Yaas Effect: ইয়াসের জেরে প্লাবনের জল নামতেই বিষধরদের উপদ্রব বাড়ছে হাওড়ার একাধিক জায়গায়!

ইয়াসের জেরে প্লাবনের জল নামতেই বিষধরদের উপদ্রব বাড়ছে হাওড়ার একাধিক জায়গায়!

ইয়াসের কারণে রূপনারায়ণের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত শ্যামপুরের বিভিন্ন জায়গায় জল নামতেই বেরেছে সাপের উপদ্রব।

  • Share this:

#হাওড়া: ঝড় চলে গিয়েছে, কিন্তু এখনও দগদগে কোটালের ফলে গ্রামে জলের ক্ষত রয়েছে। এখনও অনেক মানুষ ফিরতে পারেননি নিজের আস্তানায়| যারা ফিরেছেন তাঁরাও ভয়ে কাঁটা, সকালের দিকে কিছু মানুষ ঘর থেকে বেরোলেও সন্ধ্যা নামার পর কেউ বেরোতে পারছেন না| আবার ঘরের ভিতরেও রয়েছে দংশনের আশঙ্কা| একদিকে বাঁধ ভাঙা জলে ভেসে যাওয়া খড়কুটো অন্যদিকে, বিষধর সরীসৃপের দংশনের ভয়ে কাটা হাওড়ার শ্যামপুর, বাগনান এলাকার নদীপাড়ের মানুষজন| প্লাবনের কারণে সরীসৃপদের আস্তানাও চলে গিয়েছে মানুষের মতো| তাদের ঠাঁই হয়েছে গ্রামের আনাচকানাচে। আবার কোথাও ত্রাণ শিবিরে থাকা মানুষদের ফাঁকা ঘরেই শাঁখামুটি, কেউটেরা বেঁধেছে নিজেদের ঘর| আতঙ্ক যেন কাটছেই না।

উদ্ধার হয়েছে সাপ। উদ্ধার হয়েছে সাপ।

ইতিমধ্যে তাদের দংশনে হাসপাতালে ঠাঁই হয়েছে অনেকের | এবার এই বিষাক্ত সরীসৃপদের হাত থেকে মানুষদের বাঁচাতে পথে নামলো একটি সংস্থা | হাওড়ার "শ্যামপুর ওয়াইল্ড লাইফ গ্রুপের" সদস্য অয়ন, অর্পণ, তারক, সমীরণরা তাই ব্যস্ত সাধারণ মানুষকে বিষাক্ত দংশনের হাত থেকে বাঁচাতে। অন্যদিকে, বাসিন্দাদের গণপিটুনি হাত থেকে বাঁচাতে হবে প্রাণীগুলিকেও। ভরা কোটাল ও ইয়াসের কারণে রূপনারায়ণের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত শ্যামপুরের বিভিন্ন জায়গায় জল নামতেই বেরেছে সাপের উপদ্রব। বিষধর সাপ বেরোনোয় আতংকিত সাধারণ মানুষ | হাতের গ্লাভস আর সাপ ধরার স্টিক নিয়ে বাইক নিয়ে এলাকায় হাজির একদল পরিবেশ কর্মীরা। লক্ষ্য একটাই এলাকার মানুষদের ও মানুষের হাত থেকে কেউটে, গোখরো,খরিশ, চন্দ্রবোড়াদের রক্ষা করা |

সদস্যদের কথায়, ওয়াইল্ড লাইফ রক্ষা করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাঁরা জানান, 'সাপ দেখলেই তাকে মেরে ফেলার একটা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি রয়েছে মানুষের। আমরা গ্রুপের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করি। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে সাপগুলিকে উদ্ধার করে পুনরায় নিরাপদ জায়গায় ছেড়ে দিই।' তাঁদের কথায়, জীবনের ঝুঁকি থাকলেও, ওয়াইল্ড লাইফ রক্ষা করতে তাঁরা বদ্ধ পরিকর। কারণ, এদের না বাঁচালে নষ্ট হবে জীববৈচিত্র্য। তাই নিঃস্বার্থ ভাবে তাঁরা আগামী দিনেও এই কাজ চালিয়ে যাবেন।

Published by:Raima Chakraborty
First published: