ভোটপ্রচারের মাঝেই গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে, বর্ধমানে অস্বস্তি শাসক দলে

ভোটপ্রচারের মাঝেই গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে, বর্ধমানে অস্বস্তি শাসক দলে

বর্ধমানে তৃণমূলের দলীয় কোন্দল চলছেই।

ভোটের মুখে এই ঘটনায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। আবার ভোটে এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

  • Share this:

#বর্ধমান: ফের পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়নায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এসে পড়ল। তৃণমূল কংগ্রেসের রায়না দু নম্বর ব্লকের সভাপতির অপসারণ চাইলেন এলাকার নেতাদের একটা বড় অংশ। তাঁর বিরুদ্ধে অপমানজনক কথা বলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ মানতে নারাজ ব্লক সভাপতি। ভোটের মুখে এই ঘটনায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।  আবার ভোটে এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

রায়না এক ও দু নম্বর ব্লক নিয়ে রায়না বিধানসভা এলাকা গঠিত। গতবার এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেপাল ঘোড়ুই। গত লোকসভা ভোটেও এই আসনে তৃনমূল কংগ্রেসের ব্যাপক লিড ছিল। এবার নেপাল ঘড়ুইকে গলসি আসনে প্রার্থী করেছে দল। লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে তৃনমূল দশ হাজার ভোটে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে রায়না বিধানসভা কেন্দ্রে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারাকে প্রার্থী করা হয়েছে।  দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়না দু নম্বর ব্লকের অনেক নেতাই এখনও সেভাবে নিজেদের দলের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে নামেননি।

ঠিক সেই পরিস্থিতিতে ব্লক সভাপতির অপসারণ চাওয়া যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ন। রবিবার রায়না দু নম্বর ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপ প্রধান সহ জেলা পরিষদের সদস্য,পঞ্চায়েত সমিতির বেশির ভাগ কর্মাধ্যক্ষ এবং ব্লক কমিটির সদস্যরা একযোগে ব্লক সভাপতি অপসারণের দাবিতে একযোগে সরব হন।

পাঁইটা এক নম্বর পঞ্চায়েতের উপ প্রধান রামচন্দ্র পাল বলেন, প্রতি মুহূর্তে তীব্র অপমান করেছেন ব্লক সভাপতি অসীম পাল।

মূলত আজকের এই সভায় ব্লক সভাপতি অসীম পালকে অপসারণের দাবিতে একযোগে সরব হন তাঁরা। রায়না দু নম্বর ব্লক কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সেই দাবি তোলা হয়। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। যদিও এই ঘটনাকে প্রকাশ্যে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না দলীয় নেতারা। দলের রায়না এক নম্বর ব্লকের সভাপতি বামদাস মন্ডল বলেন, "মনে রাখতে হবে তৃনমূলের ক্ষমতায় আমরা ক্ষমতাবান। দলের সিলমোহর চলে গেলে আমরা ততটাই গুরুত্বহীন। শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল মন্ডলরা তা হারে হারে টের পাচ্ছে। মানুষকে নিয়ে ব্যবসা, দর কষাকষির রাজনীতি আর চলবে না, কে পদ ছাড়লো তার কোনও প্রভাব ভোটে পড়বে না। বাসিন্দারা কাকে ভোট দেবেন তা স্থির করে নিয়েছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তৃনমূলের রায়না দু নম্বর ব্লকের সভাপতি অসীম পাল বলেন, কাউকে অপমানজনক কথা বলেছি বলে মনে করতে পারছি না। নির্দিষ্ট করে বললে বোঝা যেত। তবে দলেরই কোনও কোনও অংশ থেকে তাদের প্ররোচিত করা হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

Published by:Arka Deb
First published: