‘আপনি যাবেন না স্যার, দলটার আপনাকে বড় দরকার’, অরুণলালকে কিছুতেই ছাড়তে চাইছে না বাংলা দল

‘আপনি যাবেন না স্যার, দলটার আপনাকে বড় দরকার’, অরুণলালকে কিছুতেই ছাড়তে চাইছে না বাংলা দল

বাংলা আমার রক্তে৷ আমার হাত কাটলে যে রক্ত পড়বে, তাতে লেখা থাকবে বাংলা।

  • Share this:

#কলকাতা: ‘আপনি যাবেন না স্যার। আপনাকে এই দলটায় বড় প্রয়োজন লালজি।’ রঞ্জি ফাইনালের পর গোটা বাংলা দলের এই একটাই আর্জি কোচ অরুণলালের কাছে। অল্পের জন্য ইতিহাস ছোঁয়া হয়নি বাংলা ক্রিকেট দলের। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রানে পিছিয়ে রানার্স ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে অনুষ্টুপদের। খেলা শেষে হতাশা গ্রাস করেছিল বাংলার ড্রেসিংরুমে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই হতাশা কাটিয়ে দেন অরুণলাল। ফাইনাল শেষে ড্রেসিংরুমে টিম মিটিং শুরু করেছিলেন। কোথায় এবছর খামতি রয়ে গেছে। কোন বিভাগ সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করল। কিভাবে আগামী বছরের প্রস্তুতি নিতে হবে। টেবিলের ওপরে কিছুটা বসে, কিছুটা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সব বিষয় নিয়ে এক নাগাড়ে বলে যাচ্ছিলেন অরুণলাল। ক্লাসরুমে বাধ্য ছাত্রদের মতো তখন মাটিতে বসে মনোজ, অর্ণব, ঈশানরা।

লালজি শুরুতেই বলে দেন এ বছরের বাংলা দলটা হৃদয় জিতে নিয়েছে। আগামী বছর রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে হবে। মিটিংয়ে সিনিয়র থেকে জুনিয়ার সব ক্রিকেটাররাই তাঁদের মতামত জানাচ্ছিলেন। প্রত্যেক ক্রিকেটারের শক্তির দুর্বলতা নিয়ে ম্যাচ শেষেই আলোচনা করে বুঝিয়ে দেন অরুণলাল। লালজি আরেকটা জিনিসও বুঝিয়ে দেন, ক্রিকেটারদের হয়তো আগামী বছর তিনি এই দলের কোচিং নাও করতে পারে। ব্যক্তিগত বেশ কিছু সমস্যার কারণে বাংলা দলের কোচিং থেকে অব্যাহতি চাইছেন তিনি। ইতিমধ্যে সৌরভের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বলে খবর। তবে এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। কারণ অরুণলালও এই দলের কোচিং থেকে সরে যেতে চান না। তবে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে পরিবারে সদস্যরা, শারীরিক অসুস্থতা ও নিজের ব্যক্তিগত কিছু সমস্যা।

এই বিষয় অরুণলাল বলেন," বাংলা আমার রক্তে৷ আমার হাত কাটলে যে রক্ত পড়বে, তাতে লেখা থাকবে বাংলা। আমি সব সময় চাই বাংলার জন্য কাজ করতে। তবে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বাধা হচ্ছে কোচিংয়ের দায়িত্ব এগিয়ে নিয়ে যেতে। বছরের ৯ মাসের বেশি সময় এই দলের সঙ্গে থাকতে হয়। সকাল-বিকেল দুবেলা প্রচুর সময় দিতে হয় দলের জন্য। বাকি তিন মাস পরিকল্পনা করতে হয়। দেখি একটু ভেবে, কী করবো!"

লালজি কোচিং করার নিয়ে উদাসীন হলেও বাংলায় ক্রিকেটাররা অরুণলালকেই চাইছেন। সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন ড্রেসিংরুমের পরিবেশ থেকে ফিটনেস ও মানসিকতা পরিবর্তন করার পিছনে একজনের হাত, তিনি অরুণলাল। অনুষ্টুপ, মনোজ-সহ প্রত্যেকের দাবি অরুণলাল যেন বাংলা দলের কোচ থাকেন। তাকে একাধিকবার ক্রিকেটার অনুরোধ করেছেন। অনুষ্টুপ বলেন, ‘প্রায় এক দশক হল বাংলার হয়ে খেলছি, লালজির মতো মানুষ আগে কোনদিনও পাইনি। দলের মানসিকতাটাই বদলে দিয়েছেন। বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন আমর সেরা।’ মনোজ বলেন, ‘লালজি নতুন ক্রিকেটার তুলে এনেছেন। পজিটিভ এনার্জি নিয়ে এসেছেন।’ অরুণলালের কোচিং করানোর উদাসীনতা নিয়ে মনোজ, অনুষ্টুপ একসাথে বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করেছি। তবে ব্যক্তিগত সমস্যা যদি থাকে তাহলে তো কিছু করার নেই। তবে সবাই মিলে আবার অনুরোধ করবো।’ অরুণলালের কোচিংয়ে প্রথমবার খেলা ঋদ্ধিমানও মনে করেন, ‘এবারে দলটায় দেখতে পাচ্ছি অনেক খোলামেলা পরিবেশ। একজনের সাফল্যে অন্যজন গর্বিত হয়। সবাই সবার জন্য ভাবছে। এটা লালজির জন্যই সম্ভব হয়েছে।’ অনুষ্টুপ আরও বলেন, ‘মরশুম শুরুতে প্রচুর পরিমাণে পরিশ্রম করাতেন লালজি। তখন মনে হতো এই বয়সে এতো খাটনি করে লাভ কী। তবে আজ বলতে এতোটুকু দ্বিধা নেই মরশুমে সেরা সাফল্য পাওয়ার পেছনে সেদিনের পরিশ্রমটাই ছিল। ধন্যবাদ লালজি।’ সিএবি কর্তারাও চান অরুণলালকে কোচ হিসেবে বহাল রাখতে। তবে লালজির চুক্তি এই বছরই শেষ হয়ে গেছে। সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া বলেন, ‘আমরা দ্রুত আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

১৩ বছর পর বাংলার ঘরে রঞ্জি উঠেছিল। অল্পের জন্য স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে স্বপ্ন দেখাতে যিনি শিখেছিলেন তিনি অরুণলাল। এক বাক্যে স্বীকার করছে গোটা দল। তাই দলের পক্ষ থেকেই লালজিকে কোচ হিসেবে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এখন দেখায় এই অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেনি কি ক্যান্সারজয়ী অরুণলাল?

ERON ROY BURMAN

First published: March 15, 2020, 4:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर