Success Story: অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসেছিল স্কুল, সেই ছেলেই হয়ে উঠল বিশ্ববিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী! দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলেন সূর্যের ব্যাস মেপে
- Reported by:Ranjan Chanda
- Published by:Nayan Ghosh
Last Updated:
West Medinipur Success Story: যে মুহূর্তে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়, সেখান থেকেই নারায়ণ চন্দ্র রানার সাফল্যের শুরু। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে শুরু হয় তার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লড়াই। এই জ্যোতির্বিজ্ঞানী সূর্যের ব্যাস নির্ণয় করে সাড়া ফেলেছিলেন।
দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: সামান্য মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া নারায়ণ চন্দ্র রানা ছোটবেলাতেই হারিয়েছিলেন তাঁর বাবাকে। সেই কঠিন সময়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না। আর্থিক অনটন ও পারিবারিক সংকটের মধ্যেই একসময় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তবে তাঁর মেধা ও অধ্যবসায় চিনে নিয়ে এগিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাঁদের সহায়তায় নতুন করে শুরু হয় নারায়ণ চন্দ্র রানার শিক্ষাজীবন, যা পরবর্তীকালে তাঁকে বিশ্ববিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানীর আসনে প্রতিষ্ঠিত করে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন-২ ব্লকের সাউরি গ্রামে জন্ম এই প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও কৌতূহলী। ১৯৬৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি সমগ্র রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। সাউরি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি কলকাতায় পাড়ি দেন এবং সেখানকার নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যা নিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ গড়ে ওঠে।
advertisement
আরও পড়ুন: ছত্তিশগড় থেকে পুরুলিয়া স্টেশনে নামল চার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, শেষে বদলে গেল রুট ম্যাপ! কোন কোন জেলায় যাচ্ছে দেখুন
জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য সূর্যের ব্যাস নির্ণয়। সূর্যগ্রহণের সময় বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে তিনি সূর্যের সঠিক ব্যাস মাপতে সক্ষম হন, যা সেই সময়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৯৫ সালে রাজস্থানের দিল্লি-জয়পুর হাইওয়েতে প্রায় ৮ কিলোমিটার জুড়ে সারা দেশ থেকে বাছাই করা পড়ুয়াদের নিয়ে এক অভিনব পরীক্ষার মাধ্যমে সূর্যের ব্যাস নির্ণয় করেন তিনি। নতুন ও নির্ভুল পদ্ধতিতে সূর্যের ব্যাস নির্ণয়কারী প্রথম ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পান।
advertisement
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গবেষণার পাশাপাশি লেখালেখিতেও তিনি সমান দক্ষ ছিলেন। ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের ওপর তাঁর লেখা বই আজও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় ‘Challenge to Astronomy’ এবং ১৯৯৭ সালে ‘Observational Planner’। এছাড়াও তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা জ্যোতির্বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান সম্পদ। একসময় যাঁর পড়াশোনা থমকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর সাফল্যের উড়ান। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে সূর্যের ব্যাস নির্ণয় করে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নারায়ণ চন্দ্র রানা। তাঁর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্য আজও সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা।
Location :
Paschim Medinipur,West Bengal
First Published :
Mar 02, 2026 2:40 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
Success Story: অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসেছিল স্কুল, সেই ছেলেই হয়ে উঠল বিশ্ববিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী! দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলেন সূর্যের ব্যাস মেপে









