Gold Rate: মার্কিন হামলার কারণে সোনার দাম হঠাৎ করে ধসে পড়েছে ! জানুন বাজার কোন দিকে যাচ্ছে
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
যে সোনার দাম সবসময় আকাশছোঁয়া ছিল, তার এই দরপতন কেন হচ্ছে? এটি কি সোনা কেনার জন্য ভাল সময়? জেনে নেওয়া যাক।
সোনার দর হঠাৎ করেই পড়ে গিয়েছে। এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রুপোর দামও একই পথে যাচ্ছে এবং তীব্রভাবে কমেছে। যে সোনার দাম সবসময় আকাশছোঁয়া ছিল, তার এই দরপতন কেন হচ্ছে? এটি কি সোনা কেনার জন্য ভাল সময়? জেনে নেওয়া যাক। ইকোনমিক টাইমসের মতে, বুধবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্পট সোনার দাম একদিনে প্রায় ৩.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৮৪৪ ডলারে নেমে এসেছে। (Photo: Representative/AI Image)
advertisement
গত ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বনিম্ন দাম। শুধু সোনাই নয়, রুপোর দামও ৪ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এই মূল্য হ্রাসের প্রধান কারণ হল মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশগুলোর জন্য সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে চাহিদা কমে যায় এবং দাম হ্রাস পায়। একদিকে ডলারের শক্তিশালী হওয়া এবং অন্য দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি সোনার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। (Photo: Representative/AI Image)
advertisement
অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে এবং তা মুদ্রাস্ফীতিকে প্রভাবিত করে। সুদের হার বিষয়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে বিনিয়োগকারীরা সুদের হার দ্রুত কমার আশা করছিলেন, তাঁরা হতাশ হচ্ছেন। যখন সুদের হার বেশি থাকে, তখন বিনিয়োগকারীরা সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের চেয়ে সুদযুক্ত বন্ড বা অন্যান্য আমানত বেশি পছন্দ করেন। ফলে, বাজারে সোনার বিক্রি বাড়ছে এবং দাম কমছে। বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সুদের হার আরও কিছুকাল একই থাকবে। (Photo: Representative/AI Image)
advertisement
পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনা বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান হামলা সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করছে। যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে সাধারণত সোনার দাম বাড়ে। কিন্তু এবার শক্তিশালী ডলার এবং সুদের হারের প্রভাবে যুদ্ধের ভয়ও সোনাকে বাঁচাতে পারেনি। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে ওঠায় বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান খরচ অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। (Photo: Representative/AI Image)
advertisement
আমেরিকা থেকে আসা অর্থনৈতিক তথ্যও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এটা স্পষ্ট যে মুদ্রাস্ফীতি কমছে না, কারণ উৎপাদক মূল্য সূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। এমন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো সুদের হার কমাতে ইচ্ছুক নয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুদের হার না কমলে সোনার দামের পুনরুদ্ধার কঠিন হবে। বাজারের মনোভাব পুরোপুরি বিক্রির দিকে ঝুঁকে পড়ায় ধাতুটির দাম কমছে। (Photo: Representative/AI Image)
advertisement
এখন প্রশ্ন হল ভবিষ্যতে সোনার দাম কেমন হবে! মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো সুদের হার না কমালে সোনার দাম আবার বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সবাই আবার সোনাকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখবে। কেবল তখনই দাম স্থিতিশীল হবে। এই মুহূর্তে বাজারে অনেক অস্থিরতা রয়েছে, তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত। (Photo: Representative/AI Image)
advertisement
যাঁরা সোনা কিনতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি ভাল সুযোগ- তবে ধাপে ধাপে কেনা লাভজনক। একবারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ না করে বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে ধীরে ধীরে এগোনোই শ্রেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং সুদের হারের সিদ্ধান্তগুলো অনুসরণ করতে থাকলে লোকসান নাও হতে পারে। গহনা ক্রেতাদের জন্য অবশ্য এই মূল্যহ্রাসকে একটি বড় স্বস্তি বলা যেতে পারে। (Photo: Representative/AI Image)







