ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, ভোটবাক্সের স্বার্থেই বিরোধীরা অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করেছে: দিলীপ ঘোষ

ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, ভোটবাক্সের স্বার্থেই বিরোধীরা অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করেছে: দিলীপ ঘোষ

নাগরিকত্ব আইনের  বিরোধিতায় প্রতিবাদ  এবং আইনের সমর্থনে বিজেপির অভিনন্দন যাত্রা - সবই চলছে ।

  • Share this:
#নৈহাটি:   " ভোটার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। ভোটার কার্ডকে এতদিন বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করে এসেছে। ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই ইচ্ছেমতো  অনুপ্রবেশকারীদের' ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে বিরোধীরা । কংগ্রেস সিপিএম-এর পাশাপাশি  সেই তালিকায় রয়েছেন  তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও" । বক্তা দিলীপ ঘোষ । নৈহাটিতে  সিএএ র সমর্থনে অভিনন্দন যাত্রার পর  অভিনন্দন সভামঞ্চ থেকে এমনই দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা বিরোধীদের চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি শুধুমাত্র ভোট পেতে লাগামছাড়া ভাবে অনুপ্রবেশকারীদের  ভোটার তালিকায় নাম  তুলিয়েছে । নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা কোনদিনই ভাবেনি ।কিন্তু  নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের পর আর তা হবে না । তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন সংখ্যালঘু অনুপ্রবেশকারীদের একটা বড় অংশের নাম  সেই তালিকা থেকে বাদ যাবে । আর তিনি ক্ষমতাচ্যুত হবেন ৷’ মন্তব্য করেন দিলীপ। । সে কারণেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় পথে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিরোধী নেতারা । রবিবার সন্ধ্যায় নৈহাটি সভা মঞ্চ থেকে  রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন , গোটা দেশের সঙ্গে  পশ্চিমবঙ্গের এই আইন লাগু করা হবে । কারোও হিম্মত নেই এই আইনকে রুখে দেওয়ার। একশ্রেণীর ভোটারকে নিয়ে রীতিমতো এতদিন ছিনিমিনি খেলেছে বিরোধীরা। কিন্তু সেই সমস্ত ভোটারদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্নে সকলেই ছিল নীরব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বিরোধীরা যতই আন্দোলনের ঝাঁঝ তীব্র করুক না কেন পশ্চিমবঙ্গেও আমাদের সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন লাগু করেই ছাড়বে । দীলিপবাবুর কথায়, প্রয়োজনে আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাগরিকত্বের নির্দিষ্ট যে জীবনপঞ্জির ফর্ম পূরণ করতে হবে তা তারা করবেন। তবে এ রাজ্য থেকে আমরা ওদের তাড়িয়েই ছাড়ব" ।
মিটিং মিছিল সভা-সমাবেশ স্লোগান তো চলছেই ৷ নাগরিকত্ব ইস্যুতে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি। বেশকিছু হিংসার ঘটনাও ঘটেছে। CAA র প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে রাজ্যের শাসক দল সহ অন্যান্যরাও। প্রতিবাদ মিছিলে সামিল বিশিষ্টজনেরাও।এনআরসি সিএএ বিরোধিতায় রাজ্যজুড়ে আন্দোলন চলছে। এ রাজ্যে আন্দোলনের মুখ অবশ্যই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যের বেশ কয়েটি জায়গায় আন্দোলনের নামে হিংসা বরদাস্ত নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, গণতান্ত্রিকভাবেই নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করতে হবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন জারি থাকবে তা স্পষ্ট করে দিয়ে  তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছেন, "NRC CAA NPR মানছি না, প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জারি থাকবে। আমরা এই আইন কোন ভাবেই মানব না" । মিটিং-মিছিল সভা-সমাবেশ।নাগরিকত্ব আইনের  বিরোধিতায় প্রতিবাদ  এবং আইনের সমর্থনে বিজেপির অভিনন্দন যাত্রা - সবই চলছে । তবে ভোটার কার্ড যে নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, এটি যে স্রেফ "ভোটবাক্সের রাজনীতি"  করার কার্ড , বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পর কী জবাব দেন বিরোধীরা সেটাই এখন দেখার। VENKATESWAR  LAHIRI 
First published: January 19, 2020, 11:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर