UGC Equity Regulations 2026 বিষয়টি কী? দেশ জুড়ে এটি নিয়ে হট্টগোল, কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠছে প্রতিবাদ জানুন বিশদে
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
What Are the UGC Equity Regulations 2026: ইউজিসি-র পক্ষ থেকে ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন’ রেগুলেশনের অধীনে একাধিক বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু জাতি পরিচয় নয়, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা অন্য যে কোনও রকম পরিচয়ভিত্তিক অসাম্য দূর করতেই উদ্যোগী হতে বলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে।
দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি নতুন বিধি এখন রাজনীতি, সমাজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের একটি প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) কর্তৃক বাস্তবায়িত Equality Regulations 2026 সামাজিক ন্যায়বিচারের দিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হলেও দেশের অনেক অংশে এর তীব্র বিরোধিতাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উচ্চবর্ণের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা এই বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি এখন রাজনৈতিক রূপ ধারণ করতে শুরু করেছে।
advertisement
ইউজিসি এবং এর নতুন নিয়ম কী? বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন হল দেশের উচ্চশিক্ষার মান, সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী শীর্ষ সংস্থা। কমিশন ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে Equality Regulations 2026 বাস্তবায়ন করেছে। এই বিধিমালার উদ্দেশ্য হল ক্যাম্পাসগুলিতে বর্ণবৈষম্য রোধ করা এবং সমাজের সকল শ্রেণীর জন্য সমান, নিরাপদ এবং সম্মানজনক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা।
advertisement
নতুন আইনে কী কী পরিবর্তন এসেছে? এতদিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্ণবৈষম্য সম্পর্কিত অভিযোগগুলি মূলত SC এবং ST সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়ম অনুসারে, OBC-দেরও স্পষ্টভাবে বর্ণ বৈষম্যের বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হল OBC ছাত্র, শিক্ষক এবং কর্মচারীরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে হয়রানি বা বৈষম্যের অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কী কী বাধ্যতামূলক হবে? নতুন নিয়ম অনুসারে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজকে এখন SC, ST এবং OBC-দের জন্য একটি সমান সুযোগ সেল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একটি সমতা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিতে OBC, মহিলা, SC, ST এবং প্রতিবন্ধী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কমিটি প্রতি ছয় মাস অন্তর একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং UGC-তে জমা দেবে। UGC বলেছে যে এটি অভিযোগ পর্যবেক্ষণ, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।
advertisement
উচ্চবর্ণের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি কেন প্রতিবাদ করছে? এই বিধি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের অনেক জায়গায় উচ্চবর্ণের সংগঠনগুলির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে আইনটির অপব্যবহার করা হতে পারে এবং উচ্চবর্ণের ছাত্র ও শিক্ষকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। জয়পুরে করণি সেনা, ব্রাহ্মণ মহাসভা, কায়স্থ মহাসভা এবং বৈশ্য সংগঠনগুলি এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য সবর্ণ সমাজ সমন্বয় কমিটি (S-4) গঠন করেছে।
advertisement
উত্তরপ্রদেশে কেন উত্তেজনা তীব্রতর হল? এই বিষয়টি উত্তরপ্রদেশে বিশেষভাবে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। গাজিয়াবাদের দাসনা পীঠের প্রধান যতি নরসিংহানন্দ গিরি প্রকাশ্যে ইউজিসি নিয়মের বিরোধিতা করেছেন। তিনি যন্তর মন্তরে অনশন করার জন্য দিল্লি যাচ্ছিলেন, কিন্তু গাজিয়াবাদে পুলিশ তাঁকে থামিয়ে আটক করে। পরবর্তীতে তিনি যোগী সরকারকে উচ্চবর্ণের কণ্ঠস্বর দমন করার অভিযোগ করেন, যার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
advertisement
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন যুদ্ধ শুরু হল? এই বিধি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। অনেক ইউটিউবার, প্রভাবশালী এবং উচ্চবর্ণের কর্মীরা এটিকে উচ্চবর্ণ বিরোধী আইন বলে অভিহিত করছেন। স্বামী আনন্দ স্বরূপের ভিডিওতে উচ্চবর্ণ সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানোর পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এদিকে, সামাজিক ন্যায়বিচারের সমর্থকরা এটিকে সাম্য ও সম্মান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি প্রয়োজনীয় সংস্কার বলে অভিহিত করছেন।
advertisement
পরিসংখ্যান কী বলছে, সত্যিই কি এর দরকার ছিল? সংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টে ইউজিসি কর্তৃক উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, গত পাঁচ বছরে বর্ণ বৈষম্যের অভিযোগ ১১৮.৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯-২০ সালে ১৭৩টি অভিযোগ থেকে ২০২৩-২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ৩৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। ৭০৪টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১,৫৫৩টি কলেজ থেকে মোট ১,১৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ইউজিসি নতুন নিয়মের পক্ষে এই তথ্যগুলিকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করছে।
advertisement
উচ্চবর্ণের শ্রেষ্ঠত্ব বনাম সামাজিক ন্যায়বিচারের বিতর্ক: সমালোচকরা বলছেন যে আইনটি উচ্চবর্ণের লোকদের টার্গেট করে তৈরি করা হয়েছে, অন্য দিকে, সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের সংখ্যা ১৫ শতাংশেরও কম। ৩৬ বছর আগে SC/ST অত্যাচার প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা সত্ত্বেও হয়রানির ঘটনা বন্ধ হয়নি। তাই, তাঁরা UGC-এর এই পদক্ষেপকে একটি প্রয়োজনীয় সংস্কার হিসেবে দেখছেন।
advertisement
শিক্ষার প্রভাব কি রাজনীতিতে পৌঁছাবে? ইউজিসির নতুন নিয়মকানুন কেবল শিক্ষাগত সংস্কার নয়, বরং একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। ২০২৭ সালের ইউপি নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি তীব্রতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশ্ন হল এই আইনটি কি সত্যিই সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হবে না কি এটি সামাজিক মেরুকরণকে আরও গভীর করবে! আগামী মাসগুলিতে এর প্রভাব কেবল ক্যাম্পাসেই নয়, নির্বাচনী রাজনীতিতেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






