঘটল এবং কেন আজ বলিউডে তাঁর ফিরে আসা অসম্ভব বলেই মনে হয়!
advertisement
2/7
গোবিন্দার কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১৪-২০১৫ সালের দিকে। তিনি ‘কিল দিল’ এবং ‘হ্যাপি এন্ডিং’-এর মতো বেশ কিছু ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন, যেগুলো বেশ প্রশংসিত হয়েছিল, কিন্তু তাঁর ভিতরের নায়ক সত্তাটিবা বলা ভাল ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার জেদ তখনও জীবিত ছিল। তিনি পার্শ্ব চরিত্র বা শুধু চরিত্রাভিনেতা হয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। এটাই ছিল সেই ভুলের শুরু, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে রুপোলি পর্দার পথ থেকে সরিয়ে দেয়।
গোবিন্দার কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ২০১৪-২০১৫ সালের দিকে। তিনি ‘কিল দিল’ এবং ‘হ্যাপি এন্ডিং’-এর মতো বেশ কিছু ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন, যেগুলো বেশ প্রশংসিত হয়েছিল, কিন্তু তাঁর ভিতরের নায়ক সত্তাটিবা বলা ভাল ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার জেদ তখনও জীবিত ছিল। তিনি পার্শ্ব চরিত্র বা শুধু চরিত্রাভিনেতা হয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। এটাই ছিল সেই ভুলের শুরু, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে রুপোলি পর্দার পথ থেকে সরিয়ে দেয়।
advertisement
3/7
২০১৭ সালে 'আ গয়া হিরো' নামের এক ছবি দিয়ে গোবিন্দা এক জমকালো প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি নিজে ছবিটির প্রযোজনা ও প্রচার করেন, কিন্তু সমস্যা ছিল যে ২০১৭ সালের দর্শক বদলে গিয়েছিল। গোবিন্দা সেই নব্বইয়ের দশকের পুরনো ফর্মুলা, সেই একই উজ্জ্বল রঙের পোশাক এবং সেই একই সেকেলে অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে আসেন, যা পুরোপুরি পুরনো মনে হচ্ছিল। ছবিটি বক্স অফিসে ফ্লপ করে, যা কার্যত প্রধান নায়ক হিসেবে গোবিন্দার কেরিয়ারের ইতি ঘটায়। এই ছবির পর যে আর্থিক সমস্যা দেখা দেয়, তা পূরণের জন্য তিনি পর পর বেশ কিছু স্বল্প বাজেটের ছবিতে কাজ শুরু করেন, যেগুলো শুধু বাজেভাবে ফ্লপই হয়নি, বরং গোবিন্দার নায়ক হিসেবে গুরুত্ব এবং মানকেও নীচে নামিয়ে দেয়। গোবিন্দার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারা।
২০১৭ সালে 'আ গয়া হিরো' নামের এক ছবি দিয়ে গোবিন্দা এক জমকালো প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি নিজে ছবিটির প্রযোজনা ও প্রচার করেন, কিন্তু সমস্যা ছিল যে ২০১৭ সালের দর্শক বদলে গিয়েছিল। গোবিন্দা সেই নব্বইয়ের দশকের পুরনো ফর্মুলা, সেই একই উজ্জ্বল রঙের পোশাক এবং সেই একই সেকেলে অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে আসেন, যা পুরোপুরি পুরনো মনে হচ্ছিল। ছবিটি বক্স অফিসে ফ্লপ করে, যা কার্যত প্রধান নায়ক হিসেবে গোবিন্দার কেরিয়ারের ইতি ঘটায়। এই ছবির পর যে আর্থিক সমস্যা দেখা দেয়, তা পূরণের জন্য তিনি পর পর বেশ কিছু স্বল্প বাজেটের ছবিতে কাজ শুরু করেন, যেগুলো শুধু বাজেভাবে ফ্লপই হয়নি, বরং গোবিন্দার নায়ক হিসেবে গুরুত্ব এবং মানকেও নীচে নামিয়ে দেয়। গোবিন্দার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারা।
advertisement
4/7
এমনকি যখন তাঁর সহ-অভিনেতা অনিল কাপুর এবং সঞ্জয় দত্ত নিজেদের বয়সের সঙ্গে মানানসই গুরুগম্ভীর ও শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করছিলেন, গোবিন্দা তখনও ২৫ বছর বয়সী চরিত্রে অভিনয় করার জন্য জেদ ধরে ছিলেন। এমনও বলা হয় যে, তিনি শুধুমাত্র একক প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন না বলেই বেশ কয়েকটি বড় প্রজেক্ট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর 'না' বলার এবং সেটে দেরিতে পৌঁছানোর অভ্যাস নামকরা পরিচালকদের তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল।
এমনকি যখন তাঁর সহ-অভিনেতা অনিল কাপুর এবং সঞ্জয় দত্ত নিজেদের বয়সের সঙ্গে মানানসই গুরুগম্ভীর ও শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করছিলেন, গোবিন্দা তখনও ২৫ বছর বয়সী চরিত্রে অভিনয় করার জন্য জেদ ধরে ছিলেন। এমনও বলা হয় যে, তিনি শুধুমাত্র একক প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন না বলেই বেশ কয়েকটি বড় প্রজেক্ট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর 'না' বলার এবং সেটে দেরিতে পৌঁছানোর অভ্যাস নামকরা পরিচালকদের তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল।
advertisement
5/7
এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, 'পার্টনার'-এর পর তিনি কেন সমর্থন পাননি? ২০০৭ সালের ‘পার্টনার’ ছবিটি ছিল গোবিন্দার কেরিয়ারের শেষ বড় ব্লকবাস্টার। সলমন খানের সঙ্গে তাঁর জুটি ব্যাপক হিট হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল যে এই সলমন-গোবিন্দা জুটি টিকে থাকবে, কিন্তু মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পারস্পরিক মতবিরোধ এবং পেশাগত পার্থক্যের কারণে এই জুটির বিচ্ছেদ ঘটে। এর পর গোবিন্দা ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারে একা হয়ে যান। ইন্ডাস্ট্রির এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও শিবিরের যুগে কোনও বড় ব্যানারের সমর্থন ছাড়া গোবিন্দার সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে।ফিরে আসার চেষ্টা যে তিনি করেননি, এমনটা কিন্তু নয়! কিন্তু সেখানেও ভাগ্য বিরূপ হয়- প্রত্যাবর্তনের চেষ্টাকালে গোবিন্দা প্রায়শই বিতর্কে জড়িয়ে পড়তেন।
এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, 'পার্টনার'-এর পর তিনি কেন সমর্থন পাননি? ২০০৭ সালের ‘পার্টনার’ ছবিটি ছিল গোবিন্দার কেরিয়ারের শেষ বড় ব্লকবাস্টার। সলমন খানের সঙ্গে তাঁর জুটি ব্যাপক হিট হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল যে এই সলমন-গোবিন্দা জুটি টিকে থাকবে, কিন্তু মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পারস্পরিক মতবিরোধ এবং পেশাগত পার্থক্যের কারণে এই জুটির বিচ্ছেদ ঘটে। এর পর গোবিন্দা ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারে একা হয়ে যান। ইন্ডাস্ট্রির এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও শিবিরের যুগে কোনও বড় ব্যানারের সমর্থন ছাড়া গোবিন্দার সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে ওঠে।ফিরে আসার চেষ্টা যে তিনি করেননি, এমনটা কিন্তু নয়! কিন্তু সেখানেও ভাগ্য বিরূপ হয়- প্রত্যাবর্তনের চেষ্টাকালে গোবিন্দা প্রায়শই বিতর্কে জড়িয়ে পড়তেন।
advertisement
6/7
এর মধ্যে ছিল তাঁর ভাগ্নে কৃষ্ণা অভিষেকের সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ এবং প্রাক্তন পরিচালকদের (যেমন ডেভিড ধাওয়ান) বিরুদ্ধে তাঁর কাটা-কাটা মন্তব্য। এই বিতর্কগুলো তাঁর ভাবমূর্তিকে একজন বিনোদনদাতা থেকে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করে দেয়। বড় পর্দা থেকে সরে আসেন গোবিন্দা ছোট পর্দায়, দর্শকরা তাঁকে সিনেমার চেয়ে ডান্স রিয়্যালিটি শোগুলোর বিচারক হিসেবেই বেশি দেখতে শুরু করে, যা তাঁর চলচ্চিত্র তারকাখ্যাতিকে আরও ম্লান করে দেয়।
এর মধ্যে ছিল তাঁর ভাগ্নে কৃষ্ণা অভিষেকের সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ এবং প্রাক্তন পরিচালকদের (যেমন ডেভিড ধাওয়ান) বিরুদ্ধে তাঁর কাটা-কাটা মন্তব্য। এই বিতর্কগুলো তাঁর ভাবমূর্তিকে একজন বিনোদনদাতা থেকে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত করে দেয়। বড় পর্দা থেকে সরে আসেন গোবিন্দা ছোট পর্দায়, দর্শকরা তাঁকে সিনেমার চেয়ে ডান্স রিয়্যালিটি শোগুলোর বিচারক হিসেবেই বেশি দেখতে শুরু করে, যা তাঁর চলচ্চিত্র তারকাখ্যাতিকে আরও ম্লান করে দেয়।
advertisement
7/7
যদিও এটা অস্বীকার করা যাবে না যে নয় বছর পরেও গোবিন্দার ভক্তরা অধীর আগ্রহে তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, কিন্তু বলিউডের বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। আজকের চলচ্চিত্রগুলো চিত্রনাট্য-নির্ভর, যেখানে প্রতিভা এবং দর্শকের সঙ্গে একাত্মতা অপরিহার্য। প্রতিভা তো তাঁর আছেই, এবার যদি গোবিন্দা তাঁর নায়কোচিত ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে অমিতাভ বচ্চনের মতো 'গুলাবো সিতাবো' বা 'পা'-এর মতো কোনও শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেন, তবে হয়তো তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হতেও পারে!
যদিও এটা অস্বীকার করা যাবে না যে নয় বছর পরেও গোবিন্দার ভক্তরা অধীর আগ্রহে তাঁর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, কিন্তু বলিউডের বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। আজকের চলচ্চিত্রগুলো চিত্রনাট্য-নির্ভর, যেখানে প্রতিভা এবং দর্শকের সঙ্গে একাত্মতা অপরিহার্য। প্রতিভা তো তাঁর আছেই, এবার যদি গোবিন্দা তাঁর নায়কোচিত ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলে অমিতাভ বচ্চনের মতো 'গুলাবো সিতাবো' বা 'পা'-এর মতো কোনও শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেন, তবে হয়তো তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হতেও পারে!
advertisement
advertisement
advertisement