corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘মণি’ নদী কেড়েছে সব, তিন মাসের কোলের ‘মণি’ বাঁচতে শেখাচ্ছে রায়দিঘির মানুষকে

‘মণি’ নদী কেড়েছে সব, তিন মাসের কোলের ‘মণি’ বাঁচতে শেখাচ্ছে রায়দিঘির মানুষকে

মণি কেড়েছে সব কিছু আর তিন মাসের মণি দিয়েছে আনন্দ। বাঁধের পাড়ে কোলে কোলে মণি ঘুরছে। হাসি ছড়াচ্ছে মণির তীরে, ফুলের মতো ছোট্ট মণি।

  • Share this:
ABIR GHOSHAL

মণি ছিল চোখের মণি। মণি এখন চোখের বালি। সেই মণির রোষে ছোট্ট মণি। মায়ের কোলে মণির লড়াই মণির সঙ্গে। রায়দিঘির নারায়ণপুর। হেলতে দুলতে গাড়ি পৌঁছল সেখানে। তারপর চোখের সামনে অপার জলরাশি। তা হলে কি কাছেই সাগর? নাকি সুন্দরবনের বড় কোনও নদী? ভুল ভাঙল মিনিট খানেক বাদেই। ভাল করে নজর রাখলেই দেখা মিলবে, দূরে আধডোবা খড়ের চাল। পায়ে হেঁটে কাদা মেখে একটু এগোলেই নজরে আসবে ডুবে যাওয়া টিউবওয়েল। তারই পাশে মায়ের কোলে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে তিন মাসের ছোট্ট মণি।

ঝড় এসেছিল রায়দিঘিতে। উথাল পাথাল হয়েছিল রায়দিঘির মণি নদী। তিরতির করে বয়ে যাওয়া জল এক আঁজলা আদর ছুঁড়ে দিত গ্রামে। হঠাৎ করেই সেই নদী ফুঁসে ওঠে। ভেঙে যায় মাটির নদী বাঁধ। ব্যাস, সেই জল ঢোকা শুরু। তারপর আর তাকে আটকানো যায়নি। সে নিজের মতো ঢোকে, ভাসিয়ে দেয় সবকিছু, আর আবার চলে যায় নিজের পথে। এরই মধ্যে ভরা কোটাল। আর তাতেই মণির রোষে এবার তিন মাসের ছোট্ট মণি।

এখানের বাসিন্দা সুষমা ও শ্যামলী দেবনাথ। দুই জা রাঁধেন, খাবার বাড়েন সব একসঙ্গে। মাটির বাড়ির দাওয়া থেকে মাঠ পেরোলেই নদী। সেই নদী ভাসিয়ে দিয়েছে মাঠ, মাছের পুকুর আর মণি'র বাড়ি। মণির মা শ্যামলী জানাচ্ছে, "ঝড়ের রাতে ওই টুকু শিশু নিয়ে আশ্র‍য় নিয়েছিলাম সামনের স্কুল ঘরে। ওঁরা আমাদের বিস্কুট, ভাত আর জল দিয়েছিল।" তারপরে বাড়ি দেখতে পরদিন ছুটে এসেছিলেন শ্যামলী।" বাড়ি তো লন্ডভন্ড। কিছুই নেই আর। তবুও তো আবার নতুন করে বাঁশ কেটে, বাড়ি বাঁধার চেষ্টা করেছি।" সেই চেষ্টা অবশ্য সফল হয়নি বলে জানাচ্ছেন সুষমা। জোয়ারের জল ঢুকে পুরো ভাসিয়ে দিয়েছে ঘর, আর মণিকে। মণি এখন মায়ের কোলে, মণি এখন রাস্তায়।

বাঁধের পাড় ধরে ধরে হেঁটে গেলে চোখে পড়বে কাদা মাটি। দূরে ইঁটের ভাঙা রাস্তায় অনেক কালো কালো ছোট ছোট টিলা। সামনে আসার পরে বোঝা যায়। পঞ্চায়েত থেকে পাওয়া ত্রাণের ত্রিপল দিয়ে ছোট একটা ছাউনি। মাটিতে বসে ঘাড় গুঁজে দিলেই ঘরে ঢুকে পড়া যাবে। তবে আবার যদি আকাশ কালো করে আসে। আবার যদি নামে বৃষ্টি। "ভগবান জানেন। আমার মাথার বালিশ ভেসে গিয়েছে। ছেলের স্কুলের ব্যাগ ভেসে গিয়েছে। ধার করে কিনে আনা বাঁশ পড়ে আছে।" রাস্তায় বসে ত্রাণ হিসেবে পাওয়া চিঁড়ে চিবোতে চিবোতে বলছিলেন মল্লিকা ভান্ডারী। তবে সব কিছুই কী আর ভেসে গিয়েছে। সব হারানো মানুষের আনন্দও আছে। মণি কেড়েছে সব কিছু আর তিন মাসের মণি দিয়েছে আনন্দ। বাঁধের পাড়ে কোলে কোলে মণি ঘুরছে। হাসি ছড়াচ্ছে মণির তীরে, ফুলের মতো ছোট্ট মণি।

Published by: Simli Raha
First published: June 7, 2020, 2:53 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर