১০ দিনে মৃত্যু ২৪ জনের! সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দারা

পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

  • Share this:

পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত দশ দিনে এই জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চব্বিশ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত জেলার বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই এই জেলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ ব্যাপক আকার নিয়েছে। প্রতিদিনই শয়ে শয়ে করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলছে। অনেকেরই সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মিলছে না বলে অভিযোগ। রোগীর আত্মীয়রা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে জায়গা মিলছে না। সেখানে অধিকাংশ সময়ই বেড ফাঁকা নেই শুনতে হচ্ছে। ফলে বেসরকারি নার্সিংহোমে রোগী ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। সেখানে ন্যূনতম পরিষেবা না দিয়েই মোটা টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৬৯৯ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা চব্বিশ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ দিন পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলায় ২৪ হাজার ৪৬৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৯৬ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জেলায় অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বর্তমানে এই জেলায় ৬ হাজার ৬৪৯ জন অ্যাক্টিভ রোগী রয়েছেন। এদিন পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তদের হদিশ পেতে পরীক্ষা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত চব্বিশ ঘন্টায় ১৯৫১ জনের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা হয়েছে। এছাড়াও ১০৭১ জনের আর টি পি সি আর যন্ত্রে পরীক্ষা হয়েছে। এই পরীক্ষা আরও বাড়ানোর টার্গেট দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। বাসিন্দাদের পরামর্শ,নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হলে আরও অনেক বেশি আক্রান্তের হদিশ মিলবে। করোনা পজিটিভ পুরুষ-মহিলাদের চিহ্নিত করা গেলে তাদের থেকে অন্যদের শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমবে। জেলায় হাতেগোনা কয়েকটি জায়গায় করোনার পরীক্ষা হচ্ছে। দূরত্বের কারণে অনেকেই সেসব জায়গায় পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন না। করোনার উপসর্গ নিয়ে বাড়িতেই থাকছেন তাঁরা। তার ফলে চিকিৎসার অভাবেও মৃত্যু হচ্ছে অনেকের।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: