Home /News /south-bengal /
দোল খেলতে মন্দির ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছেন ঈশ্বর!  

দোল খেলতে মন্দির ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছেন ঈশ্বর!  

Representative Image

Representative Image

কোন নাচ,গান কিংম্বা লাইড স্পিকারের দাপাদাপি নেই।দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শ্যাম ও রাধাকে আবীর মাখিয়ে দোলের শুরু হয়ে খড়দহে।

  • Share this:

#উত্তর ২৪ পরগনা: সূর্য ওঠার আগে শ্যাম, রাধাকে নিয়ে দোলের যাত্রা শুরু করছে। খড়দহের শ্যামের মন্দির থেকে দোল মঞ্চ। যাত্রা পথটা অল্পই। দোল মঞ্চের দোলনায় শ্যাম ও রাধাকে আবীরে রাঙিয়ে এই এলাকায় শুরু হয় দোলের উৎসব। আর তার জন্য ভোরে উঠে পরেন বহু মানুষ। খড়দহের মন্দির ট্রাস্টের সম্পাদক দেবমাল্য গোস্বামীর কথায় প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছরের পুরানো এই দোল উৎসব। রীতি মেনে শ্যাম-রাধাকে নিয়ে দোলে খেলতে প্রতি বছর পালকিতে চড়ে আসেন এখানে। ভক্তের সঙ্গে দোলায় বসে দোলের উৎসবে মাতেন তিনি।

নিমাইয়ের শিষ্য স্বপ্নে কংসের কারগারে শ্রীকৃষ্ণের ভাইয়েদের যে শীলা খন্ডে আছাড় মেরে হত্যা করা হয়েছিল সে শীল খন্ডটি পরবর্তীকালে শ্রী চৈতন্য এর অনুগামী বীরভদ্র গোস্বামী বিচালিতে বেঁধে যমুনায় ভাসিয়ে দেন। কথিত আছে সেই শীলা খড়দহের এই বিচালি ঘাটে পান বীরভদ্র। তা দিয়ে তিনটি মূর্তি তৈরী হয়। প্রথম মূর্তিটি শ্রীরামপুর এর বল্লভজী রুপে পূজিত হয়। দ্বিতীয়টি বারাসাতের সাইবনায় নন্দদুলাল রুপে পূজিত হয়।আর খড়দহে এই মূর্তি শ্যাম সুন্দর নামে পূজিত হচ্ছেন। এই তিন মন্দিরের বিগ্রহ দোলের দিন মন্দির ছেড়ে দোল মঞ্চে নিয়ে আসা হয়। দাবী  খড়দহের মন্দির ট্রাস্টের সম্পাদক দেবমাল্য গোস্বামীর।

খড়দহের দোল মঞ্চে এই দিন সকাল থেকেই ছিল লম্বা লাইন। দোল মঞ্চের ডান দিকের সিড়ি দিয়ে উঠে শ্যাম ও রাধাকে ফাগে রাঙ্গিয়ে শুরু হয় প্রত্যকের দোল উৎসব। তার পর আর অপেক্ষা নয় প্রিয় জনকে এরপর রাঙাতে আর কারকে অপেক্ষা করতে হয় না।স্থানীয় বাসিন্দা জিন ঘোষের কথায় গতকাল গঙ্গার ঘাটে নেড়া পোড়া হয়েছে। আজ দোলের জন্য ভোড় থেকে আপেক্ষায় শ্যামে রং মাখিয়ে  বন্ধু দের সঙ্গে রং উৎসব মাতবেন তারা। খড়দহের আর এক গৃহবধূ জয়িতা লাহা বিয়ের পর থেকেই এই দোল মঞ্চ রং খেলতে আসেন। তার কথায় এখানে শুধুই আবির দিয়ে রং খেলা হয়। গান, নাচ কিংম্বা লাউড স্পিকারের কোন অত্যাচার  এখানে নেই। নির্দ্বিধায় ভাল শাড়ি পরে এখানে দোলের উৎসবে সামিল হওয়া যায়।

আবির আর ফুলই হলে এখানে দোলের উপকরণ। কোন তরল রং এর প্রবেশ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ দাবী বিশ্বজীৎ দাস।বিকাল তিনটে নাগাদ শ্যাম ও রাধা ফেরেন শোভাযাত্রা নিয়ে ফেরেন মন্দিরে। রং খেলার ফলে শ্যামের পেট গরম হয়।তাই সন্ধ্যায় শ্যামের জন্য তৈরী হয় পাকাল ভোগ। টকদই আর আম দিয়ে সেই ভোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সকলে বুঝে যান এবার যুযধে হবে বরুনের সঙ্গে।

Published by:Pooja Basu
First published:

Tags: Holi, Holi 2020, দোল, দোল ২০২০, বসন্ত উৎসব

পরবর্তী খবর