#রোম: তিনিও আবেগপ্রবণ হতে পারেন? তার চোখ দিয়েও আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়ে? ইস্পাতকঠিন মানসিকতার আড়ালে তিনিও আবেগপ্রবণ। আসলে আবেগ ছাড়া ফুটবল হয় নাকি ? সাদা শার্ট, বুদ্ধিমান দুটো চোখ, টানটান চেহারা আর ভাবলেশহীন শরীরী ভাষায় তিনি যেন এই মুহূর্তে গোটা দেশের 'নতুন গডফাদার'। ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলে দলকে ইউরোপ সেরা করেছেন। এ যেন ফিনিক্স পাখির জেগে ওঠার গল্প।
বছর তিনেক আগে যখন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন ব্যর্থতার চোরাবালিতে হাবুডুবু খাচ্ছে ইতালির ফুটবল। বাছাইপর্বে আটকে যাওয়ায় রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট পাননি। নিজেদের ইতিহাসে ৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবার টুর্নামেন্টের বাইরে থেকে ফিফা বিশ্বকাপ দেখতে হয়েছিল ইতালিকে। ঠিক সেই অবস্থায় কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবার্তো মানচিনি। প্রাথমিকভাবে চুক্তি করা হয় ২০২০ সাল পর্যন্ত।
শর্ত একটাই, ইউরো কাপের বাছাইপর্ব পার করতে হবে দলকে। বাছাইয়ে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই ইউরোর টিকিট নিশ্চিত করে আজ্জুরিরা আর মানচিনি পান ২০২২ পর্যন্ত ইতালির কোচের দায়িত্ব। ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন আত্মবিশ্বাসী ও ঐক্যবদ্ধ একটি দল। যারা ইতালির হয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় ইউরো শিরোপা জিতল। সবমিলিয়ে গত ৩৪ ম্যাচ ধরে হারেনি মানচিনির ছেলেরা। তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত তিন বছরে যা কিছু আমরা করেছি, যতকিছুর ভেতর দিয়ে আমরা গিয়েছি… বিশেষ করে, গত ৫০ দিনে যতটা কঠোর পরিশ্রম আমরা করেছি, এই সবকিছুর কারণেই এমন আবেগ।’
নিজের পরবর্তী টার্গেট জানিয়ে দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন কোচ। আগামী বছরের নভেম্বরে কাতার বিশ্বকাপ। সেখানে লড়াই অত্যন্ত কঠিন। মানচিনি চান যে দাপট দল দেখিয়েছে ইউরোপে, একই দাপট দেখাক বিশ্বকাপে। প্রমাণ করে দিক রাশিয়াতে ইতালির কোয়ালিফাই করতে না পারা কতটা আঘাত দিয়েছিল দেশকে। ইউরো জয় সেই কষ্ট কিছুটা কমেছে, পুরোটা লাঘব হয়নি।
যে কঠিন কাজ তিনি করে দেখিয়েছেন, তাতে মানচিনির হাতে এই আজুরি দলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত মনে করেন ইতালিয়ান ফুটবলপ্রেমীরা। তবে মানচিনি অত্যন্ত বাস্তববাদী মানুষ। তিনি জানেন বিশ্বকাপের লড়াই বেশি কঠিন। লাতিন আমেরিকার দল থাকবে। আফ্রিকা এবং এশিয়ার দল থাকবে। তাই লড়াই কিছুটা হলেও বেশি। ততদিনে তিনি আরও কিছু তরুণ ফুটবলারকে তৈরি করে নিতে চান। কাতারেও রোমান সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যেই যাবে ইতালি। আরও শক্তিশালী হয়ে।