• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • প্রায় ১২০ ঘণ্টা সমুদ্রে ভেসে রইলেন তিনি, মৃত্যুমুখ থেকে ফিরলেন বেঁচে

প্রায় ১২০ ঘণ্টা সমুদ্রে ভেসে রইলেন তিনি, মৃত্যুমুখ থেকে ফিরলেন বেঁচে

  • Share this:

    #কলকাতা: শুধুই কী মিরাক্যাল? না কী দুর্নিবার জেদ.....বেঁচে থাকার , জীবনকে জড়িয়ে রাখার অদম্য ইচ্ছে? যে ইচ্ছেয় হার মেনেছে নিশ্চিত মৃত্যু। কোনও সাহায্য ছাড়া উত্তাল সমুদ্রের পাগলপারা ঢেউয়ের মাথায় প্রায় একশো কুড়ি ঘণ্টা ভেসে থেকে নামখানার রবীন্দ্রনাথ দাস বোঝালেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়। জীবন জবাব দিয়েই দিয়েছিল প্রায়। শনিবার একটু বাড়তি রোজগারের আশায় ইলিশের লোভে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার সময়েও কি থমকেছিলেন রবীন্দ্রনাথ দাস? আজীবন জলে-জঙ্গলে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করা বছর চৌত্রিশের মৎস্যজীবী কী ভেবেছিলেন, সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে সামনাসামনি হতে হবে মাঝ সমুদ্রে?

    ঢাল নেই.. তরোয়াল নেই..নিধিরাম সর্দার। নামখানার রবীন্দ্রনাথ ঠিক তাই। পেট ভরানোর চিন্তায়, গায়ে লাইফ জ্যাকেট তোলার কথা ভাবেননি। মাঝ-সমুদ্রে যখন তাঁদের ট্রলার এম ভি নয়ন উলটে যায়, অনেকের মত তিনিও খালি হাতেই সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তারপর টানা পাঁচদিন শুধু উত্তাল সমুদ্রে ভেসে থাকা.....যেখানে কয়েক ঘণ্টা জলে সাঁতার কাটলেই শরীর আড়ষ্ট হয়ে আসে, জবাব দেয় দম, হাঁফ ধরে অভিজ্ঞ সাঁতারুরও। সেখানে প্রায় একশো কুড়ি ঘণ্টা জলে ভেসে রইলেন রবীন্দ্রনাথ.....

    কেউ বলছে মিরাক্যাল। কারও কাছে রাখে হরি, মারে কে। রবীন্দ্রনাথের কীর্তিতে হতবাক দুঁদে সাঁতারুরাও। ইংলিশ চ্যানেল পেরতে কত না প্রস্তুতি....ত্বক বাঁচাতে কত রাসায়নিক.....নিরাপত্তার জন্য স্পিডবোট....তবু রবীন্দ্রনাথের জীবনীশক্তির কাছে যেন আজ ফিকে সবকিছু। কোথা থেকে এল এই জীবনীশক্তি? এই অফুরান দম? সুন্দরবনের জলে-জঙ্গলে বাঘ-কুমীরের সঙ্গে নিত্য ঘর করা মৎস্যজীবীর পুরো জীবনটাই যুদ্ধের। সেখান থেকেই কী এই অদম্য সাহস....জীবনকে আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরার আর্তি?

    পরিবারের একমাত্র রোজগেরে....স্ত্রী, ছেলে, বৃদ্ধ বাবা-মা পথ চেয়ে অধীর অপেক্ষায়। সেই টানই হয়ত মৃত্যুকে উপেক্ষা করার সাহস জুগিয়েছে রবীন্দ্রনাথকে। পাঁচদিনের দমবন্ধ অপেক্ষার পর এসেছে সুখবর। পথ দেখিয়েছেন তিনি। বাকি নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারও এখন আশায় বুক বাঁধছে।
    First published: