'মমতার বিরোধিতা করলে বেঁচে থাকার অধিকার নেই', দু' মাসেই ভোল বদল জিতেন্দ্রর

'মমতার বিরোধিতা করলে বেঁচে থাকার অধিকার নেই', দু' মাসেই ভোল বদল জিতেন্দ্রর

মমতার প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল. দাবি জিতেন্দ্রর৷

  • Share this:

    #বৈদ্য়বাটি: 'বস্তিতে দেওয়াল লিখতাম৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বস্তি থেকে তুলে এনে মেয়র, বিধায়ক, জেলা সভাপতি করেছেন৷ আমি ওনার বিরোধিতা করলে আমার বেঁচে থাকার অধিকারই নেই৷' বেশিদিন নয়, গত ১৮ ডিসেম্বর এই কথাগুলিই বলেছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি৷ এর পর আড়াই মাসও কাটল না৷ আজ বৈদ্যবাটিতে দিলীপ ঘোষের সভায় বিজেপি-তে যোগ দিয়ে জিতেন্দ্র বললেন, 'আজ থেকে আমার মনে যেটা আছে, মনের ভাবনা স্বাধীন ভাবে বলার সুযোগ পাব৷ ছোট থেকে জয় শ্রীরাম বলে আসছি৷ কিন্তু এতদিন মঞ্চে বলার সুযোগ পেতাম না৷ এবার মন খুলে বলতে পারব৷'

    রাজনীতিতে বোধহয় এমনই হয়৷ গত কয়েকমাসে এতজন নেতার ভোলবদল দেখেছে বঙ্গ রাজনীতি, তাতে দু'দিন আগেও কোন নেতা কী বলেছেন, তা গুলিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক৷ সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন জিতেন্দ্র তিওয়ারি৷ কিন্তু তাঁকে নিয়ে টানাপোড়েন বোধহয় একটু বেশিই হল৷ একবার বিজেপি-র দিকে পা বাড়িয়ে ফের পুরনো দলে থেকে গিয়ে দলনেত্রীর প্রশংসা৷ তার পর দু' মাস কাটতে না কাটতেই ফের পদ্ম শিবিরে নাম লেখানো৷ মমতার প্রতি অকৃতজ্ঞ হলে নিজের বেঁচে থাকার অধিকার নেই বলার পরেও তাই মন খুলে জয় শ্রীরাম বলতে সেই পদ্মেই গেলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক৷

    বিজেপি-তে যোগ দিয়েই বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গেও অতীতের যাবতীয় তিক্ততা ভুলে গিয়েছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি৷ বাবুলকে তাঁর নেতা, এলাকার মন্ত্রী-সাংসদ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি৷ কম যাননি বাবুলও৷ ডিসেম্বর মাসে জিতেন্দ্রর বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে সবথেকে বেশি সরব হয়েছিলেন বাবুল৷ সেই তিনিই আজ বলেছেন, 'রাজনীতিতে চিরস্থায়ী কিছু হয় না৷ পুরনো কাসুন্দি ঘাটব না কি আসানসোলের উন্নতিতে একসঙ্গে কাজ করব?'

    রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতোই জিতেন্দ্রও এ দিন দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি কোনও অসম্মান করেননি৷ তৃণমূলনেত্রী তাঁর দিদি ছিলেন, সেই জায়গাতেই থাকবেন৷ বিজেপি-তে যোগদানের কারণ বলতে গিয়ে সেই চেনা সুরেই জিতেন্দ্র বলেছেন, 'বাংলার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে পরিবর্তন হওয়া উচিত৷ এতদিন তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেছি৷ এবার বিজেপি-তে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটাই পালন করব৷'

    তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে অবশ্য শোনা যাচ্ছে, ডিসেম্বর মাসে বিদ্রোহের পর তিনি দলে থেকে গেলেও জিতেন্দ্রর উপরে পুরোপুরি আস্থা ফেরেনি শাসক দলের৷ সেই কারণেই তাঁকে পুরনো সব পদ ফেরানোও হয়নি৷ আর এ দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও স্বীকার করেছেন, গত এক মাস ধরে তাঁর সঙ্গে জিতেন্দ্র তিওয়ারির কথা হয়েছে৷ তৃণমূলে থাকলে এবার জিতেন্দ্র টিকিট পেতেন কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা ছিল৷ এ বিষয়ে অবশ্য এখনই কিছু বলতে চাননি পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক৷ তিনি বলেন, 'আগে তৃণমূল বলুক যে ওরা আমাকে টিকিট দিত না, তার পর আমি যা জবাব দেওয়ার দেব৷'

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: