Sleeping Habits: রোজ রাত ৩টে ঘুম ভেঙে যায়? এর পিছনের কারণ জানেন?
- Published by:Soumendu Chakraborty
Last Updated:
Sleeping Habits: প্রতিদিন রাত ৩টায় হঠাৎ ঘুম ভাঙছে? কারণটি জানা থাকলে জীবন সহজ হবে!
আপনি কি নিয়মিত রাত ৩টায় জেগে যাচ্ছেন? এটি শুধু আকস্মিক নয়—আপনার শরীর ও মনের কোনো সংকেত হতে পারে। কারণ হতে পারে স্ট্রেস, হরমোন পরিবর্তন, শনি প্রভাব, বা ঘরের পরিবেশ। এই সমস্যা উপেক্ষা করলে ঘুমের মান ও স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Sleeping Habits: যেমন কেউ ডাকছে, তেমনই রাত ৩টায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়! রাতের গভীরতা, চারপাশে গাঢ় অন্ধকার আর পুরো পৃথিবী নিদ্রায়—but আপনি হঠাৎ সম্পূর্ণ জেগে ওঠেন। এটি কোনো সাদৃশ্যিক ঘটনা নয়। আপনার শরীর, মন বা এমনকি গ্রহেরা আপনাকে কিছু বলার চেষ্টা করছে। আসুন জানি, কেন কিছু মানুষের রাতের ঠিক ৩টায় হঠাৎ মেলক লাগতে থাকে।
advertisement
আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ: হঠাৎ বন্ধুত্বের ফাঁক ও নেতিবাচক পরিস্থিতি—এ কি ‘সাড়ে সাতে’ প্রভাব? সাধারণত আমরা কোনো সাফল্য অর্জন করলে আশেপাশের মানুষরা খুশি হয় এবং অভিনন্দন জানায়। কিন্তু হঠাৎ বন্ধুদের সংখ্যা কমে যায়, ফোন আসা কমে যায়, সহকর্মীদের কথায় ঠোঁটের তীব্রতা বা বিদ্বেষ প্রকাশ পায়। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, এটি শনি দেবতার প্রভাব বা 'সাড়ে সাতে' (Sade Sati) হিসেবে দেখা যেতে পারে। এটি আপনার কর্ম ও ধৈর্য পরীক্ষা করার সময়। আপনার সাফল্য অন্যদের কষ্ট বা ব্যর্থতার তুলনা হিসেবে প্রদর্শিত হতে পারে, যার ফলে ঈর্ষা ও নেতিবাচক শক্তি আপনার দিকে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু তাদের কষ্ট তাদের কর্মফল—এটি নিজের উপর নেওয়া উচিত নয়। এ বিষয়টি বোঝার মাধ্যমে আপনি নিজের মানসিক শান্তি পেতে পারেন।
advertisement
রাতের মধ্যভাগে হঠাৎ ঘুম ভাঙা? মেডিক্যাল কারণ হলো ‘মেইনটেন্যান্স ইনসোমনিয়া’ মেডিক্যাল ভাষায় এটিকে ‘মেইনটেন্যান্স ইনসোমনিয়া’ বলা হয়। অর্থাৎ, ঘুম আসতে সহজ হলেও রাতের মাঝের দিকে হঠাৎ জেগে পড়া এবং পুনরায় ঘুমাতে কষ্ট হওয়া। প্রধান কারণ হলো চাপ ও স্ট্রেস। যখন আপনি শুয়ে থাকেন, আপনার মস্তিষ্কে চিন্তার স্রোত চলতে থাকে—অফিসের ডেডলাইন, EMI-এর চাপ, পারিবারিক মতবিরোধ ইত্যাদি। এই চাপ ‘কোর্টিসল’ হরমোন বাড়িয়ে আপনার ডিপ স্লিপ সাইকেলকে ভেঙে দেয়।
advertisement
বয়স বাড়ার সঙ্গে ঘুম কম হওয়া স্বাভাবিক, বিশেষ করে মহিলাদের জন্য বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের সময় কমে যাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বিশেষ করে মেনোপজের সময়, ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অর্ধরাতে ঘামে ভিজে যাওয়া বা হঠাৎ ঘুম ভাঙা হতে পারে। এটি আপনার দুর্বলতা নয়—শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ।
advertisement
বেডরুমের পরিবেশও রাতে ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে আপনি না-চেনার মতোভাবে ঘরের পরিবেশ আপনার ঘুমকে প্রভাবিত করতে পারে। জানালার ভেতর থেকে আসা রাস্তার আলো, সঙ্গীর নিঃশ্বাস, বা ঘরের তাপমাত্রা ঠিক না থাকা—এসব হঠাৎ ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে। এছাড়াও শোবার আগে ফোনে রিলস স্ক্রোল করলে মস্তিষ্ককে ‘এখনও দিন চলছে’ বলে ভুল সংকেত যায়। ফলে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও যদি বালিশ ঠিকভাবে না থাকে, তবে গলার নার্ভে চাপ পড়ে এবং ঘুমের রুটিনে প্রভাব পড়ে। ছোট ছোট পরিবর্তনই রাতের ঘুমের মান উন্নত করতে বড় সাহায্য করতে পারে।
advertisement
ওষুধ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ঘুম পাওয়ার সহজ উপায় ঘুমের সমস্যার জন্য ওষুধ ব্যবহার স্থায়ী সমাধান নয়। সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো CBT-I (কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি) পদ্ধতি, যা আপনার চিন্তাভাবনা ও অভ্যাস পরিবর্তনে সাহায্য করে। কিছু কার্যকর টিপস: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করা দুপুরের পরে কফি বা চা এড়ানো শোবার আগে কয়েক মিনিট ‘ডিপ ব্রিদিং’ করা, যা হার্ট রেট কমায় এবং মস্তিষ্ককে ‘সব ঠিক আছে’ সংকেত দেয় এভাবে আপনার ঘুম আরও গভীর ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
advertisement
advertisement
বিজ্ঞান ও আধ্যাত্ম—দুটোই একই সত্যের দুই দিক রাত ৩টায় হঠাৎ ঘুম ভাঙা বা চারপাশের মানুষের ঈর্ষা—এগুলো আলাদা মনে হলেও মূল লজিক একটাই। আপনার মনের ভিতরে কোনো অস্থিরতা রয়েছে। এটি হতে পারে শনি প্রভাবের কারণে, বা কোর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে। ফলাফল—ঘুমের ব্যাঘাত। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নিজের স্বাস্থ্য যত্ন নিন, নেতিবাচক চিন্তা ছাড়ুন—এবং শান্তিপূর্ণ ঘুম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে।










