EPF vs PPF: ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর ১.২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে আপনি কত রিটার্ন পাবেন?
- Reported by:Trending Desk
- Published by:Dolon Chattopadhyay
Last Updated:
EPF vs PPF: ১৫ বছর ধরে বছরে ১.২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে চান? EPF ও PPF-এর মধ্যে তুলনা করে জেনে নিন কোথায় বেশি রিটার্ন ও নিরাপত্তা মিলবে।
অবসরকালীন পরিকল্পনা ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকেই একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য সরকার-সমর্থিত সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করে থাকেন। এর মূল কারণ হল নিরাপত্তা। একটা কথা আর আলাদা করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না যে বিনিয়োগ মানেই হল টাকা বাড়ানো। তার জন্য একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ দরকার হয়। কিন্তু অবসর গ্রহণ করার পর এই নিয়ে ঝুঁকি গ্রহণ করার ক্ষমতা কমে আসে। তখন এমন বিনিয়োগ প্রকল্পই আদর্শ হয়ে ওঠে যা এক দিকে যেমন বিশাল রিটার্ন দেবে, ঠিক তেমনই আবার অন্য দিকে সঞ্চয়ের নিরাপত্তাও বজায় রাখবে।
advertisement
এই সব দিক বিবেচনা করে দেখলে অবসরকালীন প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) এবং পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)। উভয় প্রকল্পই দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের সুযোগ দেয় এবং কর সুবিধাও প্রদান করে। তবে, যোগ্যতা এবং সুদের হারে পার্থক্য রয়েছে। যদি কোনও বিনিয়োগকারী ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর ১.২ লাখ টাকা (অর্থাৎ প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা) বিনিয়োগ করেন, তাহলে কোন প্রকল্পটি থেকে বেশি লাভ পাওয়া যাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
advertisement
EPF কীএমপ্লয়ি প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) হল একটি অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্প, যা মূলত সংগঠিত খাতে কর্মরত বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) দ্বারা পরিচালিত হয়। এই প্রকল্পের অধীনে, কর্মচারীরা তাঁদের মূল বেতন এবং মহার্ঘ ভাতার (DA) ১২% তাঁদের EPF অ্যাকাউন্টে জমা করেন। নিয়োগকর্তাও সমপরিমাণ অর্থ জমা দেন, যদিও তার একটি অংশ পেনশন তহবিলে জমা হয়। EPF অ্যাকাউন্টের সুদের হার প্রতি বছর ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে, ইপিএফ-এ বার্ষিক ৮.২৫% হারে সুদ পাওয়া যায়। এই স্কিমটি কর্মচারীদের সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি উল্লেখযোগ্য অবসরকালীন তহবিল তৈরি করতে সাহায্য করে। তবে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আংশিক টাকা তোলার (শিক্ষা, বিবাহ বা বাড়ি কেনার জন্য) অনুমতি রয়েছে।
advertisement
PPF কীপাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিপিএফ) হল সরকার-সমর্থিত একটি দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় প্রকল্প। ইপিএফ-এর মতো নয়, এই স্কিমটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। বেতনভোগী কর্মচারী, স্ব-নিযুক্ত ব্যক্তি এবং এমনকি বাবা-মায়েরাও তাদের সন্তানদের নামে এতে বিনিয়োগ করতে পারেন। একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে খোলা যেতে পারে। বর্তমানে, এই স্কিমটি বার্ষিক ৭.১% হারে সুদ প্রদান করে, যা সরকার কর্তৃক পর্যায়ক্রমে সংশোধন করা হয়। এই স্কিমটির একটি ১৫ বছরের লক-ইন পিরিয়ড রয়েছে। তবে, কয়েক বছর পর আংশিক টাকা তোলা এবং ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
advertisement
advertisement
advertisement
কী কী কর সুবিধা পাওয়া যায়আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী, উভয় স্কিমে করা বিনিয়োগ ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের যোগ্য। এছাড়াও, নির্দিষ্ট কিছু শর্তে সুদ এবং ম্যাচিউরিটির পরিমাণ করমুক্ত।বিনিয়োগের উদাহরণ: ১৫ বছরের জন্য প্রতি বছর ১.২ লাখ টাকাযদি কোনও বিনিয়োগকারী ১৫ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা (অর্থাৎ প্রতি বছর ১.২ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করেন, তাহলে উভয় প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ একই হবে।
advertisement
ইপিএফ থেকে সম্ভাব্য আয়যদি বিনিয়োগে বার্ষিক ৮.২৫% সুদ পাওয়া যায়, তাহলে ১৫ বছর পর মোট তহবিল হবে আনুমানিক: ৩৫,৯৬,৪৪৫ টাকা (আনুমানিক ৩৫.৯৬ লক্ষ টাকা)। এর মধ্যে মূলধন বিনিয়োগ এবং সুদ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।পিপিএফ থেকে সম্ভাব্য আয়যদি একই পরিমাণ টাকা পিপিএফ-এ বার্ষিক ৭.১% সুদের হারে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে ১৫ বছর পর ম্যাচিউরিটির পরিমাণ হবে আনুমানিক ৩২,৫৪,৫৬৭ টাকা (আনুমানিক ৩২.৫৪ লক্ষ টাকা)।
advertisement







