East Bardhaman News: অভাবে বন্ধ হয়েছিল নিজের পড়াশোনা, এখন কয়েক হাজার পড়ুয়ার ভাগ্য গড়ছেন! 'এই' শিক্ষকের গল্প হার মানাবে সিনেমাকেও
- Reported by:Sayani Sarkar
- hyperlocal
- Published by:Nayan Ghosh
Last Updated:
East Bardhaman News: কষ্ট করে কাটিয়েছেন ছোটবেলা। সেই তিনি এখন পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের জন্য খুলেছেন স্কুল। ৭৭ বছর বয়সেও করছেন নিরলস পরিশ্রম।
জামালপুর, সায়নী সরকার: নিজের শৈশব কেটেছে চরম অভাবে। দুবেলা অন্নের সংস্থান যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে পড়াশোনা ছিল এক বিলাসিতা। বইখাতা ও স্কুলের মাইনের জন্য তাঁকে ঘুরতে হয়েছে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। পাশে পাননি অনেক আত্মীয়-স্বজনদেরই। তাই প্রথম থেকেই ইচ্ছা ছিল দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য কিছু করার। তাই অবসরের পরেও থামেননি তিনি। লড়াই করে এলাকার ছেলেমেয়েদের জন্য গড়ে তুলেছেন একটি স্কুল। পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের বাসিন্দা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঘোষ। ৭৭-এও লড়াকু মেজাজে ‘নট আউট’ তিনি। এখনও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের লড়াই। শৈশব থেকে শুরু করে বার্ধক্য তাঁর গোটা জীবনটাই যেন শিক্ষার প্রসারে এক অন্তহীন সংগ্রামের গল্প।
তিনি নিজেও ছোটবেলা থেকে লড়াই করে এসেছেন পড়াশোনার জন্য। ঘুরেছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। আর্থিক অভাবে প্রায় দু’বছর ছাড়তে হয়েছিল পড়াশোনা। পরে মা-বাবার অনুপ্রেরণায় শেষ করেন নিজের পড়াশোনা এবং যোগদান করে শিক্ষকতায়। তখন থেকেই তিনি ঠিক করেছিলেন কিছু করবেন দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য। প্রথমে কয়েকজন বন্ধু মিলে গড়ে তোলেন সেলিমাবাদ স্কুল। সেখান থেকে মাসের শেষে যা পেতেন তা দিয়েই কোন রকমে চলতে সংসার। ছেলে মেয়েদের প্রতি অগাধ ভালবাসা থাকলেও আর্থিক অভাবে তাঁকে ছাড়তে হয়েছিল সেই স্কুল। পরে তিনি যোগদান করেন জামালপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। সেখান থেকে অবসর নেওয়ার পর শুরু হয় তার অন্য লড়াই।
advertisement
আরও পড়ুন: নোনা মাটির দেশে চিনা ফুলের ম্যাজিক! কাকদ্বীপের মেলায় ‘ক্যামেলিয়া’ দেখতে মানুষের ঢল
তিনি উদ্যোগ নেন জামালপুরের পাড়াতল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম বসন্তপুরে একটি স্কুল তৈরি করার। কারণ একদা এই গ্রামের ছেলে মেয়েদের শিক্ষা লাভের ভরসা বলতে ছিল শুধুমাত্র একটি প্রাইমারি স্কুল। আশেপাশে কোন জুনিয়র হাইস্কুল ছিল না। তাই লেখাপড়ার জন্য বসন্তপুর ও সংলগ্ন বেত্রাগড়, সজিপুর প্রভৃতি গ্রামের ছেলে মেয়েদের ৫ কিলোমিটার দূরে জামালপুর বা সেলিমাবাদ হাইস্কুলে যেতে হত। এই দূরত্বই স্কুল বিমুখ করে তুলছিল এলাকার দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের। বসন্তপুরে স্কুল গড়ে তোলার জন্য ২০১০ সাল থেকে কাজ শুরু করেন দ্বিজেন্দ্র বাবু। অবশেষে ২০১৪ সালে মেলে অনুমতি। প্রথম একটি স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের ঘর থেকে শুরু হয় পথ চলা। পরে একটি সরকারি জায়গায় নিজের পেনশনের টাকা থেকে একটি চালা ঘর তৈরি করে শুরু করেন স্কুল।
advertisement
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তারপর ধীরে ধীরে সরকারি অনুমোদনে স্কুলের স্থায়ী ভবন গড়ে ওঠে। কিন্তু এখানেই তার লড়াই শেষ নয়। স্কুলের জন্য মেলেনি কোনও স্থায়ী শিক্ষক। প্রথম দিকে কয়েকজন গেস্ট টিচার থাকলেও তারা একসময় পর অবসর নিয়েছেন। পরে এলাকারই পাঁচ উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁর। বর্তমানে একজন স্থায়ী শিক্ষক থাকলেও এখনও স্কুলের ভরসা দ্বিজেন্দ্র বাবু ও তাঁর ৫ যোদ্ধা। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, আগামী দিনে এই লড়াইয়ের হাল ধরবে কে? উত্তর হয়ত আজ অজানা, কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নন দ্বিজেন্দ্র বাবু। ৭৭ বছর বয়সেও তিনি মাঠে আছেন অপরাজিত ব্যাটসম্যানের মতো। কারণ তাঁর কাছে শিক্ষার প্রসার কেবল পেশা নয়, বরং এক অঙ্গীকার।
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ থাকছে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের খবরও ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
First Published :
Jan 05, 2026 4:56 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/দক্ষিণবঙ্গ/
East Bardhaman News: অভাবে বন্ধ হয়েছিল নিজের পড়াশোনা, এখন কয়েক হাজার পড়ুয়ার ভাগ্য গড়ছেন! 'এই' শিক্ষকের গল্প হার মানাবে সিনেমাকেও







