লোকাল ট্রেন বন্ধ, দিন চলবে কী করে ভেবে উৎকন্ঠায় অনেকেই

হাওড়া শাখার লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ। অত্যান্তরে বহু হকার, চাকুরিজীবী।

ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতারাতি কাজ হারিয়েছেন অনেকেই। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এদিন বাসে ভিড় বেড়েছে অনেকটাই। তার ফলে বাসে ভিড়ের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বেড়েছে।

  • Share this:

#বর্ধমান: করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার থেকে লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেল। ফলে বর্ধমান হাওড়া কর্ড ও মেন শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীদের অনেকেই। ট্রেন নেই। তাই শুনশান বর্ধমান রেলস্টেশন সহ বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম। ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতারাতি কাজ হারিয়েছেন অনেকেই। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এদিন বাসে ভিড় বেড়েছে অনেকটাই। তার ফলে বাসে ভিড়ের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বেড়েছে।

গত বছরের স্মৃতি উস্কে ফের বন্ধ হয়ে গেল এ রাজ্যের লোকাল ট্রেন পরিষেবা। বর্ধমান হাওড়া কর্ড ও মেন শাখায় প্রতিদিন বেশ কয়েক লক্ষ পুরুষ মহিলা যাতায়াত করেন। সংক্রমণ এড়াতে লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সমস্যা পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই। ভোরের ট্রেনে শেওড়াফুলি বা কলকাতায় গিয়ে সবজি মাছ এনে বর্ধমানের বাজারে বিক্রি করে রুটি-রুজির সংস্থান করেন অনেকেই। তাঁরা বলছেন, ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। কী ভাবে এখন দিন চলবে তা ভেবে উঠতে পারছেন না তাঁদের অনেকেই।

বর্ধমান,মেমারি, শক্তিগড়, রসুলপুর সহ বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেকেই। মূলত স্টেশনে আসা-যাওয়া করা যাত্রীরা তাদের ক্রেতা। ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের বিক্রি বাটায় টান পড়বে বলে মনে করছেন সেইসব বিক্রেতারা। যাত্রীদের অনেকেই বলছেন, ছোট ব্যবসায়ীদের পুঁজি কম। তাই রেলপথেই তাঁরা ব্যবসার সামগ্রী কিনে নিয়ে আসেন। করোনার আবহে এখন সংসার কি করে চলবে তা ভেবে উঠতে পারছেন না তাঁরা। সব মিলিয়ে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ট্রেন চলাচল বন্ধ করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মেনে নিলেও তাঁরা কি করে জীবিকা নির্বাহ করবেন তা ভাবতে গিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকেই।

ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার কাটোয়া ব্যান্ডেল শাখার যাত্রীরাও। দুর্ভোগে পড়েছেন বর্ধমান কাটোয়া শাখার যাত্রীদের অনেকেই। সকলেই বলছেন, এর ফলে অনেকের রুটি রুজি তো বন্ধ হলোই। সেই সঙ্গে শরীর অসুস্থ হলে অনেকেই রেল পথের ওপর ভরসা রাখেন। গাড়ি ভাড়া করে বর্ধমান শহর বা কলকাতায় গিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য অনেকেরই নেই। খুবই সমস্যার মধ্যে পড়লেন তাঁরা।

Published by:Arka Deb
First published: