West Medinipur News: ৬৮ বছরেও থামেনি সুরের সাধনা! হাতেই বাজান তিরিশের বেশি পার্কাসন যন্ত্র, মেদিনীপুরের সঙ্গীত জগতের এক অনুপ্রেরণা একাদশ পাত্র
- Reported by:Ranjan Chanda
- Published by:Sneha Paul
Last Updated:
West Medinipur News: ছোটবেলা থেকেই গান-বাজনার প্রতি ছিল অগাধ টান। প্রথাগত তালিম ছাড়াই পার্কাসন বাজানোয় দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ৬৮ বছর বয়সে এসেও নিজের প্রতিভার মাধ্যমে সকলকে মুগ্ধ করছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের শিল্পী।
নারায়নগড়, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দঃ সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলেছে। আগে যেখানে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র হাতে নিয়ে শিল্পীরা সুরের আবহ তৈরি করতেন, এখন সেখানে জায়গা নিয়েছে আধুনিক অক্টোপ্যাড ও কিবোর্ড। একটি যন্ত্রেই সহজে তৈরি হয়ে যায় নানা বাদ্যের শব্দ। তবুও এই প্রযুক্তির ভিড়ে নিজের পুরনো শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এক প্রবীণ শিল্পী। এই বৃদ্ধ যেন যুগ ও যন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নারায়ণগড় ব্লকের পঁচাশবেটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৬৮ বছরের একাদশ পাত্র। ছোটবেলা থেকেই গান-বাজনার প্রতি তাঁর গভীর টান ছিল। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২০-২২ বছর। সেই সময় তবলিয়ার পাশে বসে তাল-লয়ের পাঠ নিতেন। কখনও দেখে দেখে, কখনও আবার নিজের মনের মতো করে শিখে নেন বিভিন্ন পার্কাসন বাজানো। কোনও প্রথাগত তালিম ছাড়াই ধীরে ধীরে এই শিল্পে দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। চাকরি জীবনের পাশাপাশি চালিয়ে যেতে থাকেন শিল্পচর্চা।
advertisement
আরও পড়ুনঃ বিনামূল্যে লক্ষাধিক টাকার চিকিৎসা! ক্লাবফুট নিরাময়ে আসানসোলের হাসপাতালের সাফল্য, ভিন জেলা থেকেও ছুটে আসছে রোগীরা
এক সময় এই পার্কাসন যন্ত্রের চাহিদা ছিল খুব বেশি। সেই সময় একাদশবাবু বহু মঞ্চে শিল্পীদের সঙ্গে গানের আবহ তৈরি করেছেন। এলাকার নামী শিল্পীদের সঙ্গে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের শিল্প প্রতিভা দেখিয়েছেন। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র একসঙ্গে বাজিয়ে গানে এক আলাদা মাত্রা যোগ করতেন তিনি।
advertisement
advertisement
পেশাগতভাবে বিএলআরও দফতরে চেইন ম্যান হিসেবে কাজ করতেন একাদশবাবু। চাকরির পাশাপাশি শিল্পচর্চাও সমানভাবে চালিয়ে গিয়েছেন এই শিল্পী। এখন বয়সের ছাপ স্পষ্ট হলেও সেই আগ্রহ কমেনি। এখনও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সঙ্গে গানের আবহ তৈরি করতে দেখা যায় তাঁকে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অক্টোপ্যাডেই একসঙ্গে বহু যন্ত্রের শব্দ তৈরি করা যায়। কিন্তু একাদশবাবু এখনও প্রায় তিরিশের বেশি পার্কাসন যন্ত্র হাতে বাজান। ম্যানুয়ালি এই সব যন্ত্র বাজিয়ে তাঁর তৈরি সুর গানে আলাদা প্রাণ এনে দেয়।
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ছোটবেলায় দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন একাদশ পাত্র। ঘরে শিল্পচর্চার পরিবেশ না থাকলেও নিজের আগ্রহ ও অধ্যাবসায়ে এই শিল্প শিখেছেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, নতুন প্রজন্ম আর এই বিশেষ বাদ্যযন্ত্র শিখতে আগ্রহ দেখায় না। তবুও তাঁর বিশ্বাস, যতদিন পারবেন ততদিন এই পার্কাসনের সুর বাঁচিয়ে রাখবেন। প্রবীণ শিল্পীর এই নিষ্ঠা ও ভালবাসাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।
Location :
Paschim Medinipur,West Bengal
First Published :
Mar 07, 2026 6:18 AM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
West Medinipur News: ৬৮ বছরেও থামেনি সুরের সাধনা! হাতেই বাজান তিরিশের বেশি পার্কাসন যন্ত্র, মেদিনীপুরের সঙ্গীত জগতের এক অনুপ্রেরণা একাদশ পাত্র









