শরীর খারাপ লাগলে AI-কে জিজ্ঞেস করেই ওষুধ খান? কী ভয়ানক পরিণতি হতে পারে দেখুন!
- Published by:Tias Banerjee
- news18 bangla
Last Updated:
শরীর একটু খারাপ হলেই এখন অনেকেই গুগল বা এআই-কে জিজ্ঞেস করে নিজে নিজেই ওষুধ খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ‘ডিজিটাল নির্ভরতা’ যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এখন অনেকের জীবনযাপনের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই রিপোর্ট বুঝতে গিয়ে বা AI-র উপর নির্ভর করে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকেই—যা কখনও কখনও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরীক্ষা এবং ভুল ব্যাখ্যাই বাড়াচ্ছে উদ্বেগ।বেঙ্গালুরুর এক ৪২ বছর বয়সী ব্যক্তি প্রতি বছর নিয়ম করে ‘মাস্টার হেলথ চেক-আপ’ করাতেন। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু এক বছর তাঁর রিপোর্টে রক্তাল্পতা ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে তিনি গুগলে খোঁজ করে নিজেই আয়রন সাপ্লিমেন্ট খেতে শুরু করেন। কয়েক মাস পরেও সমস্যা না কমায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানা যায়, তাঁর অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে।
এই ঘটনা দেখাচ্ছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধুমাত্র ইন্টারনেট বা AI-এর উপর নির্ভর করে রিপোর্ট বোঝার প্রবণতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন অর্ধেকেরও বেশি মানুষ রিপোর্ট হাতে পেয়েই গুগলে সার্চ করেন বা AI টুলে আপলোড করে মতামত নেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
advertisement
advertisement
চিকিৎসকদের বক্তব্য, সব পরীক্ষা সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। বয়স, জীবনযাপন, লিঙ্গ ও পারিবারিক রোগের ইতিহাস অনুযায়ী পরীক্ষা বেছে নেওয়া উচিত। অথচ বর্তমানে প্রচলিত হেলথ প্যাকেজগুলির প্রায় ৮০ শতাংশ পরীক্ষাই অনেকের ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক।
৪০ বছরের ঊর্ধ্বে হৃদরোগের স্ক্রিনিং জরুরি, যেমন ECG, ইকো ইত্যাদি। মহিলাদের জন্য প্যাপ স্মিয়ার ও ম্যামোগ্রাম, পুরুষদের জন্য প্রোস্টেট ক্যানসার পরীক্ষা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ৪০-এর নিচে বয়সে সাধারণত এত বিস্তৃত পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না, যদি না বিশেষ ঝুঁকি থাকে।
advertisement
এছাড়া, যাঁদের জীবনযাপন অনিয়মিত, খাদ্যাভ্যাস খারাপ বা মানসিক চাপ বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে অ্যানিমিয়া, থাইরয়েড, ভিটামিন ডি ও বি১২-এর মতো পরীক্ষাগুলি প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, রোগ প্রতিরোধই স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল লক্ষ্য। কিন্তু অনেকে রিপোর্ট দেখে আতঙ্কিত হয়ে বারবার অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান, যা সমস্যা আরও বাড়ায়। তাই রিপোর্ট পাওয়ার পর অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
advertisement
বর্তমানে বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। শুধুমাত্র মার্চ মাসেই একাধিক হাসপাতালে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আর্থিক বছরের শেষে অনেকেই বাকি থাকা চেকআপ সেরে ফেলেন, পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিমার সুবিধাও এই প্রবণতা বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও তথ্যের সহজলভ্যতা যেমন সচেতনতা বাড়িয়েছে, তেমনই ভুল ব্যাখ্যার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তাই শেষ কথা একটাই—AI নয়, চিকিৎসকের পরামর্শই শেষ কথা।
advertisement
রিপোর্ট: সৌম্য কলাসা
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Apr 08, 2026 7:01 AM IST








