করোনার থাবা, পরচুলা তৈরি হলেও বিকোচ্ছে না! মাথায় হাত শিল্পীদের

করোনার থাবা, পরচুলা তৈরি হলেও বিকোচ্ছে না! মাথায় হাত শিল্পীদের
প্রতীকী চিত্র ।
  • Share this:

Sujit Bhowmik

#ভগবানপুর: ভগবানপুরকে সেন্টার করে আশপাশের অঞ্চলের বড় অংশের মানুষজন বছরের পর বছর এই চুল শিল্পের কাজে যুক্ত। এই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ গ্রামীণ কুটির শিল্প চুলের নানা কাজেই যুক্ত আছেন। যে কাজের উৎপাদিত পরচুলার বিভিন্ন পণ্য মূলত পাঠানো হয়  ভিন দেশ চিনে।

কিন্তু করোনা ভাইরাসের বিষয় সামনে আসার পর থেকেই ছবিটা পুরোপুরি পাল্টে যাচ্ছে। দ্রুত পাল্টে যাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভগবানপুরে তৈরি পরচুলা চিনে রপ্তানি বন্ধই হয়ে গিয়েছে। ফলে ভগবানপুরের পাড়ায় পাড়ায় গড়ে ওঠা পরচুলা শিল্প  মুখ থুবড়ে পড়েছে। একদিকে তৈরি হওয়া পরচুলা বিদেশে রপ্তানি বন্ধ। অন্যদিকে, করোনার কারণে এই কাজে ব্যবহৃত কাঁচামাল ভিন রাজ্য থেকে আসাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলস্বরূপ এই কাজে যুক্ত ভগবানপুর, পটাশপুর, এগরা, বাজকুল সহ বিভিন্ন জায়গার হাজার হাজার মানুষ। কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে রয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং উদ্যোগীদের পাশাপাশি চিনা লোকজনও যেখানে এই কাজের তদারকি করে থাকে, সেখানে ভিসা না পেয়ে চিনা উদ্যোগপতিদেরও ভগবানপুর  আসা যাওয়া বন্ধই হয়ে গিয়েছে। পরচুলা শিল্পের কাজে যুক্ত মানুষজনদের কপালে তাই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। করোনা সংকট কবে কাটবে। আবার কবে ভগবানপুরের পরচুলা শিল্প আগের মতো সচল হবে। এখন সেই চিন্তাতেই দিন গুজরান চলছে ভগবানপুরের এইসব মানুষদের। এই কাজে দিন মজুরির হিসেবে কাজ করেন যাঁরা, সেইসব গরীব মানুষদের চিন্তা আরও বেশি। প্রতিদিন এই কাজ করেই যা আয় করেন, সেই অর্থেই সংসার চালান তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ করে করোনার থাবায় তাদের সবকিছুই উলোটপালোট হয়ে গেছে।

পরচুলা শিল্পে বিনিয়োগকারী বড় বড় ব্যবসায়ীদের হালও খুবই খারাপের দিকে এগিয়ে চলেছে। চিনাদের আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রীতিমতো দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদেরও।  পরচুলা শিল্প সংগঠনের সম্পাদক মনোজ সামন্ত জানিয়েছেন, এভাবে চলতে থাকলে এই এলাকার পাশাপাশি আরও অনেক অঞ্চলের মানুষজনের আয় উপায় পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং তাদের সংসার চালানোই দুষ্কর হয়ে উঠবে। পরচুলা শিল্পের শ্রমিক গৌতম রায়, সেক এক্তারুদ্দিন থেকে  পরচুলা ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সামন্ত, সকলের আর্তি দ্রুত করোনা সংকট কেটে যাক।

First published: March 18, 2020, 10:55 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर