East Medinipur: দিঘার পথে ঐতিহ্যের ঠিকানা! রামনগরের কাঁসা-পিতলে আজও মুগ্ধ পূর্ব ভারত
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Riya Das
Last Updated:
East Medinipur: প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আজও হাতুড়ির শব্দে বেঁচে আছে রামনগরের প্রাচীন কাঁসা-পিতলের ঐতিহ্য। বিয়ের দানসামগ্রী, অন্নপ্রাশনের থালা-বাটি, পুজোর ঘট, ঘণ্টা কিংবা নিত্যদিনের বাসন—সব ক্ষেত্রেই রামনগরের কাঁসা–পিতলের চাহিদা তুঙ্গে।
রামনগর, মদন মাইতি: রামনগর বললেই কাঁসা–পিতল শিল্পের কথা প্রথমেই মনে পড়ে। দিঘার কাছে এই অঞ্চল বহুদিন ধরেই শিল্প ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভিন রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এখানকার সুনাম। বিশেষ করে চন্দনপুর গ্রামের কাঁসা–পিতলের কাজ আলাদা মর্যাদা পেয়েছে। বিয়ের দানসামগ্রী, অন্নপ্রাশনের থালা-বাটি, পুজোর ঘট, ঘণ্টা কিংবা নিত্যদিনের বাসন—সব ক্ষেত্রেই রামনগরের কাঁসা–পিতলের চাহিদা তুঙ্গে। মান ভাল, দাম তুলনামূলক কম। তাই ক্রেতারা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসেন। শুধু স্থানীয় বাজার নয়, পার্শ্ববর্তী এগরা, পানিপারুল ও দিঘা এলাকাতেও এই শিল্পকে ঘিরে বহু মানুষ পরোক্ষভাবে ব্যবসা করেন।
দিঘার পথে রামনগর পেরিয়ে ঠিকরা মোড় থেকে ডানদিকে কয়েক কিলোমিটার এগোলেই চন্দনপুর। এটি বাংলার প্রাচীন কাঁসা শিল্পকেন্দ্রগুলির একটি। এখানকার শিল্পীদের উপাধি রাণা বা মহারাণা। এই উপাধি ওড়িশাতেও কাঁসা শিল্পীদের মধ্যে দেখা যায়। ইতিহাস বলছে, বহু প্রজন্ম ধরে এই শিল্পচর্চা চলে আসছে। পরিবারভিত্তিক কারিগররা ছোটবেলা থেকেই কাজ শেখেন। হাতুড়ি, আগুন আর নিখুঁত মাপে গড়ে ওঠে একেকটি তৈজস। শ্রমসাধ্য এই কাজে প্রয়োজন ধৈর্য ও দক্ষতা। সেই ঐতিহ্যই আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন শিল্পীরা।
advertisement
আরও পড়ুন- ‘নগ্ন হয়ে সমুদ্রের পাড়ে ধ্যান, ওশোর কাছে সারাক্ষণ…!’ সন্ন্যাস বিনোদের গোপন রহস্য ফাঁস করলেন স্ত্রী, জানলে আঁতকে উঠবেন
চন্দনপুরের কাঁসার তৈজস নানা ধরনের। থালা, বাটি, লোটার পাশাপাশি রয়েছে পুজোর সামগ্রী। তবে চন্দনপুর অঞ্চলের বিশেষ খ্যাতি দেবতার মুণ্ড মূর্তি তৈরিতে। অনেক পুরনো বাঙালি পরিবারে এখনও দেখা যায় শুধু মুখমণ্ডল বা মুণ্ড রূপে দেব-দেবীর পুজো হয়। যেমন দুর্গা, কালী বা লক্ষ্মীর মুখ। এখন যেমন শোলার সাজে কুলোর উপর দুর্গামুখ বিক্রি হয়, তেমনি কাঁসায় তৈরি মুণ্ডও অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই মূর্তিগুলির সূক্ষ্ম কারুকাজ নজর কেড়ে নেয়। চোখ, অলঙ্কার ও অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা নিখুঁতভাবে।
advertisement
advertisement
আরও পড়ুন- ভয়ঙ্কর শক্তি বাড়ছে…! সূর্যের দৃষ্টিতে কাঁপবে দুনিয়া, ৪ রাশির সোনায় সোহাগা, অঢেল টাকা, উপচে পড়বে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, এই কাঁসার মুণ্ড দেবতাকে একটি ঘটের সঙ্গে যুক্ত করার অভিনব রীতি। এতে তৈরি হয় এক অনন্য শিল্পরূপ। পুজোর ঘরে রাখলে তা বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার মেলবন্ধন ঘটেছে এই সৃষ্টিতে। আজও বহু পরিবার এই শিল্পকে সম্মান জানায়। আধুনিকতার ভিড়েও টিকে আজও টিকে আছে চন্দনপুরের কাঁসা-পিতল শিল্প। পর্যটকরাও দিঘা ভ্রমণের ফাঁকে এখানে আসেন। স্থানীয় অর্থনীতির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এই শিল্প। তাই বলা যায়, রামনগরের কাঁসা-পিতল শুধু ব্যবসা নয়, এটি বাংলার এক জীবন্ত ঐতিহ্য।
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Feb 13, 2026 3:29 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
East Medinipur: দিঘার পথে ঐতিহ্যের ঠিকানা! রামনগরের কাঁসা-পিতলে আজও মুগ্ধ পূর্ব ভারত










