• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • MAMATA BANERJEE FIRST BATTLEFIELD NANDIGRAM IS WAITING TO WATCH THE RESULT OF BHAWANIPUR BY POLL AKD

Nandigram| Mamata Banerjee| Bhabanipur| ভবানীপুরের লড়াই ফেরাচ্ছে সেই উত্তাপ, এবারের ফলে শাপমুক্তি চাইছে নন্দীগ্রাম

নন্দীগ্রামের দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে সাধারণ গৃহবধূদের লাইন।

Nandigram| Mamata Banerjee| Bhabanipur| শাসক দল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিশ্চিত এই মর্মে আত্মবিশ্বাসে অটুট তখন স্বাভাবিক ভাবেই রাজনীতিপ্রেমীরা জানতে চাইছেন, কী ভাবছে নন্দীগ্রাম?

  • Share this:

#নন্দীগ্রাম: ঠিক এক পক্ষকাল পরেই বাংলায় আরও একবার ভোটের লড়াই শুরু হতে চলেছে। মেগা লড়াইয়ের মেগা প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee contesting Bhabanipur))। আর এবারের লড়াইয়ের কুরুক্ষেত্র যদি হয় ভবানীপুর তবে তার শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে ১৩০ কিলোমিটার দূরে বাংলার এক প্রাচীন জনপদে, যার নাম নন্দীগ্রাম (Nandigram)। যেখানে দুই হাজারেরও কম ভোটে পরাজিত হয়েই মুখ্যমন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আরও একবার রণাঙ্গনে অবতীর্ণ হতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শাসক দল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিশ্চিত এই মর্মে আত্মবিশ্বাসে অটুট তখন স্বাভাবিক ভাবেই রাজনীতিপ্রেমীরা জানতে চাইছেন, কী ভাবছে নন্দীগ্রাম?

নন্দীগ্রামে পা রাখতেই বোঝা গেল উত্তাপ আজও আছে। চন্ডীপুর হয়ে নন্দীগ্রামের ঢুকতেই দেখা গেল এখনও বিরোধী শাসক দুই দলের পোস্টারে ব্যানারে ছয়লাপ গোটা এলাকাই। স্থানীয় এক চা দোকানি কার্যত মেনে নিলেন চাপা উত্তেজনা রয়েছে আজও। তাঁর কথায়, "এখন দলবদল করছে অনেক মানুষ। কিন্তু আমরা যারা গরিব মানুষরা জানি না আসলে কী হচ্ছে, আমাদের উন্নতি আদৌ হবে কি?" দু'কথা বলতেই তাঁর চোখে-মুখে ফুটে উঠছে ভয় কিসের ভয় শনাক্ত হওয়ার। বোঝা গেল নন্দীগ্রামের বাতাসে আজও বারুদের গন্ধ। আজও দ্বিধা থরথর সাধারণ নন্দীগ্রামবাসীরা। তবে চায়ের দোকানে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে চর্চায় ভবানীপুর।

আরও পড়ুন-ভবানীপুরে তৃণমূলের নজরে বহুতল, নয়া কৌশলে মহিলা ব্রিগেডকে মাঠে নামাচ্ছে শাসক দল

অদূরেই শুভেন্দু অধিকারীর এমএলএ হেল্প সেন্টার। সামনে যেতেই চোখে পড়ল কর্মীদের তৎপরতায়। তাদেরই একজন বললেন, "যে-ই সাহায্য চাইতে আসুক আমাদের বিধায়ক কোনও রঙ দেখেন না। আমরা সবাইকে সাহায্য করি। তৃণমূল চাইছে আমাদের দল ভাঙাতে, কিন্তু আমরাও পাল্টা লড়াই দিচ্ছি।" পূর্ব মেদিনীপুর বিজেপির জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল রোজ একবার এই অফিসে আসেন। নন্দীগ্রাম ভোটের সময় তারই ফোন কথোপকথন ভাইরাল হয়েছিল।

প্রলয় পাল বললেন, "১৬ অগাস্ট খেলা হবে দিবসে আমার হাত ভেঙে দেয় ওরা। এমনটাই এখন করছে ওরা। আমি কাজে যেতে পারিনা কারণ আমার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবু জিতেছি এবং আগামীদিনেও আমরা লড়ব। আমাদের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। চাপের মুখে আমরা মাথা নোয়াবে না। ভবানীপুরেও আমরা লড়াই করব। নন্দীগ্রামের ফলাফলই হবে সেখানে।"

প্রলয় পাল। প্রলয় পাল।

আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম বিরুলিয়া বাজারে। এমনিতে কখনোই সংবাদ শিরোনামে আসার কথা নয় এমন এক ছিমছাম বাজারের। কিন্তু এই বিরুলিয়া বাজারই সারা দেশের সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয় গত ১০ মার্চ। এখানেই রাস্তার ধারে এক পোস্টের ধাক্কায় আহত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পায়ে চোট পাওয়ার ফলে গোটা ভোট পর্বটা তাঁকে হুইলচেয়ার এই ঘুরতে হয়েছিল। আজ সেই পোস্টে তৃণমূলের পতাকা জড়ানো। সেদিন তাঁকে ছুটে গিয়ে বরফ দিয়েছিলেন যে মিষ্টির দোকানদার, তিনি অনেকটাই ঝুঁকে মমতার দিকে। বললেন, "এখানে যেভাবে তিনি আহত হয়েছিলেন তার জন্য আজও আমি দুঃখিত। উনি আমাদের বিধায়ক হলে আজ আমরা অনেক বেশি লাভবান হতাম। আমরা নিতান্তই সাধারণ মানুষ কিন্তু আমাদের আশা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেকর্ড মার্জিনে জিতবে।"

এই সেই বিরুলিয়া বাজার। এই সেই বিরুলিয়া বাজার।

সেদিনের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিন দোলুই বললেন, "আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা দিদিকে আমাদের বিধায়িকা হিসেবে পেলাম না। তবে তিনি যে এবার সব রেকর্ড ভেঙে ফেলবে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।" বিরুলিয়া বাজারে আজ যেভাবে মুখে মুখে মমতার নাম ভোটের সময় হাওয়াটা তেমন ছিল না। এক স্থানীয় সাংবাদিক বলছিলেন, "এই বাজারে অনেকে তখন সরাসরি শাসক বিরোধিতা করেছিলেন।" তাহলে কি ভোটের ফল এমন বদলাল? কেউ কেউ বলছেন তারা আর কোন মতামত দিতে চান না। যেই বিধায়ক কন্যা কেন কিছুই বদলাবে না।

এগোতে এগোতে থামাতে হল বড়চিড়া হাই স্কুলের কাছে। সেখানে তখন ভিড়। দুয়ারে সরকার ক্যাম্প চলছে। ক্যাম্পে নানা সুবিধা নিতে লাইন দেওয়া এক নন্দীগ্রামবাসীর বক্তব্য, "হয়তো তিনি হেরেছেন কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন। এই কারণেই এই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। প্রত্যেকে শুভেচ্ছা জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নতুন লড়াইয়ের জন্য।"

চোখেমুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট সুফিয়ানের। তিনি বললেন, "এ ঘটনা আমাদের লজ্জা কিন্তু ভবানীপুরে আমরা প্রতিশোধ নেব তারা আসলে অর্থ আর পেশী শক্তি ব্যবহার করেছিল ওরা নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করেছিল ভিপি প্যাট জালিয়াতিও করেছে।"

আমরা গেলাম বয়ালের সাত নম্বর বুথে। নির্বাচনের দিন বেনোজির ভাবে এখানেই ধর্না দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনে থেকে লড়াই করা তৃণমূল নেতা মানিক আলি শাহ বললেন, "এখানে ওরা কিছুই বাকি রাখেনি। আমরা জানি দিদিকে ফেরাবে ভবানীপুরই।"

এদিকে রবীন মান্নার পরিবারের লড়াইটা অন্য। ছেলের মৃত্যু হয়েছে আজ ন্যায় বিচার চাইতে বাবা মনোরঞ্জন মান্না চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ব্যবধানের জিতুন।

বেলা পড়ে আসে। ক্রমেই ফাঁকা হয় চা দোকানের জটলাগুলি। একটা কথা পরিস্কার ভবানীপুরের উপনির্বাচনে তৃণমূল জিতলে নন্দীগ্রামের ক্ষতটা সামান্য হলেও জুড়াবে । আর অন্যদিকে বিজেপি হাওয়া তুলছে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুভেন্দুর মতো 'জায়ান্ট কিলার' হয়ে উঠবেন ভবানীপুরে। শেষমেশ কী হবে জনতা জনার্দনই জানেন, তবে ভবানীপুরের ভোটের ফল যে আরো একবার ঝাঁকুনি দিয়ে  যাবে নন্দীগ্রামকে তা নিশ্চিত।

Published by:Arka Deb
First published: