এই ভারতীয় ব্যক্তির কাছে ১৬,০০০ কেজি সোনা আছে ! তিনি আগামী দিনে কী করবেন তাও প্রকাশ করেছেন
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, যে তাঁর কাছে প্রায় ১৬,০০০ কিলোগ্রাম সোনা মজুদ রয়েছে।
কেরলের ত্রিশুরের একটি সাধারণ রাস্তায় অবস্থিত ছিল মাত্র ২০০ বর্গফুট আয়তনের একটি ছোট গয়নার দোকান। সেই দোকান থেকেই শুরু হয়েছিল এক ছেলের গল্প, যে পরবর্তীতে ভারতের বৃহত্তম গয়না সাম্রাজ্য গড়ে তুলবে। যে ছেলেটি তাঁর বাবার সঙ্গে সেই ছোট দোকানে কাজ করত, সে এখন হাজার হাজার কিলোগ্রাম সোনার মালিক এবং তাঁর ব্র্যান্ড বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। আজ, তিনি জয় আলুক্কাস (Joy Alukkas) নামে পরিচিত। ভারতের অন্যতম ধনী জুয়েলার। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে তাঁর কাছে প্রায় ১৬,০০০ কিলোগ্রাম সোনা মজুদ রয়েছে।
advertisement
advertisement
বর্তমানে তাঁর কাছে ১৬,০০০ কেজি সোনা রয়েছে, যা তাঁর কোম্পানির কৌশলকে প্রতিফলিত করে: ‘‘যখনই অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়, সোনা একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে।’’ জয় বিশ্বাস করেন যে বিশ্বব্যাপী ইভেন্টগুলি সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৫০০-৫,৬০০ ডলারে ঠেলে দিতে পারে। এটি ভারতের গয়না বাজারের জন্য সুখবর, যেখানে উৎসবের মরশুমে সবসময় চাহিদা বেশি থাকে। বর্তমানে (মার্চ ২০২৬), দিল্লিতে সোনার দাম প্রায় ১,৬১,০০০ টাকা। জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে, নিকট ভবিষ্যতে এটি ১.৭৬ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
advertisement
জয় আলুকাসের সাফল্যের গল্প: জয় আলুক্কাসের জন্ম ১৯৫৬ সালের ২৯ অক্টোবর কেরলের ত্রিশুরের একটি বৃহৎ পরিবারে। তিনি ১৫ ভাইবোনের পরিবারের ১১তম সন্তান ছিলেন। তাঁর বাবা, আলুক্কা জোসেফ ভার্গিস, একজন সাধারণ জুয়েলার ছিলেন যিনি ১৯৫৬ সালে ত্রিশুরে একটি ছোট গয়নার দোকান খুলেছিলেন। তখন এটি কোনও অভিনব শোরুম ছিল না, বরং স্থানীয় কারিগরদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ ভারতীয় গয়না বিক্রির একটি সাধারণ দোকান ছিল।
advertisement
অল্প বয়সেই জয় তাঁর পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং পারিবারিক ব্যবসায় সাহায্য করতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলিতে ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাশাহির আবুধাবিতে তাঁর প্রথম বিদেশি দোকান খোলেন। এই পদক্ষেপটি সেই সময়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হত, কারণ বেশিরভাগ ভারতীয় গয়না ব্যবসা ছোট পারিবারিক ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
advertisement
জয় পেশাগতভাবে ব্যবসার প্রসার ঘটান। তিনি ব্র্যান্ডিংয়ের উপর জোর দেন, বলিউড তারকাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ করেন এবং গুণমানকে অগ্রাধিকার দেন। এর ফলে জয়ালুক্কাস বিশ্বের প্রথম গয়না চেইন হয়ে ওঠে যা ISO ৯০০১ এবং ১৪০০১ সার্টিফিকেশন পেয়েছে। আজ, ব্র্যান্ডটি বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি গয়না চেইনগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে, যার ১২টি দেশে ১৯০টিরও বেশি শোরুম রয়েছে।
advertisement
কোটি কোটি টাকার সম্পদ এবং ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য: ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার তালিকা অনুসারে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে জয় আলুক্কাসের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৫.২ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৩,০০০-৪৫,০০০ কোটি টাকা। তিনি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮২০তম স্থানে রয়েছেন। ২০২৫ সালের এক পর্যায়ে, তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা তাঁকে সবচেয়ে ধনী মলয়ালি করে তুলেছিল। হারুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৫ তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৮৮,৪৩০ কোটি টাকা বলে অনুমান করেছিল, যা তাঁকে তালিকায় ২৪তম স্থানে রেখেছে।
advertisement
advertisement
advertisement
১৯৮৭ সালে আবুধাবিতে প্রথম স্টোর খোলার পর কোম্পানিটি উপসাগরীয় দেশগুলিতে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ১৯৯০-এর দশকে, সৌদি আরব, ওমান এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। ২০০০-এর দশকে, ভারতে বড় বড় শোরুম খোলা শুরু হয়, যা ব্র্যান্ডের পরিচয়কে শক্তিশালী করে। আজ, জয়ালুক্কাস গ্রুপ হাজার হাজার কর্মচারী নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করে। কোম্পানিটি অনলাইন বিক্রয়, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং এবং টেকসই ব্যবসায়িক মডেলের মতো উদ্ভাবনও চালু করেছে। জয়ের ছেলে জন পল এখন আন্তর্জাতিক ব্যবসার দায়িত্বে আছেন।







