Home /News /south-bengal /
Viral|| পিছমোড়া করে বাঁধা হাত, কাঁধ থেকে কোমর জড়ানো সেলোটেপে, এ ভাবে জন্মদিন পালন?

Viral|| পিছমোড়া করে বাঁধা হাত, কাঁধ থেকে কোমর জড়ানো সেলোটেপে, এ ভাবে জন্মদিন পালন?

Strange birthday celebration of a 15 year boy in Medinipur: সম্প্রতি ১৫ বছরের জন্মদিন ছিল মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রের। এ দিন জন্মদিনের ‘সারপ্রাইস’ দেবে বলে প্রায় ১০-১২ জন বন্ধু মিলে তাকে ফোন করে কোতবাজার এলাকায় ডাকে।

আরও পড়ুন...
  • Share this:

    #মেদিনীপুর: পিছমোরা করে বাঁধা দুটো হাত। কাঁধ থেকে কোমর পর্যন্ত জড়ানো হয়েছে সেলোটেপ। মাথায় পচা ডিম ফাটিয়ে মুখে মাখানো হয়েছে কালি। আর ওভাবেই ১৫ বছরের এক ছাত্রকে ঘোরানো হল গোটা এলাকা।

    কিন্তু কী উদ্দেশে? এলাকার অনেকেরই প্রশ্ন, ছেলেটি চুরি করেছে নাকি? উত্তর ভেসে আসছে, আজ ওর জন্মদিন। আমরা জন্মদিন পালনে বেরিয়েছি। এ রকম ‘অভিনব’ উপায়ে জন্মদিন পালন দেখে তাজ্জব এলাকার বাসিন্দারা। সম্প্রতি ১৫ বছরের জন্মদিন ছিল মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রের। ওই ছাত্রের বাড়ি শহরেরই বড়িশাল কলোনী এলাকায়। এ দিন জন্মদিনের ‘সারপ্রাইস’ দেবে বলে প্রায় ১০-১২ জন বন্ধু মিলে তাকে ফোন করে কোতবাজার এলাকায় ডাকে। ওই ছেলেটি সেখানে গেলে বন্ধুরা সবাই মিলে তাকে কার্যত ‘চমকে’ দেয়।

    আরও পড়ুন: 'রক্ষাকবচ' না পাওয়া নিয়ে শেষমেশ মুখ খুললেন অনুব্রত? কী জানালেন?

    প্রথমে জোর করে তার জামা খোলা হয়। তারপর হাতদুটো পিছনে বাঁধা হয়। হাতদুটি পিছমোরা অবস্থায় কাঁধ থেকে কোমর পর্যন্ত সেলোটেপ জড়ানো হয়। তারপর বন্ধুরা সবাই মিলে ওই ছাত্রটির মাথায় ডিম ফাটিয়ে ও মুখে কালি মাখিয়ে তাঁকে রাস্তায় বের করে। ওই অবস্থাতেই তাঁকে নিয়ে ঘোরানো হয় গোটা কোতবাজার এলাকা। বন্ধুদের জন্মদিন পালনের নমুনা দেখে কার্যত ‘ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা ছাত্রটির। কাঁদোকাঁদো গলায় সে জানায়, এটা জন্মদিন নয়, আমার মৃত্যুদিন পালন করা হচ্ছে। তবে এ ভাবে কেন জন্মদিন পালন?

    বন্ধুদের দাবি, এটাই এখন ট্রেন্ড, সর্বত্র এটাই চলছে। তবে তারা কোথা থেকে শিখল এই ট্রেন্ড? পড়ুয়াদের দাবি, কলেজ মাঠে সিনিয়ররা এ ভাবেই নিজেদের বন্ধুদের জন্মদিন পালন করে। তা ছাড়া ফেসবুক তো আছেই। বন্ধুদের দু’একজন আবার ভিডিও করে গোটা ঘটনাটির। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়াই নাকি তাদের মূল উদ্দেশ্য! বন্ধুদের প্রত্যেকের বয়স ১৪ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। অধিকাংশই মেদিনীপুর বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ ও কলিজিয়েট স্কুলের পড়ুয়া।

    আরও পড়ুন: কোন পথে বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠিতে পড়ল শোরগোল

    এ ভাবে জন্মদিন পালন ঘিরে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ভাইরাল করে দিয়ে প্রচারের আলোয় আসার নেশা চেপে বসেছে এইসব অল্পবয়সীদের মধ্যে। তাই ভাইরাল হওয়ার লক্ষ্যে জন্মদিন পালনেও অভিনবত্ব নিয়ে আসছে তারা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শান্তনু চক্রবর্তী বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম ওই ছেলেটিকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরে দেখলাম জন্মদিন পালন হচ্ছে। এইভাবে জন্মদিন পালন জীবনে প্রথম দেখলাম। নিন্দা জানানোর কোনও ভাষা নেই। তবে বিষয়টিকে আবার গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না অনেকেই। তাঁদের দাবি, ওরা নিজেদের মধ্যে মজা করে জন্মদিন পালন করছে, করতেই পারে।

    এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞা দেবজিৎ মিশ্র বলেন, বন্ধুরা মজা করতে করতে সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। মজা যে কখন সাজা হয়ে গিয়েছে, তা বন্ধুরা বুঝতে পারেনি। তবে ছেলেটি যদি বিষয়টিকে মজা হিসাবে নিতে পারে, তাহলে ঠিক আছে। যদি সে এই ঘটনায় ভেঙে পড়ে, তাহলে সে মানসিক অসুস্থতার দিকে চলে যেতে পারে। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, ছেলে মেয়েরা কাদের সঙ্গে মিশছে, সেই ব্যাপারেও অভিভাবকদের নজর দেওয়া উচিত। বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক অরূপ ভুঁইয়া বলেন, যদি বিষয়টি ঘটে থাকে তাহলে নিন্দনীয়। আমি বিষয়টা সম্বন্ধে খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।

    Sovan Das

    Published by:Shubhagata Dey
    First published:

    Tags: Viral News

    পরবর্তী খবর