দূষণ রোধে তারাপীঠে চালু হল সৌর উনুন, হাজার হাজার ভক্তের ভোগ রান্না হবে এতেই

কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে মূল মন্দিরকে অক্ষত রেখে অফিস, রান্নাঘর ভেঙে মন্দির চত্বরকে খোলামেলা করার কাজ শুরু হয়।

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 29, 2019 11:59 AM IST
দূষণ রোধে তারাপীঠে চালু হল সৌর উনুন, হাজার হাজার ভক্তের ভোগ রান্না হবে এতেই
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 29, 2019 11:59 AM IST

#তারাপীঠ: সৌর-উনুনে ভোগ তৈরি হবে তারাপীঠে ৷ সৌর উনুনে রান্না হতে চলেছে মা তারার ভোগ। কাঠের উনুনে মায়ের ভোগ রান্না বন্ধ হতে চলেছে। তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (টিআরডিএ) গঠন হওয়ার পর তারাপীঠকে কংক্রিটের জঙ্গল মুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে মূল মন্দিরকে অক্ষত রেখে অফিস, রান্নাঘর ভেঙে মন্দির চত্বরকে খোলামেলা করার কাজ শুরু হয়। মন্দিরের চারধারে তৈরি হয় আণ্ডার গ্রাউণ্ড। তারই একদিকে ভোগ ঘর।

কথিত আছে, পাল রাজত্বের সময় শুক্লা চর্তুদশী তিথিতে জয়দত্ত সদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুন্ডির আসনের নীচ থেকে মায়ের শিলামূর্তি উদ্ধার করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন ৷ পুজোর পাশাপাশি নিত্য ভোগের প্রচলন করেন। প্রাচীন কাল থেকেই কাঠের উনুনে সেই ভোগ রান্না হয়ে আসছে। ভোগ রান্নার কাজে জ্বালানি কাঠের ব্যবহারের ফলে গর্ভগৃহের দেওয়ালে যেমন কালো আস্তরণ জমছিল, তেমনি কাঠের ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ হতো। তা রুখতে সৌরআলোয় মায়ের ভোগ রান্নার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেজন্য তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন সংস্থাকে পৃথকভাবে ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয় রাজ্য সরকার।

কলকাতার একটি সংস্থা মন্দিরের সোলার মেশিন বসিয়ে আণ্ডার গ্রাউণ্ডে ‘সোলার স্টিম কুকিং সিস্টেম’-এর কাজ শুরু করে। গত জানুয়ারি মাসে রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভা করতে এসে যার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরজমিনে তা চাক্ষুষও করেন। ভোগ-গৃহের পাশে সাড়ে চার মিটার উচ্চতার দু’টি ডিস বসানো হয়েছে। সেগুলির ব্যাসার্ধ ৫.২ মিটার। সেগুলির পাশে সূর্যের তাপ ধরে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে উৎপন্ন ‘স্টিম’ ৩০ মিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে আণ্ডার গ্রাউণ্ডে ভোগ-গৃহের সোলার উনুনে পৌঁছবে। দিনে তিন হাজারের বেশি লোকের রান্না করা যাবে সেই উনুনে। মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, কোজাগরী লক্ষীপুজোর দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মা তারার ভোগ রান্না করা হয়। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় রাতে ভোগ রান্না করা হয়। নিত্যদিন মা তারাকে খিচুড়ি, পাঁচ রকম ভাজা, তরকারি ও পায়েসের ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রতিদিন মা তারার ভোগে থাকে পোলাও, অন্ন, খিচুড়ি, পাঁচ রকম ভাজা, তিন-চার রকম তরকারি, বলির পাঁঠার মাংস, মাছ ভাজা, চাটনি । নতুন পদ্ধতিতে আরও বেশি ভক্তের ভোগ রান্না করা যাবে। সৌর উনুনে অপ্রচলিত শক্তি যেমন কাজে লাগানো যাবে। তেমনই হবে পরিবেশবান্ধবও। টিআরডিএর চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় নবরূপ পেয়েছে তারাপীঠ মন্দির। এটি তারই একটি অঙ্গ।’’

First published: 11:59:15 AM Aug 29, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर